নাজমুল হক তপন
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:২৫ পিএম
নাজমুল হক তপন (ইনসেটে)— প্রবা ফটো
শরীরের বিষ নামানোর জন্য একটা সময় ব্যাপক প্রচলন ছিল জলথেরাপির। বিশেষ করে সাপের বিষ নামানোর জন্য পানি ঢালা হতো। সিরিজ নির্ধারণী মিরপুর টেস্টের ঘূর্ণিবিষ নামানোর কাজটি করে দিয়েছে অসময়ের বৃষ্টি। প্রথম দিন শেরেবাংলার উইকেটে বল ঘুরেছে লাটিমের মতো। গোখরো উইকেটে স্পিনারদের সামলাতে ঘাম ছুটে যায় ব্যাটারদের। অথচ বৃষ্টির কারণে একদিন বন্ধ থাকার পর তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হতেই দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। প্রথম দিন ভয়ংকর হয়ে ওঠা দুই টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস। গতকাল মিরপুরের ‘ব্যাটল অব স্পিন’ রাজত্বে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন দুদলের পেসাররাই।
বুধবার টেস্টের প্রথম দিনে দুদলের মিলিয়ে পতন ঘটে ১৫ উইকেটের। এর ১৩ উইকেট শিকার করেন স্পিনাররা। মুশফিকুর রহিম হাত দিয়ে বল আটকে হন ক্রিকেটের বিরল আউট ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’। আর পেসার হিসেবে একমাত্র উইকেটটি পান কিউই ফাস্ট বোলার টিম সাউদি। টেস্টের দ্বিতীয় দিন ভাসিয়ে নিয়েছে বৃষ্টি। এর আগ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মিরপুরের ঘূর্ণিসর্বস্ব উইকেট। কিন্তু শুক্রবার খেলা শুরু হওয়া মাত্রই দেখা গেল ঘূর্ণিবিষ কমে গেছে অনেকটাই।
গতকাল আলোকস্বল্পতার জন্য তৃতীয় দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার আগে পতন হয়েছে ৭ উইকেটের। এর চারটি দখলে নিয়েছেন স্পিনাররা। বাকি তিনটার শিকারি পেসাররা। অঙ্কের হিসাবে তৃতীয় দিনে একটি উইকেট বেশি শিকার করেছেন স্পিনাররা। তবে এটুকু বললে মোটেও সুবিচার করা হবে না দুদলের পেসারদের ওপর। মোট খেলা হয়েছে ৩২.৩ ওভার। এর মধ্যে দুদলের স্পিনাররা বোলিং করেছেন ২৭.৩ ওভার। আর দুদলের পেসাররা বল হাতে আক্রমণ শানিয়েছেন মোটে ৫ ওভার। সোজা কথায় ৮০ শতাংশেরও বেশি সময় বোলিং করেছেন স্পিনাররা। মিরপুরের টার্নিং উইকেট বিবেচনায় রেখে দুদলই মাঠে নেমেছে স্পিনশক্তিতে বলীয়ান হয়ে। স্বাগতিক বাংলাদেশ দলে স্পেশালিস্ট পেসার মোটে একজন। প্রথম দিন মাত্র ১ ওভার বোলিং করেছিলেন শরিফুল। গতকাল করেছেন ৩ ওভার। নিউজিল্যান্ড দলে স্পেশালিস্ট পেসার হিসেবে আছেন টিম সাউদি ও কাইল জেমিসন। গতকাল ২ ওভার বোলিং করেছেন সাউদি। দুদলেই আছে পেসারদের স্বল্পতা। তাই পেসারদের দিয়ে বেশি ওভার বোলিং করানোর বাস্তবতাও নেই।
এমন একটা পরিস্থিতিতে তৃতীয় দিনে সামান্য যে কয়েক ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছেন তাতেই নিজেদের উপযোগিতা প্রমাণ করেছেন দুদলের পেসাররা। স্পিনারদের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব রেখেছেন শরিফুল ও সাউদি।
প্রথম দিন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা স্বাগতিক দুই স্পিনার তাইজুল ও মিরাজকে পেয়ে রীতিমতো টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট করেছেন গ্লেন ফিলিপস। চার-ছক্কার ঝড় তোলেন এই কিউই অলরাউন্ডার। তার ব্যাটে চড়েই প্রথম ইনিংসে ৮ রানের লিড নেয় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৭২ বলে ৮৭ রানের ইনিংস খেলার পথে হাঁকান ৯ চার ও ৪ ছক্কা। তার এক হালি ছক্কাই এসেছে বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে।
সতীর্থ স্পিনারদের ছাপিয়ে ওঠেন পেসার শরিফুল। কিউইদের ইনিংসকে ধরাছোঁয়ার মধ্যেই রাখেন এই টাইগার পেসার। শিকারে পরিণত করেন ভয়ংকর হয়ে দুই ওঠা ব্যাটার জেমিসন ও ফিলিপসকে। আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই বিদায়ঘণ্টা বাজান জেমিসনকে। ২০ রানে আউট হন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয়ে ওঠা ফিলিপসকেও সাজঘরমুখো করেন শরিফুল। স্বস্তি ফেরে স্বাগতিক শিবিরে।
স্বাগতিক ইনিংসে দুই প্রান্তে স্পিনার দিয়েই আক্রমণ শানানো শুরু করে সফরকারীরাও। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে (২) আউট করেন কিউই স্পিনার অ্যাজাজ প্যাটেল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে একটা ভালো জুটির সম্ভাবনা দাঁড় করান জাকির হাসান ও প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্ত। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা অধিনায়ক শান্ত। আর এই গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটিই নিয়েছেন সাউদি। ব্যক্তিগত ১৫ রানে সাজঘরমুখো হন স্বাগতিক অধিনায়ক। দিনের শেষ বিকালে টাইগার শিবিরের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছেন পেসার সাউদি।
উইকেট ঘূর্ণিবিষমুক্ত হওয়াটা যে বাংলাদেশের জন্য অশনিসঙ্কেত, সেটা আর নতুন করে না বললেও চলে।