হেলাল নিরব
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:৩১ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৩:৩৭ এএম
মিরপুরে বেরসিক বৃষ্টি এতটাই বাগড়া দেয় যে, গতকাল পর্যন্ত আলোচনায় থাকা স্পিনিং উইকেট ছাপিয়ে ঢাকা টেস্টের আলোচনায় এখন বৃষ্টি— প্রবা ফটো
ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেহেদি হাসান মিরাজের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয় দিনেই কি পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ শেষ করে দেবেন? উত্তরে টাইগার অলরাউন্ডার জানিয়েছিলেন, ‘দুই দিনে জেতার চেষ্টা করছি না। টেস্টে অনেক কিছুই হতে পারে, অনেক দৃশ্যপট এখনও বাকি। দ্রুত খেলা শেষ করার চিন্তা করছি না। আমরা অতি আত্মবিশ্বাসী না। টেস্টে একসময় ওরা ওপরে, একসময় আমরা ওপরে থাকব, এমন পরিস্থিতি আসে।’
মিরপুরের ঘূর্ণিসর্বস্ব উইকেটে প্রথম দিন পতন হয়েছে ১৫ উইকেটের। বাংলাদেশের গড়া ১৭২ রানের জবাবে মাত্র ৫৫ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। উইকেটের সুবিধা নিয়ে দুদলের স্পিনাররাই হয়ে ওঠেন ব্যাটারদের যম। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দিনেই টেস্টের নিষ্পত্তি ঘটবে কি না, শুরু হয়ে যায় এমন আলোচনাও।
তবে সেই শঙ্কা দূর করে দিয়েছে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টির কারণে এক ওভারও বল মাঠে গড়ায়নি। আজ তৃতীয় দিনে কখন খেলা শুরু হবে কিংবা টেস্ট কতদিনে শেষ হবে, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বৃষ্টি যে ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দিয়েছে, এটাই এখন চরম সত্যি।
ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনশেষে মিরপুরের টার্নিং উইকেট নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে মিরাজ বলেছিলেন, ‘ঘরের মাঠের সুবিধা সবাই নেয়।’ কিন্তু মিরাজদের বাংলাদেশ কি একটু বেশিই সুবিধা নিচ্ছে? সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ দিয়েছিলেন কৌশলী উত্তর। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বল ঠেলে দেন টিম ম্যানেজমেন্টের কোর্টে। মিরপুরের এই পিচে ব্যাটিং করা কষ্টের, এটা অবশ্য স্বীকার করে নেন বাংলাদেশের এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
মিরপুরে বেরসিক বৃষ্টি এতটাই বাগড়া দেয় যে, গতকাল পর্যন্ত আলোচনায় থাকা স্পিনিং উইকেট ছাপিয়ে ঢাকা টেস্টের আলোচনায় এখন বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাব ভালোভাবেই পড়েছে এই সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের ওপর। আজ টেস্টের তৃতীয় দিনেও আছে বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা। প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে আজ চতুর্থ দিনেও।
‘ব্যাটল অব স্পিনে’ এতটা স্পিন ধরা নিয়েও নিজের যুক্তি দিয়েছিলেন মিরাজ, ‘আমরা যদি প্রতিপক্ষকে অলআউটই না করতে পারি তাহলে তো জিততে পারব না। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অনেকটা এরকম উইকেটেই আমরা জিতেছি। আমাদের স্পিন অ্যাটাক ভালো, সুযোগ তো অবশ্যই থাকে। আমরা সিরিজে এগিয়ে আছি, অবশ্যই আমরা মাঠের এই সুবিধা নিতে চাইব।’
মিরপুরে স্পিন উইকেট বানিয়ে টেস্টে সাফল্য আগেও এসেছে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলকে এখানেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে সেসব জয় দীর্ঘমেয়াদে কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি। ঘরের মাঠের এমন স্পিনসহায়ক উইকেটে খেলে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের বধ্যভূমিতে স্পিনারদের আনন্দ তাই মাটি হয়েছে পিচ ইস্যুতে। মিরপুরের উইকেটকে ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার কথাও উঠেছে।
যদিও প্রতিপক্ষের কেউ উইকেটকে দুষছেন না। পরশু মিচেল স্যান্টনারও বলেছেন একই সুরে কথা, দিনের খেলা শেষে উইকেটের ব্যাপারে কথা বলেছেন কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। স্পিনসহায়ক উইকেট নিয়ে কোনো সমস্যা নেই তার। এমন উইকেট সমর্থন করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্যান্টনার বলেন, ‘এটা স্পিনিং উইকেট। দুনিয়ার এই প্রান্তের উইকেটে অনেক স্পিন থাকে। বিষয়টি দারুণ। আমাদের জন্য এখানে এসে নিজেদের চ্যালেঞ্জ জানানোর ব্যাপারটি দারুণ। কারণ নিজেদের দেশে সবুজ উইকেট তৈরি করি।’
স্যান্টনারের কথা কিংবা দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টির বাগড়া— স্পিন এবং মিরপুরের উইকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা, বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা, এগুলো এই টেস্টের অনুষঙ্গ। কিন্তু মিরপুরের এমন ভয়ংকর টার্নিং উইকেট দেশের ক্রিকেটের জন্য ভবিষ্যতে কতটা ফলদায়ক হবে, সেটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপাতত দুদিনে টেস্ট শেষ হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তার সলিলসমাধি হয়েছে বৃষ্টিতে।