প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:১১ পিএম
সিরিজ সমতায় ফিরেছে ইংল্যান্ড। বলা বাহুল্য, ইংলিশদের সমতায় ফিরিয়েছেন স্যাম কারান। গত বুধবার তিনিই ইংলিশদের উৎসবের রাত উপহার দিয়েছেন। সমতায় ফেরার মিশনে ৩ উইকেট তুলে হয়েছেন ম্যাচসেরা। অধিনায়ক জস বাটলার ও কোচ ম্যাথু মটের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিয়েছেন ২৫ বর্ষী এই অলরাউন্ডার।
এই কারানের শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। বিশ্রাম প্রয়োজন, এমন টিপ্পনীও কেটেছিলেন নিন্দুকেরা। এর পেছনের কারণ কারান নিজেই। বিশ্বকাপে মোট ২ উইকেট তুলেন। ১৭.২ ওভার বল করে ওভারপ্রতি খরচ করেন ৮.০৭। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়েও ভারতে গিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ব্রিটিশ ক্রিকেট সাম্রাজ্য। ৯ ম্যাচে মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছিল তারা। সবশেষ ৬ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বর অবস্থানে থেকে নক আউটের আগেই আসর থেকে বিদায় ঘটে তাদের।
বাজে বিশ্বকাপ কাটিয়ে নতুন ভোরের আশায় ক্যারিবিয়ান দ্বীপে নৌকা ভেড়ায় জস বাটলার ব্রিগেড। সেখানেও ধাক্কা লাগে। প্রথম ম্যাচেই হয় ভরাডুবি। ধ্বংসের মূল্যে অন্যতম ছিলেন কারান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯.৫ ওভারে ৯৮ রান খরচ করেন এই অলরাউন্ডার, যা ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে খরুচে স্পেল।
এমন পারফরম্যান্সের পরও কারানের ওপর ভরসা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। দ্বিতীয় ম্যাচেও তাকে সুযোগ দেয়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া থেকে শক্তি সঞ্চারে এ ‘সুযোগ’ বড় নিয়ামক হয় তার জন্য। হেলায় না ফেলে ‘সদ্ব্যবহার’ করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৩ উইকেট তুলে সেটি প্রমাণও করেন। এদিন জয়ের ট্র্যাকে ফেরে ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ড। এমন অর্জনে স্বস্তিতে ইংলিশ শিবির। যারপরনাই আনন্দিত সিরিজ ফেরানোর নায়ক কারান নিজেও, ‘আগের দিনটা কঠিন ছিল। তবে সেখান থেকে সামনে এগোতে হবে, ঘুরে দাঁড়াতে হবে। প্রথম ম্যাচে আমরা অনেক কিছুই সঠিক করেছিলাম। কোচ আর অধিনায়কের বার্তাও এমন ছিল। আমাদের ফিরে আসতে হবে, কাজগুলো সঠিকভাবে করতে হবে, সেটা আমরা করেছি।’
কারান প্রথম ম্যাচে বল হাতে খরুচে ছিলেন। তবে ব্যাট হাতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। রান আউটে থেমে যাওয়ার আগে ৩৮ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেছেন। ২৬ বলের মারকাটারি ইনিংসে ব্রিটিশ তারকা ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন। তার ঝোড়ো ইনিংসে ইংল্যান্ড ম্যাচ জেতেনি সত্য, অলরাউন্ডশৈলী ঠিকই ফুটে উঠেছে।