প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:০৯ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:৫২ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে সেই ‘কোড ওয়ার্ডটি’ ফাঁস করে দিয়েছেন টিম সাউদি— ছবি: আ. ই. আলীম
আগের দিন ‘ব্লুপ্রিন্ট’ খুঁজে পাওয়ার কথা বলে ধোঁয়াশায় রেখেছিলেন ইশ সোধি। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সেই ‘কোড ওয়ার্ডটি’ ফাঁস করে দিয়েছেন টিম সাউদি। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক অকপটে বলছেন, ‘মিরপুরে লড়াই হবে স্পিনে।’ পাঁচ দিন সেই চ্যালেঞ্জ নিতেও প্রস্তুত সফরকারীরা। সিরিজ বাঁচাতে মরিয়া ব্ল্যাক ক্যাপসদের চোখ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মূল্যবান পয়েন্টে নিবদ্ধ। সেজন্য ‘ব্যাটল অব স্পিন’ চ্যালেঞ্জে জিততে হবে শান্তদের।
সিলেট টেস্টের শুরুর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে মিরপুরের উইকেট। সিলেটে টাইগারদের ঘূর্ণিজাদুতে ধরাশায়ী হয়েছে কিউইরা। মিরপুরের উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিনবান্ধব। বস্তবতা অনুভব করেই ঢাকায় ফিরে সফরকারীদের চিন্তাভাবনার সবকিছুই যেন ঘূর্ণিকেন্দ্রিক। গতকাল সফরকারীদের দ্বিতীয় দিনের অনুশীলনেও ছিল তারই প্রতিচ্ছবি।
দলটির চার স্পেশালিস্ট স্পিনার ইশ সোধি, আইজাজ প্যাটেল, গ্লেন ফিলিপস, মিচেল স্যান্টনার তো বটেই হাত ঘুরিয়েছেন কেন উইলিয়ামসন, হেনরি নিকোলসরাও। সিরিজ বাঁচানো টেস্টের দল কি স্পিননির্ভর করতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড, স্বভাবতই কথা উঠেছে এ নিয়ে? অবশ্য জবাবে বেশ সাবধানী ছিলেন কিউই অধিনায়ক অধিনায়ক সাউদি।
এর আগে শেরেবাংলার ঘূর্ণিট্র্যাকে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দল টেস্টে হেরেছে। মিরপুরের স্পিনফাঁদ উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর জন্য সাক্ষাৎ মারণফাঁদ। বিষয়টি খুব ভালো করেই জানা আছে সাউদির। তবে সাদা পোশাকের লড়াইয়ে পিছপা হতে নারাজ কিউই কান্ডারি।
তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া সব সময়ই হতাশার। সুযোগ আছে দ্বিতীয় টেস্টে ভালো ক্রিকেট খেলার। ভিন্ন কন্ডিশন। এখানে মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলার সুযোগ খুঁজতে হবে। উপমহাদেশের এই কন্ডিশনে এই ধরনের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ভিন্ন মজা আছে। আগামী পাঁচ দিন সেই চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা মুখিয়ে আছি।’
সিলেটে প্রথম টেস্টে ১৫০ রানে হেরেছে কিউইরা। আজ ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে থেকেই শুরু করবে তারা। মিরপুরের স্পিন চ্যালেঞ্জে মূল অস্ত্র হিসেবে লেগস্পিনার সোধিকেই এগিয়ে রেখেছেন কিউই অধিনায়ক। সঙ্গে আস্থা রাখছেন সতীর্থ পেসার কাইল জেমিসনেরও।
সাউদির কথায়, ‘কাইল (জেমিসন) সিলেটে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে। এই কন্ডিশনে তাকে বেশ ভয়ংকর মনে হয়েছে। তবে এখানে সব সময়ই যুদ্ধটা স্পিনের। দ্বিতীয় টেস্টেও তা-ই হবে হয়তো। আমরা বোলিং গ্রুপ হিসেবে প্রথম টেস্টের চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই। আমরা জানি এখানে স্পিন বড় ভূমিকা রাখে, আমার মনে হয় আমাদের আরও দীর্ঘ সময় ধরে ভালো খেলতে হবে।’
সিলেট টেস্টে ৪০ উইকেটের ৩২টিই নিয়েছেন দুই দলের স্পিনাররা। ঢাকা টেস্টে উইকেটে কী হতে পারে, সেটা সহজেই অনুমেয়! বাংলাদেশের স্পিনজুজু সামলে লাল বলের লড়াই সফরকারীরা কতটা জমিয়ে তুলতে পারে, এখন তারই অপেক্ষা।