প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৭ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:৫৯ পিএম
বাপু, তোমার আর ফুটবল খেলা হচ্ছে না। এমন কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল চিকিৎসকের। লিগামেন্টে চোট, যা অনেক ক্রীড়াবিদের ক্যারিয়ারে যতি টেনে দেয়। সেই সমস্যায় পড়েন মাতসুসিয়া সুমাইয়া। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফেরেন মাঠে। জয় হয় জাপানে বেড়ে ওঠা এই বাংলাদেশ নন্দিনীর ইচ্ছাশক্তির।
দাঁতে দাঁত চেপে পেরিয়েছেন সব বাধা। স্বপ্ন ছিল লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়াবেন। সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে গত জুলাইয়ে। অভিষিক্ত হন নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে। আর সবে শেষ হওয়া সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে উঠেছেন নতুন উচ্চতায়। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম গোলের স্বাদ পেয়েছেন সুমাইয়া।
বাংলাদেশ নারী ফুটবলের গল্পটা সুমাইয়ার নয়। বয়সভিত্তিক দলে থাকার সুযোগ ছিল না। কারণ সুমাইয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা জাপানে। বাবা বাংলাদেশি, মা জাপানি। জাপান থেকেই আসেন বাংলাদেশে। দূরত্বের সঙ্গে হাজারো পাহাড়সম বাধা পেরোতে হয় তাকে। এই যুদ্ধে পাশে পেয়েছেন মা তমোমি মাতসুশিমা ও বাবা মাসুদুর রহমানকে। মেয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন বাবা-মা। বাফুফের ডাকে সায় দিয়েছেন সানন্দে। সন্তানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন তারা। এর প্রতিদানও দিয়েছেন সুমাইয়া।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম নারী বিদেশি ফুটবলার সুমাইয়া। এখন সাবিনা-তহুরাদের সঙ্গে লড়ছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তার বাংলাদেশে খেলতে আসার ঘটনাটিও কম চমকপ্রদ নয়! বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বৈত পাসপোর্ট তার। ফুটবল নিয়ে নিজের কারিকুরির কিছু ছবি দিয়েছিলেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। সেটা নজরে আসে বাফুফের। ২০২১ সালে তার ডাক পড়ে। সেই শুরু। বাংলাদেশের ৯ নম্বর জার্সিটি এখন তার। তার দিকে হাত বাড়ায় বসুন্ধরা কিংস। বাফুফের উদ্যোগ নেওয়ার আগেই সুমাইয়া অনুশীলনের সুযোগ পান কিংসে। এরপর আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।
এখন লাল-সবুজ জার্সিতে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মধ্যেই খুঁজছেন জীবনের অর্থÑ ‘ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশের হয়ে খেলব। সেটা খেলতে পেরেছি আগেই। প্রথম গোলও করেছি। আমার এত দিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’
২০০৯ সালের দিকে বাংলাদেশে আসেন সুমাইয়া। সবকিছুই ছিল অচেনা। ক্যাম্প থেকে বাসা, সেই পথ ধরেই ক্লাবের অনুশীলনে। আজ সুমাইয়া পেয়েছেন শক্ত জমিন। দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার মিছিলে এখন প্রথম সারির যোদ্ধা জাপানে বেড়ে ওঠা সুমাইয়া।