হেলাল নিরব
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৪ এএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:১৪ পিএম
২৩ বছরে বাংলাদেশ দেড়শ টেস্টও খেলতে পারিনি— সিলেট টেস্টের ছবি তুলেছেন আ. ই. আলীম
২৩ বছর। ১৩৯ টেস্ট। ১৯ জয়। ১৮ ড্র। হার ১০২। অঙ্কের হিসাবে এই হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটের বাংলাদেশ। বছরে গড়ে একটি জয়, বিপরীতে হার সাড়ে পাঁচ গুণ হার। মোট কথা টেস্ট ক্রিকেটের বনেদি ক্লাবে মান বাঁচানোর সংগ্রামই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য নিয়তি নির্ধারিত। এর মধ্যেও পাঁচ দিনের ক্রিকেটে সমুদ্র সেচে কিছু মুক্তা অন্তত সংগ্রহ করতে পেরেছে টাইগাররা।
বড় দলগুলোর উন্নাসিকতায় বছরে গড়ে ৫ টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। অনেকেই হয়তো বলবেন, ‘১৩৯ টেস্ট খেলা কম কীসে!’ ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর বাংলাদেশ কয়টি টেস্ট খেলেছে, সেটির চেয়ে বরং কতটিতে ভালো খেলেছে কিংবা খারাপ খেলেছেÑ এগুলোই আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও স্মৃতি থেকেই সাফল্যের গল্পগুলো বলে দেওয়া যায়, ‘সেবার আমরা তাদের হারিয়েছিলাম, ওইবার এনেছিলাম শতাব্দীর সেরা জয়...।’ একেকটি গল্পের সঙ্গে মিশে আছে অসংখ্য প্রমাণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সাফল্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, টেস্টে সর্বোচ্চ ৮ বার হারিয়েছে টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ বার, নিউজিল্যান্ডকে ২ বার এবং আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে একবার করে।
টেস্ট মর্যাদা ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশের ধারাবাহিক পরীক্ষার শেষটা কবে, এর কোনো উত্তর আসলে হয় না। টেস্ট খেলুড়ে বাকি দলগুলো খারাপ খেললে বোধ হয় এতটা শুনতে হয়নি, ‘টেস্ট স্ট্যাটাস কেড়ে নাও’Ñ এমন শাসানি। আর তাই বড় দলগুলোর সঙ্গে টাইগারদের টেস্ট ম্যাচ মানেই ভিন্ন এক আতঙ্কÑ এই বুঝি মান ডুবল! বড় অর্জনের দিনে দুঃস্বপ্নগুলো পেছনে রেখে লাল বলের ক্রিকেটে আমাদের স্বপ্নের পথচলার কিছু জয়ের স্মৃতিই বরং আমরা স্মরণ করি। এই স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে, ‘আমরা তো অল্পতে এতটা করেছি।’ বাকিরা কেউ কেউ যেখানে হাজার টেস্ট খেলে ফেলেছে, পাঁচশ ছাড়িয়ে হাজারের পথে এগোচ্ছে— তখনও ২৩ বছরে আমরা দেড়শ টেস্টও খেলতে পারিনি।
বাকির খাতার এবার শুরুটায় আসুক আক্ষেপ টেনে। টেস্ট খেলুড়ে দেশের মাঝে এখন অবধি বাংলাদেশ বড় তিনটি দলকে হারাতে পারেনি— ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্ষেপ জমে থাকা গল্পে মনে রাখার মতো কিছু বলতে শুরুতেই আসবে ইংলিশ বধ। ২০১৬ সালে মিরপুরে সেই টেস্টে মুশফিকুর রহিমের দল তুলে নেয় ১০৮ রানের জয়। আগের টেস্ট নাকের ডগা থেকে হার দেখলেও চট্টগ্রামের তিক্ত স্মৃতি ঢাকায় ফেরায়নি টাইগাররা। এরপর এসেছে বেশকিছু স্মরণীয় জয়। সেই তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্ট জয়। ২০১৭ সালে মাইলফলক ছোঁয়া জয়টি ছিল ৪ উইকেটের ব্যবধানে। ক্রিকেটের মহাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে নাকানিচুবানি খাওয়ানোর দৃশ্য চাইলেই ভোলা সম্ভব নয়! ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানে জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ।
স্মরণীয় গল্পগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া জয়। যার একটি গত বছর শুরুর দিকে আর অন্যটি টাটকা। তখনকার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ৮ উইকেটে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। সেটাও বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই নির্ভরতা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই! সিলেটে কিউইবধ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ বৈকি? অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ দল নিয়ে খেলেছে টাইগাররা। ১৯তম টেস্ট জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেন আগামী দিনের নতুন গান।
টেস্ট ক্রিকেটের এই বন্ধুর পথে কিছু জয়ের গল্পে আরেকটি জয়ের কথা না বললেই নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া ৫৪৬ রানের জয়। ১৪৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে রানের দিক থেকে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। ১৯৩৪ সালের পর রানের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত এটিই টেস্টের সবচেয়ে বড় জয়। বড় ফরম্যাটের পথচলায়... অল্পস্বল্প সুখের গল্পগুলোই হয়ে ওঠে বড় প্রেরণা।