প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ২১:১৮ পিএম
‘সেরা’ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন আগেই। পাঁচ দিনের টেস্ট, কেবল খেলা হয়েছে এক দিন। বলা চলে নিউজিল্যান্ডের প্রথম দিনের সেরা খেলোয়াড় গ্লেন ফিলিপসই। বাংলাদেশের ৯ উইকেটের ৪টিই যে তার ঝুড়িতে।
মঙ্গলবার সকালটা কী দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রত্যাশামতো টস জয়, আগে ব্যাটিংÑ এককথায় অনুকূল পরিবেশ। ওপেনার মাহমুদুল হাসানও ভালো শুরু করেছিলেন বৈ। তবে টেস্টকে টি-টোয়েন্টি বানিয়ে ফেলা নাজমুল হোসেন ও নুরুল হাসান রান ঘোড়া ছোটাতে গিয়ে নিজেরাও বিপদে পড়েছেন, দলকেও বিপদে ফেলেছেন। আগ্রাসী হয়ে ওঠা স্বাগতিকদের সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন ফিলিপস। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে বড় কিছু পেতে যাচ্ছেন সেটিরও আভাস দিয়ে রাখলেন প্রথম দিনে।
ফিলিপস সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন বছর চারের আগে। পার্টটাইম স্পিনার, অভিষেক টেস্টে শুধু ব্যাটিংটাই করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় টেস্টে বল হাতে টিম সাউদিকে দিচ্ছেন আস্থার প্রতিদান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করবেন, সিরিজ শুরুর আগে অবশ্য জানিয়ে রেখেছিলেন। সিলেটের বাইশ গজে সবুজ ঘাস এবং বাঁ-হাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে সাফল্য পাবেন তেমনই বিশ্বাস ছিল ফিলিপসের। বলেছিলেন, ‘দলের একমাত্র অফস্পিনার আমি। অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকব। বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ব্যাটাররাও ভুগবে।’
সিলেটে নিজের প্রতিটি উইকেটের পর গ্লেন ফিলিপসের উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজের প্রথম টেস্ট উইকেটটা সম্ভবত কখনোই ভুলবেন না। তবে লোপ্পা ফুলটসে শান্তর আউটের ধরন মোটেও মনে ধরেনি তার। দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ‘বহুদিন ধরে প্রথম টেস্ট উইকেট পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। ভাবিনি এভাবে উইকেটটা পাব। স্পিনাররা অনেক সময় খুব ভালো বল করার পর একটা লোপ্পা ফুলটস দেয়। এরপর ব্যাটারদের চোখ বড় হয়ে যায়, ওটা মারতে গিয়েই আউট হয়। আমি তেমনটাই চেয়েছিলাম। সফলও হয়েছি।’ তবে টেস্টে নিজের প্রথম উইকেট নিয়ে একটা অতৃপ্তি বোধহয় থেকেই যাবে তার। নিজেই তো বললেন, ‘পারলে দ্বিতীয় উইকেটটার সঙ্গে এটাকে বদলে ফেলি।’
অকেশনাল ফিলিপসকে বল হাতে দেখে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বেশ আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছেন কিউই স্পিনারও। সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই জানালেন, ‘ওরা শুরু থেকেই চড়াও ছিল। আইজাজকে (প্যাটেল) বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল। এটা সুযোগ করে দিয়েছে উইকেট নেওয়ার জন্য। উপমহাদেশের উইকেটে চড়াও হলে বোলারদের লাইন-লেন্থ ঠিক থাকে না। বাংলাদেশ সেটা ভালোই করেছিল, তাতে অবশ্য কিছু উইকেটও পেয়েছি।’
এ সময় ফিলিপস দলনেতা টিম সাউদির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ম্যাচের পরতে পরতে দারুণ সব সিদ্ধান্ত এবং বোলার পরিবর্তনের বিষয়টি তার মনে ধরেছে, ‘সাউদির সিদ্ধান্ত এবং সে যেভাবে বোলার বদলেছে, এটা অসাধারণ।’