প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ২১:০৯ পিএম
ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ভিলিয়ার্স
ক্রিকেটের ছোট ফরম্যাটের ডামাডোলে জৌলুস হারিয়ে বসেছে ৫০ ওভারের ক্রিকেট। বোদ্ধাদের শঙ্কা, একসময় হারিয়ে যাবে এক দিনের খেলাটি। সেই শঙ্কা কাটাতেই কারও পরামর্শ ওভার কমিয়ে আনা হোক, কেউ চান বাদই হয়ে যাক খেলাটি। শচীন টেন্ডুলকার কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ওভার কমিয়ে নয় খেলাটিকে বরং টেস্টের মতো ইনিংসে রূপ দিয়ে চালানো যেতে পারে। দর্শকরা যেন বিরক্ত না হন সেদিকে খেয়াল রেখে নতুন তত্ত্ব এনেছেন ডি ভিলিয়ার্স।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটারের চাওয়া ওয়ানডে ক্রিকেট এখন থেকে ৪০ ওভারে হোক। তবে ভিন্ন উপায়ে, টি-টোয়েন্টির যুগে টি-টোয়েন্টির মতো হোক। সেই লক্ষ্যে নিজের প্ল্যানও দিয়েছেন। কীভাবে খেলা হবে সেটিও জানিয়েছেন ৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত ক্রিকেটার। কিন্তু হুট করেই কেন প্ল্যান দিলেন, সেই বিষয়টিও খোলাসা করেছেন ভিলিয়ার্স। জানিয়েছেন, নতুন ধরনে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ব্যাপারটি মাথায় আসে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে। আসরে অনেকগুলো ম্যাচকে ধীর লেগেছিল ভিলিয়ার্সের। সে কারণেই নতুন তত্ত্ব।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটার বলেন, ‘আমি বিশ্বকাপে অনুভব করেছি খেলাটা ধীরগতির লেগেছে।’ ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ভিলিয়ার্স, ‘৫০ ওভারের খেলাটাকে ৪০ ওভারের খেলায় রূপান্তর করা যেতে পারে। শুধু খেলাটা একটু ছোট করা আরকি। হয়তো দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হতে পারে, যেখানে প্রথম টি-টোয়েন্টির পর বিরতি থাকবে। প্রথম ম্যাচ শেষে রানগুলো যোগ হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে।’
বিশ্ব ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা এমসিসির দায়িত্ব নিয়ে সভাপতি মার্ক নিকোলাস ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার বার্তা দিয়েছেন। তার চাওয়া শুধু বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকুক ওয়ানডে ক্রিকেট। এরপর অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাও তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগেও অনেকের শঙ্কা ছিল পাঁচ দিনের ক্রিকেট দিনে দিনে হারিয়ে যাবে। মানুষের ব্যস্ততা কমিয়ে দেবে লাল বলের ক্রিকেটকে। মাঝে ওয়ানডে ক্রিকেট জনপ্রিয় হলো, এরপর আসল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। তবে এখনও টেস্ট ক্রিকেট থেকে মন উঠে যায়নি মানুষের। ওয়ানডে নিয়েও এখন একই শঙ্কা।
তবে উপায় বাতলে দিয়েছেন ভিলিয়ার্স, ‘ম্যাচটি দুটি ভাগ হলে দ্বিতীয় ম্যাচে দলগুলো সুযোগ পাবে দলে বদল আনার। তো আপনি ১৫ জনের স্কোয়াড বাছাই করবেন। সেখান থেকে দ্বিতীয় ম্যাচে ধরুন বাড়তি স্পিনার নামালেন। প্রথম ম্যাচ শেষে ৩০ রান পিছিয়ে থাকলে হয়তো অতিরিক্ত ব্যাটার নামিয়ে আগ্রাসী হলেন। মনে হয়, এটা চমৎকার দৃশ্য হতে পারে। এমনকি দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য আরেকটা টসও হতে পারে। অথবা এভাবে হতে পারে যে— যারা প্রথমে ব্যাট করেছে, তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পরে ব্যাট করতেই হবে। আমার মনে হয়, এটার মধ্যে ভালো রোমাঞ্চ আছে।’
সবশেষ জানিয়েছেন নিজের মত, ‘আমি মনে করি আইসিসির কিছু না কিছু বদল আনা দরকার ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। ফরম্যাটটা বড় চাপের মধ্যে আছে। ২০ ওভারের খেলা বিনোদনদায়ক। সবাই টি-টোয়েন্টি ভালোবাসে। ৫০ ওভারের বদলে দুইটা টি-টোয়েন্টির জায়গা আছে তাই। ৫০ ওভারের ফরম্যাট থাকবে, ওয়ানডে বিশ্বকাপও থাকবে, কিন্তু এভাবে কিছু বিনোদন আনা গেল। সৃজনশীল হোন, ক্রিকেট বিশ্বে এখন সৃজনশীল হওয়ার সময়।’