বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভরাডুবি নিয়ে আকরাম খান
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:১৮ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:১৯ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে ক্রিকেট দুনিয়ার উৎসবের। অবশ্য তার অনেক আগেই ব্যর্থতার গল্প লিখে দেশে পা রেখেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে টাইগারদের উপস্থিতি মানেই ভরাডুবি। সেটা হোক টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে সংস্করণে। এবার ভারতের মাটিতে শেষ হওয়া বিশ্বকাপেও লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের চিত্রনাট্য পাল্টায়নি।
লিগ পর্ব শেষ করেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচে জয় মাত্র দুটি। বিগত চার আসরে তিনটি করে জয় পেলেও এবারের বিশ্বকাপে এসেছে মাত্র দুটি। জয়ের বিচারে দলীয় পারফরম্যান্স নিচের দিকেই। তাই সাকিব আল হাসান বলে দিয়েছেন, এবার নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ।
অথচ বিশ্বকাপে বড় স্বপ্নই দেখিয়েছিল টাইগাররা। বিশ্বমঞ্চের শেষ চারে খেলার স্বপ্নমালাই গেঁথে ছিলেন বিনি সুতোয়। কিন্তু বাস্তবে দলের পারফরম্যান্স হয়েছে যাচ্ছেতাই। তার ওপর ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার স্বপ্নটাই প্রায় ফিকে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত শেষ পর্যন্ত আইসিসির এই ফ্লাগশিপ টুর্নামেন্টের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে নিজেদের যোগ্যতায় নয়Ñ শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ হেরে যাওয়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নাম লেখাতে পেরেছে টাইগাররা। এই যা সান্ত্বনা।
বৈশ্বিক আসরে খারাপ পারফরম্যান্সের হতাশা ঝেড়ে ফেলার দারুণ সুযোগ এখন লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের সামনে। দুই ম্যাচের টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। সিলেটের এই ম্যাচ শেষে লাল বলের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ হবে মিরপুরে শেরেবাংলায়। বিশ্বকাপের মতোই এবারও আশার ফানুস উড়িয়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিকেটাররা। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নূরুল হাসান সোহান তো বলেই দিয়েছেন, দারুণ একটি সিরিজ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তাদের চোখ কেবল জয়ে। এই সিরিজ শেষে ডিসেম্বরে ফিরতি সফরে নিউজিল্যান্ড যাবে টাইগাররা।
টেস্ট সিরিজে আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলেও কিউইদের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ভালো কিছু দেখার সুযোগ তো খুব বেশি দূরে নয়। কিন্তু দলের তারকা ক্রিকেটাররা যেভাবে চোট নিয়ে দর্শক হয়ে বসে আছেন, তাতে করে এই দলের কাছ থেকে দুর্দান্ত কিছু প্রত্যাশা করা দুরূহ। সেটা হোম ও অ্যাওয়ে দুটো সিরিজেই।
কিউইদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বিশ্বমঞ্চে দলের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে হজম করার অযোগ্য কিছু সত্য তুলে ধরেছেন বিসিবি পরিচালক আকরাম খান। গতকাল শনিবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সামনে আকরাম বলেন, ‘কোনো দিন না (বিশ্বকাপ ভালো হওয়া)। কারণ মনে হয় না বাংলাদেশ এত বাজে খেলেছে এর আগে। ১৯৯৯ আসরে ছয়টা ম্যাচের দুটিতে জিতেছি। প্রত্যাশা বেশি ছিল। আমরা পরিকল্পনাও করেছিলাম অনেক ভালোভাবে। চার বছর আগে থেকেই শুরু করেছিলাম, যেহেতু ভারতে খেলা হবে। আবহাওয়া আমাদের মতো হবে।’
ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাকেই দায়ী করলেন বিসিবির এ কর্মকর্তা, ‘ওটা নিয়ে অনেক আশা ছিল আমাদের। একটা দেশে যদি খেলার আগে এত কথাবার্তা হয় অন্য বিষয় নিয়ে, তো ওই দল কোনো দিন ভালো করতে পারবে না। এটা আমি এশিয়া কাপেও বলেছিলাম, বিশ্বকাপের আগে এটা একটা ভালো টুর্নামেন্ট যারা অংশ নেবে তাদের জন্য। কিন্তু ওখানে আমরা এক্সপেরিমেন্ট করে পুরো দলকে দাঁড় করাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত একটা দলই আমরা দাঁড় করাতে পারিনি। এত এক্সপেরিমেন্ট করলে আমার মনে হয় না কোনো দেশ ভালো করবে।’
কথা কম বলে ক্রিকেটারদের উচিত খেলায় মনোযোগ দেওয়া। কথায় না জিতে মাঠের পারফরম্যান্সে জিততে হবে দলকে। আকরাম এমনটাই মনে করেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমাদের অনেকেই কথায় জিততে চায়। এজন্য দেশের পারফরম্যান্স ওরকম ভালো হয় না। খেলোয়াড়দের উচিত মাঠে গিয়ে পারফর্ম করা। সে জিনিসটা আমরা করতে পারিনি। মাঠের বাইরে অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। এটা সবার বোঝা উচিত ছিল। কারণ এই দেশ কারও ব্যক্তিগত না, সবার। যদি বাংলাদেশ ভালো করে, সবার ভালো লাগবে। কেউ যদি নিজেরা নিজেদের মতো করতে চায়, তাহলে তো এটা হবে না। এটা হওয়া উচিতও না। সব সময় আমি দেখেছি যখন একটা মেজর টুর্নামেন্ট হয়, তখন খেলা ছাড়া খেলার বাইরের জিনিসগুলো নিয়ে অনেক বেশি কথাবার্তা বলি। এজন্য সবাই চাপে পড়ে যায়।’
আকরামের মতে, ব্যর্থতার দায় সবার। তবে তার আগে সবাইকে যার যার প্রাপ্ত সম্মান দিতে হবে- ‘এই দায়টা আমি মনে করি সবারই। সবাইকে সম্মান করতে হবে। এমনকি যারা যেকোনোভাবে খেলায় জড়িত আছে তাদের সম্মানটাও দেওয়া উচিত। যারা অনেক দিন ধরে খেলছে, তাদের সম্মানটা প্রাপ্য। এ ছাড়া যারা নতুন খেলোয়াড় আসছে, ওদের বোঝাতে হবে ওরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমার একটাই কথাÑ সম্মান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট-বড় সেটা বিষয় না। যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে বোর্ডে এসে কথা বলে সমাধান করা উচিত।’