প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১১:২০ এএম
রাচিন রবীন্দ্র। ফাইল ছবি
রাচিন রবীন্দ্রর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে নিয়ে তার সুখস্মৃতি যে কখনও ভোলার নয়। ভুলতে চাইলেও হয়তো ভুলতে পারবেন না নিউজিল্যান্ডের এ তারকা ব্যাটার। হৃদয়ের গহীনে আজীবন আঁকা থাকবে লাল-সবুজের দেশকে নিয়ে তার হাজারো পুরোনো স্মৃতি। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল রাচিনের।
সেটি আবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সেই স্মৃতি ভোলার তো কোনো সুযোগই নেই। তিন টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেছেন তরুণ এ কিউই ক্রিকেটার মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। ২০২২ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের তার সেই স্মৃতিতেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছিল টাইগাররা।
চমৎকার ব্যাটিং পারফরম্যান্সে স্মরণীয় এক বিশ্বকাপ শেষ করে এবার বাংলাদেশে পা রেখেছেন। ২৮ নভেম্বর মাঠে গড়াতে যাওয়া সিলেট টেস্ট দিয়ে ফিরতে পারেন লাল বলের ক্রিকেটে। তার আগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কাটানো গত কয়েকটা মাসের স্মৃতিকে পরাবাস্তবই বলছেন রাচিন।
তার কাছে এই পুরো সময়ের সুখস্মৃতিটা যেন অবচেতন মনের কল্পনায় আঁকা ছবি। এ নিয়ে রাচিন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় বেশ পরাবাস্তব একটা ব্যাপার। আমার মনে হয় সবকিছু দ্রুত ঘটে গেছে এবং এ মুহূর্তে এখানে থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। দেখুন, এটা আসলে আমাদের দলীয় আবহের সপক্ষেই কথা বলে, (যে কারণে) আমি এসে মুক্তভাবে খেলতে পেরেছি, সময় উপভোগ করেছি।’
বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ড এসেছে বেশ কয়েকজন স্পিনার নিয়ে। মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধির সঙ্গে নিউজিল্যান্ড দলে নেই তারকার অভাব। তাদের ভিড়ে শেষ পর্যন্ত একাদশে রাচিনের জায়গা পাওয়াটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে স্কোয়াডে ডাক পেয়েই যারপরনাই খুশি ২৪ বছরের এ ক্রিকেটার।
লাল বলের ক্রিকেটে নিজের ফেরার সম্ভাবনা দেখে শিহরিত রাচিন বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই (রোমাঞ্চিত)। আমার মনে হয়, টেস্ট হচ্ছে ক্রিকেটের চূড়া। আর নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে খুবই বিশেষ কিছু। এমনকি দলের সঙ্গে শুধু সম্পৃক্ত থাকার ব্যাপারটিও। দুই বছর আগে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের অভিজ্ঞতা দারুণ লেগেছে। এখন আমার খেলা কতটা বদলেছে এবং দলের সঙ্গে আবার কীভাবে যুক্ত হতে পারি, সেটি দেখার সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত।’
দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে এখন শেখার দিকেই বেশি নজর ব্যাটিং অলরাউন্ডার রাচিনের, ‘আমাদের স্পিন বিভাগ বেশ শক্তিশালী, জ্যাজি (এজাজ), স্যান্টনার, ইশ ও গ্লেন ফিলিপস। আমার চেষ্টা থাকবে তাদের কাছ থেকে ভালোভাবে শেখা- সোধি ও জ্যাজির কাছে। যাদের এখানে অনেক অভিজ্ঞতা আছে। বোঝার চেষ্টা করা তারা কোনটি ভালোভাবে করে, তবে সেটি নিজের মতো করেই করা। আমার মনে হয়, আমরা সবাই নিজেদের দিক দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বোলার, ফলে স্পিন আক্রমণে একটু ভারসাম্য থাকাটা দারুণ।’
বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা এখানও ভালোই মনে রেখেছেন। স্মৃতির পট থেকে সেসব স্মৃতি রোমন্থন করে রাচিন জানান- ‘হ্যাঁ, ২০২১ সালের ওই উইকেটগুলো ছিল ইন্টারেস্টিং। ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ কঠিন ছিল বলেই মনে হয়, কিন্তু বোলিংয়ে মজা ছিল। আমার মনে হয়, এখানকার স্পিনাররা আমাদের দেশের চেয়ে তুলনামূলক একটু দ্রুতগতির। স্পিনারদের জন্য একটু বেশি সহায়তা আছে, ফলে আপনি যদি একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে বল ফেলতে পারেন একটু গতি বাড়িয়ে, আশা করা যায় আপনি সাফল্য পাবেন।’
দলের সঙ্গে কাটানো সময়টা উপভোগ করেছেন রাচিন। এবার চান সময়টা উপভোগ করে শেখার ঝুলিটা সমৃদ্ধ করতে- ‘সময়টা উপভোগ করছি, যারা অনেক দিন ধরে আছে তাদের কাছ থেকে শিখছি। ফলে সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা (শুরু) আবার। আশা করি, আমি তাদের কাছ থেকে শিখতে পারব।’