বিশ্বকাপে ভরাডুবি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:৩৮ পিএম
কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান
বিশ্বকাপ এলেই আশার ফানুস ওড়ায় বাংলাদেশ। কিন্তু আসর মাঠে গড়ালেই ব্যর্থতার গল্প লিখে বেড়ান ক্রিকেটাররা; টি-টোয়েন্টি কিংবা ওয়ানডে- যে বিশ্বমঞ্চই সামনে আসুক না কেন। বাংলাদেশের গল্পটা বদলায় না। আরও একটি ভরাডুরির বিশ্বকাপ শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরেছে টাইগাররা। টুর্নামেন্টজুড়ে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের কারণে এখন সমালোচনা হজম করতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। বাদ যাচ্ছেন না কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, নির্বাচক প্যানেল, টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে বিসিবি কর্তা-ব্যক্তিরাও।
বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজছে এখন বিসিবি। সেটা বের করে সমস্যার সমাধান করতে উঠেপড়ে লেগেছে বোর্ড। এ কারণে বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবির ব্যাখ্যা চেয়েছিল ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান ও কোচ হাথুরুসিংহের কাছে। অবশেষে বুধবার সেই রিপোর্ট বোর্ডে জমা দিয়েছেন দুজনে।
বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জেতে মাত্র ২ ম্যাচে। শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডস নিজেদের শেষ ম্যাচ না হারলে কপালে জুটত না ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির টিকিট। বোর্ড বৈশ্বিক আসরে দলের খারাপ খেলার ব্যাখ্যা চেয়েছিল টিম ডিরেক্টরের কাছেও। কোচ ও অধিনায়কের সঙ্গে একই দিন ব্যাখ্যা দিয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজনও। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স সূত্রে জানা গেছে, তিনজনই ই-মেইলের মাধ্যমে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। পরবর্তী বোর্ডসভায় এই রিপোর্ট নিয়ে পর্যালোচনা হবে। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সেই মিটিং হতে পারে চলতি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।
বিশ্বকাপ মিশন শেষ না করেই বাঁ-হাতের তর্জনীর চোট নিয়ে ঢাকায় পা রাখেন ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান। পরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে দেশে ফেরেন লিটন-শান্তরা। দলের সঙ্গে ফেরেন কোচ হাথুরু। ঢাকায় আসতেই তার কাছে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণ জানতে চায় বিসিবি। পরে ঢাকা থেকে পরিবারের কাছে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন হাথুরু। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে মঙ্গলবার ফেরেন বাংলাদেশে। সাকিবও ঢাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চলে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার সকালে তারকা এ অলরাউন্ডার ফেরেন দেশে।
বুধবার হঠাৎ করেই মিরপুরে হাজির হন সাকিব। আঙুলের ব্যান্ডেজ পাল্টাতেই শেরেবাংলায় যান। চোট এখনও পুরোপুরি ঠিক হয়নি তার। এ কারণে নিউজিল্যান্ড সফরে তার খেলা অনিশ্চিত। তার সঙ্গে মিরপুরে হাজির ছিলেন হাথুরু ও দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন। ছিলেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও। তাদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছিল শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। সবাই মিলে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক সারেন। কিউইদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে হয়তো রণকৌশল সাজাতেই আলোচনা করেন তারা। যদিও আসল কারণ গণমাধ্যমে প্রকাশ করেননি তাদের কেউ। বিসিবিতে আছেন দেশের স্বনামধন্য ক্রিকেট কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও। তবে তার আসার কারণটাও জানা যায়নি। পরে যে যার মতো বিসিবি কার্যালয় ছাড়েন।
তবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ব্যর্থতা নিয়ে কোচ, অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বিসিবির এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। বোর্ড চায় বিষয়টি নিয়ে পরিচালকদের নিয়ে আলোচনা করতে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি নভেম্বরের শেষদিকে বা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে বসতে পারে বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক। যেখানে মূল আলোচনাই বিশ্বকাপে দেশের ক্রিকেটারদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে।