হেলাল নিরব
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১২:২৩ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৩৭ পিএম
বিশ্বকাপের শিরোপা ফয়সালার মিশন আজ আহমেদাবাদে
‘আমার কথা ফুরালো, নটেগাছটিও মুড়োল’—সব ঠিক থাকলে ৪৬ দিন ধরে চলা বিশ্বকাপ গল্পের পর্দাও নামছে আজ। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম প্রস্তুত, রবিবারের মহারণে প্রস্তুত দুই ফাইনালিস্টও। দূরদেশে নাকি সোনার ট্রফি থেকে যাবে স্বদেশে, সেই প্রশ্নেও জমছে বিস্তর আলোচনা। কথার লড়াইও চড়ছে বেশ, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক আশাবাদী ভারতীয়দের মুখ বন্ধ করে দেবেন। রোহিত শর্মা অতকিছু বোঝেন না, তার স্রেফ শিরোপা চাই।
বিশ্বমঞ্চ থেকে ক্রিকেটবোদ্ধা হয়ে পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকান— চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে কে সেই আলোচনায় যখন সবাই বুঁদ, তখন খেরো খাতায় কাটাকুটি হোক-খোঁজা হোক লড়াইয়ের ভেতরের লড়াই। অপ্রতিরোধ্য ভারত নাকি প্রত্যয়ী অস্ট্রেলিয়া? সেই জিজ্ঞাসার উত্তর জানার আগে জেনে নেই, টক্করটা ঠিক কোথায় এবং কতখানি হবে...
কোহলি বনাম জাম্পা
সেয়ানে সেয়ানে টক্কর বলে যে কথাটি আছে, দুই দলের দুই মূল অস্ত্রের মাঝেও তেমনটি দেখা যাবে। লড়াইয়ে একজন বিশ্বকাপে চলতি আসরে এখন পর্যন্ত রান এনেছেন সবার চেয়ে বেশি, অন্যজন উইকেটশিকারিদের তালিকায় আছেন শুরুর দিকে। কিন্তু আজ আহমেদাবাদে মুখোমুখি হবেন দুই চ্যাম্পিয়ন। নিজেদের দলকে এগিয়ে নিতে দুজনকেই শিরোপার মঞ্চে রাখতে হবে শক্তির প্রমাণ।
লড়াইটা কম কিছু হবে না, ১০ ইনিংসে বিশ্বকাপে কোহলির ঝুলিতে আছে ৭১১ রান। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানো কোহলি ভারত তো বটে, আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটার। ফাইনালে শিরোপাপ্রত্যাশী ভারতও তাকিয়ে তার ব্যাটের দিকে। কোহলির মতো দাপুটে ব্যাটারকে শুরুতেই থামিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বর্তাবে লেগস্পিনে ভেলকি দেখানো অ্যাডাম জাম্পার। উপমহাদেশের বিশ্বকাপে ২২ উইকেট শিকার করা অস্ট্রেলিয়ান কোহলিকে ফিরিয়ে নিজেকে আরও ওপরের দিকে নিতে চাইবেন। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে সেটা আজ খুব দ্রুত করতে হবে জাম্পাকে।
ওয়ার্নার বনাম শামি
ভারতের হয়ে বিশ্বকাপে মোহাম্মদ শামি কী করছেন, তা চোখে না পড়ে জো আছে? প্রতিপক্ষ বড় জুটি গড়লে ডাক পড়ে শামির, শুরু-শেষে কিংবা মাঝের ওভারে উইকেট তুলতেও সেই শামিকে চাই। সেমিফাইনালে সাত উইকেট শিকার করে শামি ম্যাচটিকে ‘শামি-ফাইনাল’ বানিয়ে ফেলেছিলেন। হার্দিক পাণ্ডিয়ার চোটে দলে আসা শামিকে নিয়েই বড় আশা দেখছে ভারত।
অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গেও তার লড়াইটি জমবে বেশ। শামি এখন অবধি এই বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচ খেলেছেন, শিকার করেছেন ২৩ উইকেট। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিকে সমীহ না করলে অজিদের দারুণ শুরু এনে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ওয়ার্নার তো বটে, অস্ট্রেলিয়ারও বিপদ বাড়তে পারে। লড়াইয়ের পারদ বাড়াতে পটু দুজনের দিকেই থাকবে দুদলের ঈগল চোখ।
রোহিত বনাম হ্যাজলউড
ক্রিকেটে অঘোষিত একটা কথা আছে, ‘রোহিত শর্মাকে পাওয়ার প্লেতেই ফিরিয়ে দাও, না হলে সমস্যা প্রকট হবে।’ ফাইনালে ফাইনালম্যান বনে যেতে চাওয়া ভারতের অধিনায়ককে শুরুতেই থামিয়ে দেওয়ার সেই কাজটি নতুন বলে করতে হবে জশ হ্যাজলউডকেই। অধিনায়কে শুরুতে ফেরাতে পারলে অজি পেসার শিরোপার পথে নিজেদের আরেকটু বাড়িয়ে নিতে পারবেন। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা যাই হোক না কেন, লম্বা ডানহাতি অজি পেসারকে সমীহ করতেই হবে রোহিতকে।
বিশ্বকাপে হ্যাজলউডের লেন্থ, মুভমেন্ট এবং সুইংয়ের পাশাপাশি গতি বুঝে রোহিত যদি টিকে যায়, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার কপালে দুঃখ আছে বটে! আহমেদাবাদের কিছুটা টার্ন পাওয়া পিচে রানবন্যা ছোটাতে পারেন হিটম্যান। লড়াইয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় লড়াইটাও বুঝি এদের দুজনের মাঝে হবে। একজন বল হাতে চালাবেন তাণ্ডব, অন্যজন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় নিজেকে নিতে চাইবেন আরেকটু ওপরে। শুরুতেই নিজেদের দিকে শিরোপার পাল্লা ঝুলাতে চাইলে কার্যকর হতে হবে দুজনকেই।
ম্যাক্সওয়েল বনাম জাদেজা
দলে দুজনের রোল প্রায় একই, ‘উইকেট পড়ছে না, বল হাতে এসো।’ প্রয়োজনে দ্রুত কিছু রান উঠিয়ে দেওয়ারও দায়িত্ব বর্তায়। অথবা দল যখন খাদের কিনারায় তখন তাদের দুজনের ঘাড়ে গুরুদায়িত্ব, বোলিং কিংবা ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচিয়ে নেওয়ার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টুকটাক স্পিন করা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল যেভাবে কাজটি করেন, ঠিক তেমনি দায়িত্ব সামলাতে পটু রবীন্দ্র জাদেজাও। সংকটকালীন এই দুজনের দিকেও ফাইনালে থাকবে বাড়তি নজর। হুট করেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার দক্ষতায়ও দুজনে বেশ পটু। ঘরের মাটিতে জাদেজা আছেন বেশ ফর্মে।
বাঁহাতি স্পিনের পাশাপাশি ব্যাটিং পারায় তাকে নিয়ে বড় ভরসা রোহিতের, কামিন্স তো ম্যাক্সি বলতেই বেহুঁশ। তার ওপর ভারতে যে তাণ্ডব ম্যাক্সওয়েল চালাচ্ছেন, সেটি যদি ফাইনালেও বওয়াতে পারেন তাহলে ফলও নিজেদের পক্ষে চলে যাবে। খেপাটে অজি ব্যাটারকে রুখতে রোহিতের কাছে জাদেজা হতে পারেন তূণের বড় অস্ত্র। ভুলে গেলে চলবে না, সময়ের সেরা অলরাউন্ডারের কাতারে দুজনেই বেশ ওপরের দিকে।