প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ০১:৩৩ এএম
বিশ্বকাপের পর এমনিতেও চুক্তি শেষ হয়ে যেত অ্যালান ডোনাল্ডের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এক বছরের জন্য তাকে চেয়েছিল, মৌখিকভাবে সম্মতও হয়েছিলেন। ভারতে বিশ্বকাপের পাট চুকিয়ে আসতে চেয়েছিলেন ঢাকায়। হুট করেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ‘টাইমড আউট’ কাণ্ডে খোলাখুলিভাবে সাকিবদের সমালোচনা করার এক দিন পর ‘সাদা বিদ্যুৎ’ খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান জানিয়ে দেন, ‘আর থাকছি না।’ তবে চলে গেলেও তাসকিনদের ছেড়ে যাচ্ছেন না, যেকোনো প্রয়োজনে প্রিয় শিষ্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন ডোনাল্ড।
আজ শনিবার পুনেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ অধ্যায়ের ইতি টানবেন প্রোটিয়াদের সাবেক পেসার। সেখান থেকে উড়াল দেবেন নিজের দেশে। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমেও তাকে দেখা যাবে না আর। বিদায়বেলায় যদিও মায়া রেখে যাচ্ছেন, চরম অসন্তোষ নিয়ে গেলেও মনে রাখবেন তাসকিন-মুস্তাফিজদের। বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার সময় তৃপ্তিও কাজ করছে ডোনাল্ডের।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে যাওয়ার আগে ডোনাল্ড জানিয়েছেন, বিসিবি চাইলেও তিনি আর থাকতে চাচ্ছেন না। প্রস্তাব না মানার কারণ হিসেবে দিয়েছেন পরিবারকে সময় দেওয়ার কথা, ‘বিশ্বকাপের সময়ই মৌখিকভাবে এক বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে রাজি হয়েছিলাম। তবে চুক্তি সই করিনি। ঢাকায় ফিরে নতুন চুক্তিতে সই করতে চেয়েছিলাম। দলের পেস বোলারদের আরও বেশি করে জানা এবং তাদের আরও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম।’
সব রোমাঞ্চ হুট করেই শেষ! ‘টাইমড আউট’ ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেননি ডোনাল্ড। তা নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের অসন্তোষের কথা জানা গেছে। সেখানেই কোথাও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাবেক পেসারের। কী কারণে মুস্তাফিজ-হাসানদের ছাড়ছেন, এমন জিজ্ঞাসায় ডোনাল্ড পরিবারকে টেনেছেন। যদিও গুঞ্জন আছে, বিসিবির সঙ্গে চুক্তি শেষে ডোনাল্ড দায়িত্ব নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কা দলের। যদিও এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
তবে প্রোটিয়া তারকা বলেছেন, ‘ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছিলাম। কিন্তু দেখলাম এই ১২ মাস খুবই লম্বা সময়। এই সময়ে বেশ ব্যস্ত সূচি রয়েছে। সূচিটা বেশ ক্লান্তিকর। আমার পরিবারের কথা চিন্তা করাটাকেই ভালো মনে করেছি। আমার দুই বছর বয়সি নাতি আছে। ওকে খুব মিস করছিলাম। ৮২ দিন ওদের দেখি না। আমি মনে করি, এটা প্রভাবিত করেছে চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়াতে।’
তবে ছেড়ে গেলেও তাসকিনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন ডোনাল্ড। বলেছেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথাও, ‘আমি ওদের বলেছি, এর আগেও বহু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছিলাম। পেশাদার জীবনে যে মুহূর্তে কেউ কোনো কাজ ছাড়ে, সেটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সে নিজেকে সরিয়ে নেয়। ওদের বলেছি, আমি বাংলাদেশের পেসারদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটা ফোন থেকে ডিলিট করব না। আমরা গ্রুপে একসঙ্গে আড্ডা মারতে পারি ভবিষ্যতে। খেলোয়াড়রা যখনই চাইবে, তখনই আমাকে বার্তা পাঠাতে পারে। আমি হোয়াটসঅ্যাপে ওদের সঙ্গে যেকোনো বিষয় কিংবা ক্রিকেট নিয়ে আড্ডা চালিয়ে যাব।’