× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ব কাঁপানো সেই তিন ইনিংস

হেলাল নিরব

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৩ ২১:১২ পিএম

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৪২ পিএম

বিশ্ব কাঁপানো সেই তিন ইনিংস

ডেভিড ওয়ার্নারদের কাছে কদিন আগে যখন নেদারল্যান্ডসের বোলাররা পিষ্ট হচ্ছিলেন, তখন নেট দুনিয়ায় শ্লেষাত্মক একটা ট্রল ছড়িয়ে পড়েছিল—‘ডাচরা কি ওয়ার্নার কিংবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ব্যক্তিগত রানটা পেরোতে পারবে?’ অঘটন ঘটানোর চিন্তা নিয়ে নামা স্কট এডওয়ার্ডসরা সেদিন অঘটনের জন্ম দিয়েছেন বটে! তবে নিজেদের পক্ষে আসেনি। আজকের গল্প যদিও বিশ্বকাপের ওই একপেশে ম্যাচ নিয়ে নয়। বরং এমন সব ব্যক্তিগত ইনিংস নিয়ে, যারা বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষকে স্রেফ একাই ছিটকে দিয়েছেন— ব্যাট হাতে বিশ্ব কাঁপানো ইনিংস খেলে একপেশে করে দিয়েছিলেন লড়াই। ১৯৭৫ সালে ক্রিকেটের বিশ্বকাপ শুরুর পর এখন অবধি যত খেলা হয়েছে, সেসবের মাঝে সেরা তিনটি ব্যক্তিগত ইনিংস নিয়েই আজকের লেখা।

২৩৭ নট আউট

মার্টিন গাপটিলের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় ক্যারিয়ারে আপনার সবচেয়ে পছন্দের ইনিংস কোনটি? তিনি মনে হয় ওয়েলিংটনের সেই ইনিংসটির কথাই আগে টানবেন। গাপটিলের ২৩৭ নট আউট ইনিংসটি অন্যসব ক্ষেত্রেও যে সবাইকে ছাপিয়ে গেছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৬৩ বলের ওই ইনিংসটি সবার ওপরে। ২০১৫ বিশ্বকাপের শেষ আটের কথা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাজে শুরু করলেও গাপটিলের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল কিউইরা।

পরে সেই স্বপ্ন ছাপিয়ে নিজেই নিজেকে নিয়েছেন সর্বোচ্চ চূড়ায়। সেঞ্চুরি করার পর গাপটিল যেন খুনে মেজাজে আনেন ২৩৭ রান, ইনিংস সাজানো ছিল ২৪ চার আর ১১ ছক্কায়। তাকে আউটও করতে পারেননি ক্যারিবিয়ান বোলাররা। ইনিংসের শুরুতে নেমেছেন আর যখন থেমেছেন তখন ৫০ ওভার শেষ। কিউইদের স্কোরবোর্ডে তখন জ্বলজ্বল করছে ৩৯৩ রান। চারশ ছুঁইছুঁই সেই রানপাহাড় টপকাতে তো এক সময় দূর মনে হচ্ছিল, একপেশে করে দেওয়া গাপটিলের রান তো করতে পারবেন জেসন হোল্ডাররা! ক্যারিবিয়ানরা সেদিন তুলেছিল ২৫০ রান, কোয়ার্টার ফাইনালে দেখেছিল ১৪৩ রানের বড় হার।

দ্য ইউনিভার্স বস

২০১৫ বিশ্বকাপেরই গল্প। ক্রিস গেইল তখন এক দিনের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সেরা ইনিংসটি খেলে ফেলেছেন। বলা হচ্ছিল, রেকর্ডটি ভাঙতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু গাপটিল বেশি সময় নেননি, মোটে ১২ ম্যাচ পরই নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন। এখানে অবশ্য ক্যারিবিয়ান দানবের তাণ্ডবের গল্প শোনানো হবে। দ্য ইউনিভার্স বসের সেদিনের ২১৫ রানের ইনিংসের পর জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা হতাশ কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমাদের দেখে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। দুঃখজনক হচ্ছে এলবির আবেদনটি গেইলের পক্ষে গিয়েছিল। আমরা এই দিনটিকে খুব দ্রুত ‍ভুলে যাব।’ চিগুম্বুরা যদি ভুলে গিয়েও থাকেন, গেইল নিশ্চয় ভোলেননি। এমন ইনিংস কি ভোলা যায়।

ক্যানবেরায় সেদিন শুরুর ওভারেই ফেরেন ডুয়াইন স্মিথ। ক্যারিবিয়ান শিবিরে তখন পিনপতন নীরবতা, কী হতে যাচ্ছে! সেই ‘কী হবে’ আক্ষেপ জিম্বাবুয়ের সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে দেন গেইল ও স্যামুয়েলস। দুজনে গড়েন বিশ্বকাপে দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। দুজনেই পান সেঞ্চুরি। একজন হাঁকান তখন অবধি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ইনিংস। ১৪৭ বল, ১৬ ছক্কা আর ১০ চার। জিম্বাবুয়ের বোলাররা সেদিন মুখ লুকানোর পথও পাননি।

কারস্টেনের কারসাজি

টি-টোয়েন্টি যুগেরও অনেক আগের কথা। তখন হয়তো ‘হার্ড হিটার’ বলে যে শব্দটি আছে, সেটিও পাদপ্রদীপের নিচে আসেনি। সে সময় এখনকার মুড়িমুড়কির মতো চার-ছয়ে ঝড় তোলা খুব একটা সহজ কিছুও ছিল না। দুপধাপ করে সেঞ্চুরি এবং সুযোগ পেলে সেটাকে দেড়শ থেকে দুইশ করাও ছিল বেশ কঠিন। একটা পরিসংখ্যান দিই, তাহলেই বুঝতে পারবেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ততদিনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বসেছে বেশ কয়েকবার, ৫০ ওভারের ম্যাচও ছাড়িয়েছে হাজারের কোটা। দেড়শও রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন দুয়েকজন। সেই সময় ১৮৮ রানের ইনিংস খেলে লম্বা-চওড়া হাসি নিয়ে ডাগআউটে ফিরেছিলেন গ্যারি কারস্টেন। তাও বিশ্বকাপের মঞ্চে।

ধারে-ভারের বিচারে খর্বশক্তির আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলা ওই ইনিংসটিই এখানে রাখা হচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে এখন ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১০ জন। বিশ্বকাপেও এতদিনে ভূরিভূরি আছে সেরা ইনিংসের ঘটনা। তবে বিশ্ব কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন কারস্টেন। ওপেনিংয়ে নেমে তখনকার সময়ে ১৫৯ বলে খেলেছিলেন ১৮৮ রানের ঝলমলে ইনিংস। ছিল ১৩ চার আর ৪টি বিশাল ছক্কার মার। সেদিন বোলিংও করেছিলেন কারসাজি করা কারস্টেন। কিন্তু উইকেট পাননি, তবে ১৬৯ রানের বিশাল জয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন প্রোটিয়া ওপেনার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা