প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৩ ০১:২৪ এএম
লকি ফার্গুসন, মার্ক চ্যাপম্যান, কেন উইলিয়ামসন এবং সবশেষ ম্যাট হেনরি। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন জিমি নিশামও। নিউজিল্যান্ড দলে এদের কেউ আনফিট, কেউ আবার ভুগছেন চোটে। কারও এবার বিশ্বকাপ খেলাতেই পড়ে গেছে দাড়ি! ভারতে দাপুটে শুরু করা নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে আশা দেখতেই পারত তাদের সমর্থকরা। কিন্তু কিউই দলে যেভাবে চোটে পড়া ক্রিকেটারদের তালিকা লম্বা হচ্ছে, তাতে দলটাকে ‘ছোটখাটো হাসপাতাল’ বলা যেতেই পারে। সেই হাসপাতালের রোগীর সংখ্যাটা এতটা যে কিউই টিম ম্যানেজমেন্ট শঙ্কায় পড়ে গেছে ফিট থাকাদের নিয়ে দল গঠনে।
ভারতে কিউইদের ইনজুরি সমস্যা এতই প্রকট যে পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচ নিয়ে জমেছে প্রশ্ন, ‘ফিট থাকা ১১ জনকে কি নামাতে পারবেন? যদিও খেলোয়াড়দের সংকট কাটাতে দেশ থেকে কাইল জেমিসনকে উড়িয়ে এনেছে তারা। টুর্নামেন্টের অর্ধেক শেষে বড় করে কিউইদের চোখ রাঙাচ্ছে চোট। বিশ্বকাপে পরিস্থিতি যখন প্রতিটি ম্যাচে বাঁচা-মরার, তখন প্রতিপক্ষের পাশাপাশি চোটের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে টম লাথামদের।
সর্বশেষ ম্যাচে পুনেতে একসঙ্গে ম্যাট হেনরি ও জিমি নিশাম চোটে পড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেদিন ষষ্ঠ ওভারে বোলিং করতে এসে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান পেসার হেনরি। অলরাউন্ডার নিশাম আঘাত পান ডান হাতের কবজিতে। হেনরি ছিটকে গেলেও পরে শেষদিকে বাধ্য হয়েই ব্যাট করতে হয় নয় নম্বরে। তার আগে চোটে পড়ে আছেন উইলিয়ামসন, চ্যাপম্যান ও ফার্গুসন। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচে ফিরেছিলেন টিম সাউদি। অন্যথায় অভিজ্ঞ এই পেসারের নামও থাকত আনফিট সতীর্থদের তালিকায়। দলও হয়তো গঠন করতে পারতেন না টম লাথামরা।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে চোখে আঙুল দেওয়ার দিনে অবশ্য একটা কিছু করার চেষ্টা করেছে কিউই বোর্ড। পেসার ঘাটতি মেটাতে কাইল জেমিসনকে দেশ থেকে ডেকে পাঠিয়েছেন। লাথামদের কোচ গ্যারি স্টিড বলেছেন, ‘কাইলকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ আছি। শুক্রবার সে দলের অনুশীলনে যোগ দেবে।’
চোটের প্রভাব বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সেও পড়েছে। শুরুতে টানা চার ম্যাচে জয় পাওয়া কিউইদের সেমিফাইনালের পথ অনেকটা উজ্জ্বল ছিল। কিন্তু এখন তারাই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পথে। টানা তিন হারে তারা ধুঁকছে। শঙ্কায় আছে সেমির পথও। খারাপ সময়কে পেছনে ফেলতে তাই দ্রুত সুস্থ হতে হবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের।
জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে তাই প্রশ্ন তুলেছেন স্কোয়াড নিয়ে। তার মতে, এতগুলো ম্যাচ ও এত দীর্ঘ সময়ের টুর্নামেন্টে ১৫ জনের স্কোয়াড পর্যাপ্ত নয়— ‘এটা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বলেছিলাম এবং এখন আবার বলছি। যখন আপনার ৯টি ম্যাচ খেলতে হবে, ১৫ জনের একটা স্কোয়াড খুবই ছোট। এই রকম গুরুত্বপূর্ণ একটা টুর্নামেন্টে হাতে যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিয়ে দল সাজাতে পারেন না। স্কোয়াডে কমপক্ষে ১৭ জন থাকা উচিত। অথবা দলগুলোকে ইচ্ছামতো বদলি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক এবং যখন আগের খেলোয়াড় সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে, তাকে খেলার সুযোগ দিতে হবে।’
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড যদিও আশাবাদী, বেঙ্গালুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে পারবেন ফার্গুসন। নিশামের এক্স-রে রিপোর্টও ভালো। কবজিতে কোনো চিড় ধরা পড়েনি। ম্যাট হেনরির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আর বিকল্প হিসেবে জেমিসন তো আছেনই। খেলোয়াড় সংকট কাটানো গেল বটে। কিন্তু দল কীভাবে হবে। চয়েজের অপশন নেই, যিনি আছেন তাদের নিয়েই লড়তে হবে নিউজিল্যান্ডকে।