প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৩৮ পিএম
কথায় আছে, ‘সমস্যা থাকলে তার সমাধানও আছে।’ কিন্তু সমস্যাটা যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের, তখন সেটা বোধহয় কখনও শেষ হওয়ার নয়। টাইগারদের ইনিংস ওপেনিংয়ের দিকে তাকালে তো তেমনটাই মনে হয়। বাংলাদেশের সেই গোড়ায় গলদের সমস্যা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে পাকিস্তান ম্যাচে সেটা আরও বেশি স্পষ্ট হলো।
ইনিংস উদ্বোধনের সমস্যা কাটাতে কতজনকেই তো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। কিন্তু কোনো রদবদলেই লাভ হয়নি। লিটন দাসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে তানজিদ হাসান তামিম তো পুরোই ব্যর্থ। কাউকে দিয়ে যখন কিছু হচ্ছে না, তখন তামিম ইকবালের অভাবটা নিদারুণ পরিষ্কার। সেটা অবশ্য দলের কেউ মানতেই চাচ্ছেন না।
তামিম ইকবালের অভাব অনুভূত হলেও সেটা কেউ স্বীকার করতে নারাজ। এমনটা হওয়াই তো স্বাভাবিক। পিঠের চোট কাটিয়ে পুরো ফিট ছিলেন না দেশসেরা এ ওপেনার- সেই অজুহাত তুলেই সিনিয়র তামিমকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ দল থেকে। এ নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। যার বাদ পড়ায় রীতিমতো বিতর্কের ঝড় উঠে গিয়েছিল গণমাধ্যম আর ভার্চুয়াল জগতে, তার অবদান ভুলে যেতে চাওয়াটাই তো স্বাভাবিক!
ধারণা করা হচ্ছিল, তানজিদকে দিয়ে অভিজ্ঞ তামিমের অভাবটা ঘুচিয়ে ফেলবে বাংলাদেশ। তরুণ এ ওপেনার তেমন আভাসই দিয়েছিলেন। বিশেষ করে এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে। মহাদেশীয় ওই টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ১৭৯ রান। যার মধ্যে তিন ম্যাচেই পান হাফসেঞ্চুরির দেখা। এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে তানজিদকে নিয়ে স্বপ্নটা বড় দেখেছিল দল। প্রত্যাশা ছিল, বিশ্বকাপেও তার ব্যাট থেকে মিলবে এমন ঝলক।
তানজিদকে নিয়ে আশার ফানুস উড়িয়েছিল টাইগাররাও। প্রত্যাশার পারদ ছিল চড়া। কিন্তু দলের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন আর কোথায়? বিশ্বমঞ্চে ৭ ম্যাচ খেলে নিজেদের নামের পাশে ১৪.২৮ গড়ে জমা করেছেন ১০০ রান। তার স্ট্রাইকও তেমন ঈর্ষণীয় নয়। ৮৮-এর ওপর স্ট্রাইকরেট দিয়ে আর কত ভালোই করতে পারতেন। ভারতের বিপক্ষে যা একটু ব্যাটিং ঝলক দেখিয়েছেন তানজিদ। তার হাতের ব্যাট দেয় ৫১ রানের হাসি। এই ইনিংস বাদ দিলে ক্রিকেট অনুরাগীদের কেবল মন খারাপের স্মৃতিই উপহার দিয়েছেন! বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার শুরু তো তার হাত ধরেই। পাঁচ বল মোকাবিলা করেই শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপে শূন্য রানেই ফিরে যান তানজিদ। তার শুরু করা ব্যাটিং ব্যর্থতা গিয়ে থামে ২০৪ রানে। তারওপর দল পুরো ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ ওয়াসিম আর হারিস রউফের পেস ঝড়ে ৪৫.১ বলেই গুটিয়ে যায় দল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটি (৫৬) আর রিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং দৃঢ়তা না দেখালে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা গুটিয়ে যেতেন লজ্জাজনক স্কোরে।
টপ অর্ডার যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে না পারে। শুরুতে যদি গড়ে না উঠে বড় কোনো জুটি। তাহলে চাপ মিডল অর্ডারের ওপর বেশি হয়ে যায়Ñ মাঝের ব্যাটাররা পড়ে যান মহাবিপদে। টপ অর্ডারের দায়িত্ব সামলাবেন নাকি মিডল অর্ডারের কাজ করবেন। সেটাই যেন তারা বুঝে উঠতে পারেন না। সব মিলিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়ে যান মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। আর এ কারণে বড় কোনো ইনিংস প্রত্যাশা করাটাও কঠিন হয়ে যায়।
সেই পুরোনো চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ হওয়ায় গতকালও ব্যাটিং ব্যর্থতার আরও একটি করুণ গল্পই লিখলেন দেশের ছেলেরা। ভারত ম্যাচেই কেবল উদ্বোধনীতে ৯৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন লিটন দাস (৬৬) ও তানজিদ (৫১)। বাকি কোনো ম্যাচেই ৩০-এর বেশি জুটি গড়তে পারেননি দুজনে। বাকি ম্যাচে তাদের জুটি ০, ১৯, ১৪, ০, ৩০, ১৯ ও ০ রানের। সাত ম্যাচে লিটনের স্কোর ১৩, ৭৬, ০, ৬৬, ২২, ৩ ও ৪৫। আর তানজিদের স্কোর ৫, ১, ১৬, ৫১, ১২, ১৫ ও ০। ইনিংসের পঞ্চম বলে কাট পড়ে তানজিদ একটা বিষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, শুরুর সমস্যা কিন্তু এখনও জিইয়ে আছে আগের মতোই।
টপ অর্ডারের সমস্যা দূর করার আদৌ কোনো ইচ্ছা কি আছে দলের। ব্যাটিং লাইনআপ সাজানো আর দল নির্বাচনের দিক তাকালে তেমনটা মনে হয় না। চেষ্টা যে করছে না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু সমস্যা দূর করার চেষ্টা করতে গিয়ে সমস্যাই জিইয়ে রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তামিম ইকবালের মতো অভিজ্ঞদের দলের বাইরে রেখে তরুণদের হুট করে মাঠে পাঠালে কোনো সমাধানই হবে না। দায়িত্ব আছে ব্যাটারদেরও। প্রতিপক্ষ বোলারদের রিড করেই চালাতে হবে ব্যাট। শত্রুপক্ষের বোলারদের আক্রমণ কৌশল না বুঝে ব্যাটিং করে কোনো ফায়দাই লুটতে পারবে না টাইগাররা।