সীমান্তের ওপারে বিশ্বকাপ
হেলাল নিরব
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৩ ২২:৩০ পিএম
প্রায়ই সরব হয়ে ওঠেন উম্মে আহমেদ শিশির। সাকিব আল হাসানের স্ত্রী কখনও স্বামীর পারফর্মে বেজায় খুশি হয়ে ‘দেখিয়ে দেওয়ার’ কথা বলেন। কখনও বাঁকা ইঙ্গিত করে কিছু একটা বলেন প্রতিপক্ষকে। স্বদেশি খেলোয়াড়কেও খোঁচা দিতে ছাড়েন না। শুধু শিশিরই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাসের স্ত্রীরাও স্বামীর পক্ষে সরব। হবেনই-বা না কেন? কথায় আছে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হওয়া উচিত স্বচ্ছ কাচের মতো। যেন এক পাশে দাঁড়িয়ে অন্যপাশের চিত্রটা স্পষ্ট দেখা যায়। স্বামীর সুখে যেমন স্ত্রী সুখী হবেন, তেমনি দুঃখেও দুঃখী হবেন।
আজ যদিও সেসব বিতর্কিত স্ট্যাটাস একপাশে রেখে বলা হবে সহযোগিতার গল্প। শোনানো হবে ‘পারব না’ শব্দটিকে ‘পারতেই হবে’ বানানোর গল্প। লম্বা গল্পে বাংলাদেশের চার খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকছে পাকিস্তানের কয়েকজনের নাম। যারা ভেঙে পড়ার আগমুহূর্তে প্রিয় মানুষের কাছ থেকে পেয়েছেন ফেরার বার্তা। ফিরেছেনও। বিশ্বকাপ যেহেতু চলছে তাই বিশ্বকাপে একজনের ফেরার কথাই গল্পের শুরুতে থাকুক। কার কথা জানাব, বুঝতে পারছেন নিশ্চয়! ঠিক ধরেছেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথা। টি-টোয়েন্টিতে বাজে ফর্মের কারণে অধিনায়কত্ব হারানোর পর অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দেয়, ‘আপনি বিশ্রামে আছেন।’ সেই বিশ্রাম নিয়েই শত আলোচনা-সমালোচনা।
বিশ্বকাপের আগে কয়েকটি সিরিজের পর রিয়াদ জায়গা পাননি এশিয়া কাপের স্কোয়াডেও। তখন স্বামীকে উদ্দেশ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন তার স্ত্রী জান্নাতুল কাউসার মিষ্টি। বোর্ডের দিকে আঙুল তুলে বলেছিলেন, মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ আর কোনো ক্রিকেটার যেন অবহেলার শিকার না হয়, সুযোগবঞ্চিত না হয়, সাইলেন্ট হিরো না হয়! আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য ‘বিশ্রামে’ ট্রেন্ড বন্ধ হোক, সেটাও চাচ্ছিলেন মিষ্টি। রিয়াদ বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফেরেন।
লম্বা ক্যারিয়ারে আতশ কাচের নিচে আসা সিরিজে আরেকবার প্রমাণ করেন। বিশ্বকাপের দলেও আসেন। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘোরা বাংলাদেশের একমাত্র আলো হয়েও জ্বলছেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে তাই প্রশংসা করতেও ভোলেননি মিষ্টি। কয়েক লাইনে শেষ হওয়া গল্পটি যদিও এত সহজ ছিল না। দল থেকে বাদ পড়া, ফর্মহীনতা এবং দর্শক-সমর্থকদের চাপ নিতে যখন ধুঁকছিলেন রিয়াদ, তখন তাকে নিত্যসঙ্গ দিয়েছেন মিষ্টি। তাই তো প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন।
পাকিস্তানের স্পিনার উসামা মীরও তেমন একজন। যার বিশ্বকাপের অভিষেক যাচ্ছেতাই হয়েছে বলা চলে। ক্যাচ ছেড়েছেন, বোলিংয়েও ছিল না ধার। সমর্থকদের দুয়োতে যখন কান ভারী হয়ে উঠেছিল, তখন তাকে কয়েকশ মাইল দূর থেকে সাহস জুগিয়ে চলছেন রাবিয়া মীর। ভেঙে না পড়ার কথা বলছেন। স্বামী উসামাও নিশ্চয় ফিরবেন। যেমনি ফেরার ক্ষণ গুনছেন সাকিব আল হাসান।
শেষ কয়েক দিন স্ত্রী শিশির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব না হলেও স্বামীর বাজে সময়ে নিশ্চয় দোয়া করেছেন। মিরপুরে কিংবা কলকাতায় সাকিবকে দুয়ো দেওয়ায় নিশ্চয় শিশিরের মন কেঁদেছে। যার ব্যত্যয় ঘটেনি মুশফিকুর রহিমের স্ত্রীর ক্ষেত্রেও। লিটন, মুশফিক, মিরাজ হয়ে সবার খুব আপন মানুষটি চাইছেন তার স্বামী ভালো খেলুক। দেশের হয়ে মান রাখুক। সাকিবদের জন্য স্ত্রীদের দোয়া সৃষ্টিকর্তা ফেরাবেন কীভাবে?
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই ধুঁকছে। আজ কলকাতায় সাকিবদের বিপক্ষে লড়বেন উসামা-হাসান আলীরা। দারুণ জয়ের পর টানা হারে ধুঁকতে থাকা সাকিবদের যেমন নিজেদের সম্মান বাঁচানোর লড়াই, তেমনি পাকিস্তানের শেষ চারের স্বপ্ন ধরে রাখার। এমন দিনে প্রিয় মানুষটি নিশ্চয় চাইবেন, ওরা ভালো খেলুক। দেশকে দারুণ এক জয় এনে দিক। হারের বৃত্ত ভেঙে পাকিস্তান জয়ে ফিরুক এমনটি যেমন চাইবেন রাবেয়া-আনশা আফ্রিদিরা, তেমনি মিষ্টি-শিশিররা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকবেন সাকিবদের দিকে।