প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৫:৫৫ পিএম
সাদিরা সামারাবিক্রমার প্রেমের গল্পটি পরিচিত কোনো সিনেমার মতো। রাস্তার পাশে অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছেন প্রেমিক— তিনি জানেন এই পথ ধরেই বাসায় ফিরবেন পছন্দের মানুষ। এক নজর দেখে কিংবা টুকটাক কিছু একটা বলে সেদিনের মতো রাতটা কাটিয়ে দেওয়া যাবে। শ্রীলঙ্কান টপ অর্ডার ব্যাটারের প্রেমের গল্পটি সেই রকমের। কোনো বিরহের মুভির মতো যদিও সেই সম্পর্ক রঙ বদলায়নি। সাদিরা-থিলাকশি গোমেজের ভালোবাসার গল্পে নেই বিচ্ছেদ, ছিল না বিশ্বাসঘাতকতার ছিটেফোঁটাও। মুগ্ধ করার মতো গল্পই একবার শুনিয়েছিলেন সাদিরা। লঙ্কানদের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আসা ব্যাটার খুব করে মনে করছেন হাইস্কুলের বান্ধবীকে। যিনি এখন সাদিরার স্ত্রী, চলার কিংবা ভাবনার সঙ্গী। ক্রিকেট নিয়ে কার সঙ্গে আলোচনা করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন? সাদিরা অকপটে বলেছিলেন থিলাকশির নাম।
কথায় আছে, ‘প্রতিটি সফল পুরুষের পেছনে থাকেন একজন নারী।’ যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়, যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর সহযোগী হন, ওই স্বামী বেশি সফলতা পান। অর্থাৎ সফল পুরুষের পেছনে থাকেন একজন নারী। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের সেই পেছনে থাকা নারীদের নিয়েই আজকের আয়োজন। যারা সাদিরা, কুশল মেন্ডিসদের বাজে সময়ে পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দেন, সাহস জোগান এবং আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়েন। কষ্টে কাঁদেন, হাসান, সর্বোপরি ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা জোগান।
বিশ্বকাপে ভালো শুরু না পাওয়া লঙ্কানদের নিশ্চয় থিলাকশিরা সাহস জোগাচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশে এসে যেমন লঙ্কানদের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন কুশলের স্ত্রী। সাদিরার মতো সিনেমাটিক প্রেমকাহিনী না থাকলেও শ্রীলঙ্কার বর্তমান অধিনায়ক বেশ কাটাচ্ছেন দাম্পত্য জীবন। কেমন আছেন তারা দুজন, জানতে চাইলে আপনাকে ঢুঁ মারতে হবে দুজনের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে। সেখানেই পাবেন উত্তর। কখনও আপসোস করেও বললেন— ‘ইস, আমার একজন নিশেল নেই।’ মেন্ডিসকে খুব করে মিস করছেন নিশেল। তিনি শ্রীলঙ্কা তো বটেই, মেন্ডিসের পাঁড় ভক্ত। কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে আলোচনায় কখনও স্বামীকে ছাড় দেন না। একটু বাজে পারফর্ম হলেই হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ চলে আসে, ‘এমন কেন খেলছো!’ দাসুন শানাকা চোটে ছিটকে যাওয়ায় অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরা মেন্ডিসও মেনে চলেন স্ত্রীকে। দেশের জার্সিতেও খেলেন একের পর এক ক্যামিও। নিশেল কখনও ফোন করে হাসেন, কখনও কাঁদেন। সর্বোপরি খুব করে চান তার স্বামী জিতুক। শ্রীলঙ্কা জিতুক।
ক্রিকেটারকে বিয়ে করলেও সেদিক থেকে একটু আনমনা কল্যাণি। কুশল পেরেরার বউ একজন পেশাদার মডেল, বিজনেস করেন, ছোটখাটো উদ্যোক্তাও। এত কিছু করে ক্রিকেট দেখার সময় কই? মাঝেমধ্যে স্বামীকে হয়তো এটা বোঝানও কল্যাণি। ২০২০ সাল থেকে এক ছাদের নিচে আসা কল্যাণি-কুশল অবশ্য শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে খুব আশাবাদী। মাঠের খেলায় স্বামী ভালো খেলুক সেটাই মনভরে চান। হাজারো ব্যস্ততার মাঝে স্বামীর খেলার খোঁজখবরও নেন। কল্যাণি স্বামীর কাছে জানতে চান, কেমন খেলেছো? উত্তরে কুশল জানিয়ে দেন— ‘ভালো’, কখনও বলেন খারাপ। বাজে খেলা কী সেটা না জানলেও কল্যাণির মন খারাপ হয়ে যায়।
দিমুথ করুনারত্নে সেই হিসেবে যথেষ্ট ভালো আছেন। তার স্ত্রী অনুরাথা কুরুকুলসারিয়া অভিনেত্রী হলেও ক্রিকেটে এক-দুই বোঝেন। খেলা হলেই ছুটে যান মাঠে। স্বামীর সঙ্গে ঘোরেন, কখনও কোনো শোতেও স্বামীকে ডেকে নেন। বিশ্বকাপেও ভারতের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন অনুরাধা। দাসুন শানাকার গল্পটি অনেকটা সাদিরার মতো, লম্বা সময় চুটিয়ে প্রেম করার পর বিয়ে করেছিলেন চিওয়ানথি পেরেরাকে। পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার চিওয়ানথি খুব দুঃখিত স্বামী শানাকা চোটে পড়ায়। কিন্তু তিনি নিয়ম করে প্রার্থনা করছেন শ্রীলঙ্কার জন্য, কুশলদের খেলা থাকলে সবকিছু বন্ধ করে টিভি সেটের সামনে বসে পড়া চিওয়ানথি খুব করে চান—‘শিরোপাটা এবার জিতুক শ্রীলঙ্কা।’