সীমান্তের ওপারে বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ২০:২০ পিএম
যেমনটা ভাবা হচ্ছিল, হয়েছিল ঠিক তেমনটিই। উসামা মীরের হাত গলে যাওয়া ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ নিয়ে এখনও আক্ষেপ। পাকিস্তানের হয়ে নিজের অভিষেকেই বড় ভুল করে ‘সরি’ও বলেছিলেন। আখেরে লাভ যা হওয়ার অস্ট্রেলিয়ারই হয়েছে। রেকর্ড জুটি গড়েছেন দুই অজি ওপেনার। দলও চড়েছিল রানপাহাড়ে। তারপর বাবর আজমদের হার। আজ পুরোনো সেই গল্পটি নয়, বরং রেকর্ডের খাতায় কাটাকুটি করে বসা কয়েকটি জুটির কথা বলব। যেসব জুটি উইকেট কিংবা রানের বিচারে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ ছাড়া থাকবে মোড় বদলে দেওয়া সেসব জুটির গল্প।
ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলসের তাণ্ডবের গল্প শুরুতে। ক্যানবেরায় সেদিন মনের মতো করে শুরু করেছিলেন তিনিশে পানাঙ্গারা। ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিয়ানদের ওপেনার টিকতে পারলেন মোটে দুই বল। স্কোরবোর্ডে রান যোগ হওয়ার আগেই ফিরলেন স্মিথ। এরপরের দৃশ্যপটে স্রেফ গেইল-স্যামুয়েলসের দাপট। দুজনে গড়লেন ৩৭২ রানের জুটি। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা সাতজন বোলার ব্যবহার করেও আরেকটি সাফল্য আনতে পারেননি। ১৪৭ বলে ২১৫ রান করেন ক্রিস গেইল। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে তার ইনিংসে ছিল ১০ চার ও ১৬ ছক্কা। অন্য পাশে ১৫৬ বলে ১৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন মারলন স্যামুয়েলস। ম্যাচের পাল্লা ততক্ষণে ঝুলে পড়েছে ক্যারিবিয়ানদের দিকে। লড়াই চালাল জিম্বাবুয়ে। দুই ফিফটিতে দল থামল ২৮৯ রানে।
বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি দিন তিনেক আগে গড়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ। শ্রীলঙ্কার বাইরে অন্য কোনো দলের প্রথম ২০০ রানের ওপেনিং জুটিও গড়ে। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা ও তিলকারত্নে দিলশান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৮২ রানের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির আগে-পরে দুইবার জীবন পাওয়া ওয়ার্নার ১২৪ বলে ৯ ছক্কা ও ১৪ চারে খেলেছিলেন ১৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। ওয়ানডেতে এটি তার ২১তম সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপে পঞ্চম।
ওয়ার্নার তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরের বলেই সেঞ্চুরি করা মার্শ ১০৮ বলে ৯ ছক্কা ও ১০ চারে খেলেছেন ১২১ রানের দারুণ ইনিংস। তাকে বিদায় করেই ২০৩ বল স্থায়ী ২৫৯ রানের জুটি ভাঙেন শাহিন আফ্রিদি। এতে অক্ষত থাকল বিশ্বকাপে উদ্বোধনী জুটিতে শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান ও উপুল থারাঙ্গার সর্বোচ্চ ২৮২ রানের রেকর্ড। পরের স্থানটিতেই আছেন ওয়ার্নার ও মার্শ। তাদের ২৫৯ রান বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সেরা উদ্বোধনী জুটি, যেকোনো জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট যখন শুরু, সেই থেকে আজ অবধি যত সেরা জুটি আছে— তার মাঝে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আছেন সৌরভ গাঙ্গুলি ও রাহুল দ্রাবিড়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯৯৯ সালে ৩১৮ রান আনেন তারা। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ আনেন ২৬০ রান। পঞ্চম উইকেটে ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনি দুজনেই অপরাজিত ছিলেন ২৫৬ রানের জুটিতে। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল এশিয়ার তিনটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা, যা ছিল টুর্নামেন্টটির দশম আসর। ওই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৮২ রানের জুটি গড়েছিলেন দুই লঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ও দিলশান। এটি বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
যেখানে থারাঙ্গার ব্যাট থেকে এসেছিল ১৩৩ রান। আর দিলশান খেলেছিলেন ১৪৪ রানের ইনিংস। ম্যাচটি ১৩৯ রানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। পরের জুটিটি ২৬০ রানের। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ গড়েছিলেন এই জুটি। তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছে দুই প্রোটিয়া ক্রিকেটার ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনির নাম। বিশ্বকাপের একাদশতম আসরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ২৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন ডুমিনি-মিলার।
ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেওয়া রেকর্ড গড়া সব জুটির গল্প চলছেই। এবারের বিশ্বকাপেও বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ ভেঙেছে ২৪ বছরের রেকর্ড জুটি। মেহরাব-শাহরিয়ারের ৬৯ রানের জুটি ভারতের বিপক্ষে টপকে গেছেন লিটন ও তানজিদ। আরও আসছে। একটা কথা আছে— রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্যই। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানের জুটিও কোনো এক ম্যাচে ভেঙে নিজেদের নামে করবেন কোনো দুজন।