সীমান্তের ওপারে বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:৩৬ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:৩৭ পিএম
‘যে নিজের ধর্মের হতে পারে না, সে নিজের দেশের কীভাবে হবে’—আঞ্জুম খানকে বিয়ে করার পর ‘শূলে চড়ার’ জোগাড় হয়েছিলেন শিবম দুবে। অন্য ধর্মের মেয়ে বিয়ে করার কারণে তোপের মুখে পড়া দুবে সে সময় বলেছিলেন, ‘এটা স্রেফ ভালোবাসার জয়।’ এ তো শুধু বিয়ে, সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে ক্রিকেট ছাপিয়ে ধর্ম সামনে চলে আসে। কপালে তিলক না লাগানোয় কটাক্ষ শুনতে হয় মোহাম্মদ সিরাজদের। পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সামনে জোরেশোরে চিৎকার করে বলা হয়, ‘জয় শ্রী রাম।’ তবে ক্রিকেটাররা এখানে ভিন্ন। হাশিম আমলাকে প্রায়ই দেখা যেত বিমানে কুরআন শরিফ পড়ছেন। রিজওয়ানকে মাঠে যেকোনো পরিস্থিতিতে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
ভারতের ক্রিকেটে একটা কথা প্রচলিত আছে, ‘ভারতীয় দল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এটি ভারতের দল।’ রিজওয়ান—আমলাদের মতো ভারতের ক্রিকেটারদেরও নানা সময়ে ধর্মচর্চা করতে দেখা যায়। রোহিত শর্মা-কুলদীপ যাদবদের সেই ধর্মবিশ্বাস নিয়েই আজকের আয়োজন।
রোহিত শর্মা : ভারতের নাগপুরে তেলেগু ভাষাভাষী পরিবারে জন্ম রোহিতের। পুরো নাম রোহিত গুরুনাথ শর্মা। বাবা গুরুনাথ শর্মা ও মা পূর্ণিমা শর্মা। মুম্বাইয়ে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ শেষে বৃত্তি নিয়ে বরিবালী স্বামী বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াকালেই স্কুলের ক্রিকেট কোচ দীনেশ ল্যাডের দৃষ্টিতে পড়েন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প বয়সেই যেসব রেকর্ড নিজের ঝুলিতে ভরে নিতে পেরেছেন, তাতে ইতিহাসই এখন তার পেছনে ছুটছে।
রোহিতের স্ত্রী ঋতিকা সাজদে খুব সংস্কারবাদী। তামিম ইকবালের সঙ্গে লাইভে একবার রোহিত বলেছিলেন, ‘আসলে আমার স্ত্রী খুব সংস্কারবাদী। অনেক আজব আজব নিয়মে বিশ্বাস করে সে। সে মনে করে, খেলার সময় যে যেখানে বসে, সেখান থেকে নড়লেই দলের অমঙ্গল হয়। তার সঙ্গে যারা খেলা দেখতে বসে, তাদেরও উঠতে দেয় না সে। আমার বা আমার দলের অমঙ্গল হবে এই ভেবে এ কাজ করে সে। সেদিন নাফিস ইকবাল ভাইকেও সে কারণেই উঠতে দেয়নি ঋতিকা।’
বিরাট কোহলি : ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের ওপর ধুন্ধুমার তোপ দাগা কোহলি বেশ ধার্মিক। নিজের ধর্ম তো বটেই, অন্য ধর্মের প্রতিও তার অগাধ সম্মান। প্রায়ই তোপের মুখে পড়া সিরাজ কিংবা শামির পাশে দাঁড়ান কোহলি। একবার তিনি ইনস্টাগ্রামে শিখদের মতো পাঞ্জাবি ও মাথায় পাগড়ি পরে ছবি দিয়েছিলেন। জাঁদরেল গোঁফ তো আছেই। সঙ্গে জোড়হাত করা। এর মাধ্যমে শিখগুরু নানকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি।
কোহলি মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী। প্রায়ই তাকে তার স্ত্রী ও বলিউডের অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকেসহ মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় দেখা যায়। তারা নানা ধরনের সামাজিক সংস্কারমূলক কাজও করেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে কোহলি ও আনুশকা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা কাহলিল গিবরানের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি একসঙ্গে কাজ করার। আমরা শিবার মাধ্যমে যত বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব সেটার চেষ্টা করছি। কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে এবার কাজ করব না; সমাজের ভালোর জন্য, মানবিকতার জন্য কাজ করব।’
কুলদীপ যাদব : ভারতের অন্যতম স্পিনার কুলদীপ ধার্মিক মানুষ। বাঁহাতি স্পিনারকে প্রায়ই মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় দেখা যায়। জগন্নাথ রথযাত্রার সময় বৃন্দাবনে ধর্মীয় পরিবেশে কুলদীপ তার দৃঢ় বিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছিলেন। ভারতের দলে তার মতো কেএল রাহুলও বেশ ধার্মিক। সবশেষ তিনি ও তার স্ত্রী আধিয়া শেঠিকে একটি মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় দেখা গেছে। বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে দুজনে লম্বা সময় পুজো সেরে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।
মোহাম্মদ শামি : কিছু কিছু ঘটনা মানুষের জীবনে ‘গভীর দাগ’ কেটে যায়, যেগুলো চাইলেই ভোলা যায় না৷ মোহাম্মদ শামির বেলায়ও হয়েছে ঠিক তেমনই। দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চার মাস পেরিয়ে গেছে ঠিকই। কিন্তু ভারতীয় পেসার তা ভুলতে পারছেন না কিছুতেই। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় পেসার বলেছেন, ‘এমন কুৎসিত রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। যারা ধর্ম নিয়ে অবমাননা করে, তারা প্রকৃত ভারতীয় নয়। তারা কখনোই ভারতীয় ক্রিকেটের ভক্ত-সমর্থক হতে পারে না।’
মনেপ্রাণে ইসলাম ধর্ম মানা শামিসহ প্রায় সব মুসলিম ক্রিকেটারকে ধর্ম নিয়ে দুয়ো শুনতে হয়। এমনও হয় যে, তাদেরকে ‘পাকিস্তানের গুপ্তচর’ বলে গালি দেওয়া হয়। তবে শামিরা এসব ভুলে সবশেষে বলেন, ‘আমরা ভারতের ক্রিকেটার।’