প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:২৪ এএম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৪:৪৯ পিএম
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ৪৬তম ওভার চলছে তখন। দ্বিতীয় বল করতে আসা হাসান মাহমুদ রান আপ নিয়ে দৌড়ে এসে বল না করে ভেঙে বসলেন স্টাম্প। তবে তা ব্যাটিং প্রান্তের নয়, বোলিং প্রান্তের। সঙ্গে সঙ্গে পুরো দলের ‘মানকাডিং’-এর আবেদন। দুই আম্পায়ার আলোচনা করে সিদ্ধান্তটা পাঠালেন টিভি আম্পায়ারের কাছে।
রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার নিতিন মেনন জানিয়ে দেন ইশ সোধি আউট। কারণ অ্যাকশন শেষ করেই বলটা স্টাম্পে লাগিয়েছেন হাসান। ‘ইতি’ঘটে যায় ইশ সোধির ইনিংসের। ব্যাট দিয়ে ‘হাততালি’র মতো কিছু একটা বোঝালেন, হাঁটতে লাগলেন সাজঘরের দিকে। পুরো বাংলাদেশ দল তখন খানিকটা উৎসবের আমেজে।
তখনই অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্স! বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস এগিয়ে এলেন। হাসান মাহমুদের সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন আবেদন প্রত্যাহারের। আউট হয়েও নট আউট ইশ সোধি! ক্রিজে ফেরার পথে জড়িয়ে ধরেন হাসানকে। তাদের দুজনের ওই ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রশংসা কুড়ান হাসান মাহমুদ।
ওই সিদ্ধান্তে অবশ্য বাংলাদেশের লাভ নয় বরং হয়েছে ক্ষতিই। মানকাড না হলে ৩৫ নয় ১৭ রানে থামতে পারত সোধির ইনিংস। হাসানের বলে সোধি মানকাড হয়ে যখন প্যাভিলিয়নের পথে তখন তার রান ১৭। লিটন-হাসানের সিদ্ধান্তে ফেরার পর সোধি দেখান তার আরও আগ্রাসী রূপটা। নিজের নামের পাশে যোগ করেন আরও ১৮ রান।
তিন ছক্কায় ওই ১৮ রান পূর্ণ করেন এই কিউই স্পিনার। খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগ পর্যন্ত সোধি আউট হন ৩৫ রানে। সেবার সোধিকে আউট করতে বাংলাদেশকে নিতে হয় একটি রিভিউও। অথচ এই সোধি আউট হতে পারতেন ব্যক্তিগত ১৭ রানেই।
লিটন ‘স্পিরিট’দেখালেও আদতে সেটা আউট। অন্তত ক্রিকেটের আইন তো তা-ই বলছে! আগে মানকাড হিসেবে বিবেচিত হতো নন-স্ট্রাইকার প্রান্তের ব্যাটারকে আউট করার বিষয়টি। এখন এটাকে বিবেচনা করা হয় স্পষ্ট রানআউট হিসেবে। ২০২২ সালে এই আইনে পরিবর্তন আনে ক্রিকেটের নিয়ম প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান এমসিসি।
আগে ৪১ নম্বর আইনের অধীনে মানকাডকে ধরা হতো অন্যায্য সুবিধা নেওয়া হিসেবে। আইন পরিবর্তনের পর মানকাডকে ধরা হয় স্বাভাবিক রানআউট হিসেবেই। ক্রিকেটের ৩৮ নম্বর আইন অনুযায়ী অন্যান্য রানআউটের মতো মানকাডও এখন রানআউট।
আইন পরিবর্তনের সময় এমসিসির আইন প্রণয়ন কমিটির ম্যানেজার ফ্রসার স্টুয়ার্ট বলেন, ‘নন স্ট্রাইকার প্রান্তের ব্যাটারদের আউট করার সময় বোলারদের সব সময় অপরাধী বিবেচনা করা হয়। যেসব ব্যাটার আগেই পপিং ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এগিয়ে যায়, তারাও তো বাড়তি সুবিধা নিয়ে চুরিই করে।’ তিনি আরও বলেন, এখন থেকে এটা (মানকাড) বৈধ। এটা রানআউট।