প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:৩৭ এএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০০:৪১ এএম
ক্রিকেটটা ভালো খেললেই চলে না আজকাল। নির্ভুল অঙ্ক কষাটাও জানতে হয়। মাঠের পারফরম্যান্স আর হিসাব ঠিকঠাক হলে মেলে দারুণ কিছু। অন্যথায় হাতের মুঠোয় থাকা জয় আর সামনে এগিয়ে টিকিট দুটোই ছিনিয়ে নেয় প্রতিপক্ষ। যার উজ্জ্বল উদাহরণ শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচ।
আরও পড়ুন : গ্রেপ্তার শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার
সুপার ফোরে ওঠার সুযোগ থাকলেও সেটা জানতেন না আফগান দলের কেউ। না অ্যানালিস্ট, না জানতেন কোচ, না জানতেন ক্রিকেটার বা টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ। পুরোটাই হিসাবের ভুল। যে কারণে চড়া মূল্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হাতছাড়া করেছেন রশিদ খানরা এশিয়া কাপের সুপার ফোরের টিকিট।
নেট রান রেটের হিসাবটা জানা ছিল না আফগানিস্তানের। ম্যাচ শেষে সেই সমীকরণ না জানার কথা স্বীকার করেন আফগান প্রধান কোচ জনাথন ট্রট। বলেন তারা শুধু ৩৭.১ ওভারে ২৯২ রানের লক্ষ্যের কথাই জানতেন, ‘আমাদের হিসাবগুলো সম্পর্কে জানানো হয়নি। আমরা যা জেনেছি, তা হলো আমাদের ৩৭.১ বলের মধ্যে জিততে হবে। আমাদের বলা হয়নি কত ওভারের মধ্যে আমরা ২৯৫ বা ২৯৭ রান করলেও হবে। ৩৮.১ ওভারের মধ্যে জয়ের বিষয়টি আমাদের কখনোই বলা হয়নি।’
সুপার ফোরে উঠতে মরিয়া হয়েই ব্যাট চালিয়েছে আফগানিস্তান। চেষ্টার কোনো ত্রুটি না থাকলেও ৩৭.১ ওভারে ২৯২ রানের বিশাল স্কোর ছুঁতে পারেননি আফগানরা। ৩৮তম ওভারের প্রথম বলে দরকার ছিল ৩ রান। সমীকরণটা মেলেনি। তবে এখানেই অবশ্য সব শেষ হয়ে যায়নি। সুপার ফোরে ওঠার আরও একটি সুযোগ ছিল আফগানিস্তানের সামনে।
৩৭.১ ওভার শেষে পরের ৩ বলে দরকার ছিল একটি ছক্কা। ৬ রান হলে স্কোর হতো ২৯৫। এমনকি ২৯১ রান তুলে স্কোর টাই করে ছক্কা মেরে জেতার সুযোগ ছিল ৩৮.১ ওভার পর্যন্ত। আর এটা হলে আফগানিস্তান উঠে যেত এশিয়া কাপের সুপার ফোরে। আর শ্রীলঙ্কা পুড়ত হৃদয় ভাঙার কষ্টের আগুনে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার উল্টো! আফগানরা ৩৭.৪ ওভারে ২৮৯ রানে অলআউট হয়ে করছেন আফসোস। লঙ্কানরা মেতে আছেন ২ রানে পাওয়া জয়ের উৎসবে।
কিন্তু শেষের সমীকরণটা জানা ছিল না শেষ মুহূর্তে ক্রিজে থাকা আফগান ক্যাপ্টেন রশিদ খানের। তার জানা ছিল কেবল ৩৭.১ ওভারে ২৯২ রান করতে হবে। ৩৮তম ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা মারলেও মিলত সুপার ফোরের টিকিট। কিন্তু সেটা না জানার কারণে ৩৭.১ ওভার শেষে লক্ষ্য ছুঁতে না পেরে হতাশ হয়ে ব্যাট ধরে ক্রিজে বসে পড়েন রশিদ। তার মতো শেষের আরেক ব্যাটার ফজলহক ফারুকিও ভেবেছিলেন সব হয়ে গেছে ৩৭.১ ওভারেই। রান রেটের হিসাব না জানায় ফারুকি ফুলটস বল ঠেকিয়েছেন।
রশিদ নিজে শেষের সমীকরণটা জানতেন না। ড্রেসিংরুম থেকে তাকে জানাযননি কেউ। ভুলটা আসলে আফগান টিম অ্যানালিস্টের। তিনি ব্যাপারটা দলকে জানালে ফল অন্যরকম হলেও হতে পারত। আর ছক্কা হলেই ম্যাচ জয়ের সঙ্গে নেট রান গড়েও শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলত তারা এবং কোয়ালিফাই করত সুপার ফোরে।
এ ভুলের মাশুল গুনেই আফগানিস্তান ম্যাচ হেরেছে। বিদায় নিয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। কিন্তু এখন তো সব শেষ! সন্দেহ নেই এ আক্ষেপ দীর্ঘদিন পুড়িয়ে যাবে আফগানদের।