প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১২:১৬ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ১৬:০৯ পিএম
ব্যাটে-বলের লড়াই যেন একেকটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের সমাধান একটাই— জয়। আজ সেই লড়াইয়ে গড়াচ্ছে ছয় দলের আসর
আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে এশিয়া কাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজকের মর্যাদা প্রথমবার পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৮৬ সালে গোঁ ধরে বসেছিল ভারত। লঙ্কান বোর্ডের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের জেরে বয়কট করেছিল এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ। সেই দ্বন্দ্ব এতদূর গড়িয়েছিল যে পরের আসরের দায়িত্ব এসে পড়েছিল নবাগত বাংলাদেশের কাঁধে। ১৯৮৮ সালের পর ২০০০ সাল, এরপর তিনবার— ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৬ সাল। উটকো দ্বন্দ্ব, বাণিজ্যিক অজুহাত কিংবা অংশগ্রহণকারী অন্য দেশগুলোর অনীহা অথবা উপমহাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বারবারই অনিয়মিত হয়ে পড়া আসরটি যেন বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ।
২০১০ থেকে ২০২০— এই ১০ বছরে এশিয়া কাপের কয়েকটি আসর নতুন রূপ পেয়েছে। দ্বন্দ্ব, চাওয়া এবং আগ্রহ যেন এক বিন্দুতে মিলেছে। আগের ১০ বছরে তিনটি ‘মৃতপ্রায়’ প্রতিযোগিতাও প্রাণ পায় ২০১২ সালের পর থেকে। ত্রাতা হয়ে আবারও দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এরপর এশিয়া কাপের খেলা মানে ভারত-পাকিস্তানের স্নায়ুচাপের লড়াইয়ের মঞ্চ, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার উত্তেজনা ছাড়ানো কিংবা পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মাথা না নোয়াবার ম্যাচ। ব্যাটে-বলের লড়াই যেন একেকটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধের সমাধান একটাই— জয়। এশিয়া কাপ মানেই নেহাৎ ২২ গজের ক্রিকেট লড়াই নয়, এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানাবিদ দ্বন্দ্ব, উত্তাপ, বিতর্ক, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবেগের অনুরণ ইত্যাদি।
সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই আলোচনায় ‘নাগিন ড্যান্স’। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপ, চলে কথার লড়াই, তর্কের ছোড়াছুড়ি, কে এগিয়ে— সেই নিয়েও চলে বিস্তর শব্দের কাটাকুটি। নিদাহাস ট্রফিতে মাহমুদউল্লাহর ছক্কা হাঁকিয়ে জয় পাওয়ার দিনটির রেশ এখনও চলছে। সেবার মাঠজুড়ে নাগিন ড্যান্স করেছিল টাইগাররা। ড্রেসিংরুমে ভাঙচুর করার অভিযোগও উঠেছিল সাকিবদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিবও তেতে গিয়েছিলেন নো বল বিতর্কে। মাঠ থেকে খেলোয়াড়দের ফিরে আসতে নির্দেশ দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সেই থেকে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ মানেই অন্যরকম দ্বৈরথ-উত্তেজনা। নাগিন ড্যান্স, দরজা ভাঙার পর এবার বিশ্বকাপের আগের দেখায় নতুন আর কি মেলে? মূল পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে আরেকবার টাইগাররা নাচতে চাইবেন ‘নাগিন ড্যান্স’, এশিয়া কাপে এবার আরেকবার সেটি রুখতে চাইবে লঙ্কানরা।
পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা এশিয়া কাপ ভাগ্যের জট খুলেছে হাইব্রিড মডেলে। পাকিস্তানে গিয়ে ভারত খেলবে না বলেই নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় গড়াবে ভারতের সব ম্যাচ। এর আগে অবশ্য গোঁ ধরে বসেছিল পাকিস্তান। ভারত যদি পাকিস্তানে না যায় তাহলে বিশ্বকাপে দল পাঠাবে না পিসিবি। এরপর নানা কথা, কত আলোচনা। অবশেষে নতুন মডেলের এশিয়া কাপে সমাধান। এই প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ হচ্ছে দুদেশে। পাকিস্তানের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি এটাকে অপমান হিসেবেই দেখছেন। বিশ্বকাপের আগে এই আসরের কাপ ঘরে আনাকেই বাবরদের জন্য বেঁধে দিয়েছেন বদলা হিসেবে।
এশিয়া কাপে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি লড়াই মানে উত্তেজনার পারদ চাপানো। এবারের এশিয়া কাপের ফরমেট জানাচ্ছে পুরো টুর্নামেন্টে তিনবার মুখোমুখি হতে পারে ভারতÑপাকিস্তান। তবে শর্ত হলো এই দুই দলকে সেক্ষেত্রে ফাইনালে উঠতে হবে। এবার একই গ্রুপে রয়েছে এই দল। সেখানে একবার দেখা হবে। তারপর সুপার ফোরে উঠলে সেই পর্বে আরেকবার মুখোমুখি। আর ১৭ সেপ্টেম্বরের ফাইনালে এই দুদল খেললে একই টুর্নামেন্টে তিনবার মুখোমুখি হবে তারা।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়ার বদলা নিতেও বদ্ধপরিকর এবার রোহিত-কোহলির ভারত। সেই সঙ্গে এশিয়ার সেরা হয়ে সেরে নিতে চান বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও। তাই লড়াইটাও এবার জমবে বেশ।
বিশ্বকাপে হেডিংলি স্টেডিয়ামে সেবার এক কাণ্ডই বাধিয়ে বসেছিলেন আফগান সমর্থকরা। রশিদ খানরা যখন পাকিস্তানের কাছে হেরে গেল ঠিক তখন বেশ কয়েকজন দর্শক ঢুকে পড়ল মাঠে। নিরাপত্তা নিয়ে মাঠ ছাড়ল দুই দল। ততক্ষণে যা হওয়ার তাই ঘটে গেছে। দুই পক্ষের সমর্থকদের একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতি গড়াল ভয়ানক মারামারিতে। বোতল ছোড়াছুড়ি, আবর্জনা ফেলার পাত্র ছোড়া কিংবা চেয়ার দিয়ে পাকিস্তানিদের পেটানো। সবই যেন আসিফ আলীর চোখে চোখ রেখে লড়া ফজল-হক ফারুকির অগ্নিদৃষ্টির বহিঃপ্রকাশ।
সেই লড়াই এখনও চাঙ্গা। কদিন আগে শ্রীলঙ্কায় হওয়া আসরেও সেই আগুনে লড়াই জারি ছিল। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব আফগানিস্তান পেরোতে না পারলে যদিও মুহূর্তেই রঙ চড়ানো লড়াই দেখার ফুরসত মিলবে না। তবে নিরাপত্তা ইস্যুকে হুমকিতে ফেলে দেয় এমন লড়াই হয়তো কেউ চাইবে না। এশিয়া কাপের আগে এই দুই দল দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল। যে লড়াইয়ে ৩-০ তে পাকিস্তান পরিস্কার দাপট দেখিয়েছে।