প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ০৯:২৯ এএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩ ০৯:৩৭ এএম
বুয়েনস আয়ার্স থেকে ৯০০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ আটলান্টিকের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বন্দরনগরী ভিয়েদমা, যা আবার আর্জেন্টিনার রিও নেগ্রো প্রদেশের রাজধানীও। সেই শহরই হচ্ছে জামাল ভূঁইয়ার পরবর্তী গন্তব্য, শহরটির ক্লাব সোল দে মায়োর সঙ্গে চুক্তি সই করে ফেলেছেন যে!
এই চুক্তি সই করতে জামালকে অবশ্য কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি। বছরের শুরুতে সোল দে মায়োর সঙ্গে চুক্তিটা প্রায় হয়েই গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে এসে বাদ সেধেছিল তার ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। তবে এবার ঠিকই সেই আর্জেন্টাইন ক্লাবের সঙ্গেই চুক্তি সই করলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক।
গতকাল শুক্রবার নতুন ক্লাবে মেডিকেল পরীক্ষা হয় তার। সে বিষয়টি তিনি নিজেই প্রকাশ করেছেন ফেসবুক পাতায়। এক ভিডিওতে দেখা যায় পরীক্ষা চলছে, তার ক্যাপশনে তিনি জানান- ‘নতুন ক্লাবে মেডিকেল পরীক্ষা।’
আর্জেন্টাইন ফুটবলের শতবর্ষ পুরোনো ক্লাব সোল দে মায়ো। তবে বর্তমানে ক্লাবটি খেলছে আর্জেন্টাইন তৃতীয় বিভাগে। এর আগে সোল দে মায়োর টুইটারে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয় ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তিটা প্রায় হয়েই গেছে। সে ভিডিওতে জামাল জানান, ‘সোল দে মায়োকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর আমি।’ ক্লাবটিতে নতুন দিনের সূচনায় আশাবাদও ব্যক্ত করেন জামাল।
তবে এরপরই তার বাংলাদেশের ক্লাব আপত্তি জানায়। প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে ক্লাবটির এক কর্মকর্তা জানান, গেল মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই তাকে নতুন চুক্তিতে সই করিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।
তবে শেষমেশ জামাল আর্জেন্টিনাতেই গেছেন। গত বৃহস্পতিবার আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সামনে একটি ছবি দিয়ে তিনি তার ফেসবুকে লেখেন, ‘আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময় এখন। আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।’ তারও আগে তিনি আর্জেন্টিনা যাত্রার বিষয়টিও জানান ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায়।
এরপর গতকাল তিনি জানান তার মেডিকেলের বিষয়টি। নতুন ক্লাবটি সোল দে মায়ো নাকি অন্য কোনো ক্লাব হতে চলেছে, তেমন কিছু তখন পর্যন্ত তার কোনো পোস্টেই পরিষ্কার করেননি জামাল।
তবে তিনি যে খেলতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগে, সেটা নিয়ে বাফুফেও অবগত ছিল না কাল পর্যন্ত। শেখ রাসেলও ছিল বাফুফের মতো অন্ধকারেই। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের এই দলের দাবি, আসছে মৌসুমেও তিনি এই ক্লাবের হয়ে খেলবেন বলে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ফর্মে অবশ্য তার কোনো সই হয়নি। তিনি ক্লাবের স্ট্যাম্পে সই করেই পাড়ি জমিয়েছিলেন ডেনমার্কে। সেখান থেকে এবার আর্জেন্টিনায়।
তবে সবশেষ কার্যদিবস পর্যন্ত বাফুফের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র পাননি তিনি। তা ছাড়াই সোল দে মায়োতে গেলেন জামাল। অনাপত্তিপত্র যদি শেষমেশ না-ই মেলে, তাহলে চুক্তি সই করলেও খেলতে পারবেন না তিনি। সঙ্গে শেখ রাসেল কর্তৃপক্ষও কড়া পদক্ষেপের আভাস দিচ্ছে। ক্লাবটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা আমাদের ব্যবস্থা নেব। তাকে ডেকে পাঠাব। নিয়ম-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। না হলে আইন অনুযায়ী যা হওয়ার হবে। এরপর যদি সে যেতে পারে, যাবে।