নেয়ামত উল্লাহ
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ১১:২৭ এএম
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩ ১১:৫২ এএম
‘আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না যে, আমরা এখনও পথ প্রদর্শক আর আমাদের যাত্রাটা স্রেফ শুরু হলো। অতীত সাফল্যগুলোই আমাদের সেরা সাফল্য হয়ে থাকতে পারে না। আমাদের ভাগ্য সামনে অপেক্ষা করছে।’ ইন্টারস্টেলার সিনেমার ডক্টর কুপারের দীর্ঘ সে স্বগতোক্তিটা মনে আছে? ‘প্রায় অসম্ভব’ নতুন বাসস্থানের খোঁজে যখন পৃথিবী ছাড়ছেন কুপাররা, তখন সিনেমার প্রধান প্রোট্যাগনিস্ট তিনি বলছিলেন সে কথা। যে অর্জনের কথা ভাবেনি কেউ, বরং কুতর্ক বলে উড়িয়ে দিয়েছিল অনেকে, সে অর্জনের হাতছানি যে ছিল সামনে!
ওই কুপারের জায়গায় এবার আপনি ভাবুন বসুন্ধরা কিংস কোচ অস্কার ব্রুজনের কথা, কিংবা ক্লাবটার অন্য যে কাউকে ভাবলেও ক্ষতি নেই। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা যে এখন তেমন এক ইতিহাসের দুয়ারেই দাঁড়িয়ে! যে মঞ্চে নামতে যাচ্ছে দলটা, সে মঞ্চ যে দেশের ফুটবলের ইতিহাসেই ছোঁয়া হয়নি কখনও!
আজ রাতে স্বাগতিক শারজাহ এফসির বিপক্ষে যখন বসুন্ধরা নামবে শারজাহ স্টেডিয়ামে, ইতিহাসটা গড়া হয়ে যাবে তখনই। বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ক্লাব হিসেবে তারা নামবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে।
বসুন্ধরা তো বটেই, দেশের ফুটবলের জন্যই নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে আজ। মুদ্রার উল্টোপিঠে দেখলে কিন্তু ম্যাচটা নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের মঞ্চও, বসুন্ধরার, সঙ্গে বাংলাদেশেরও। ক্লাব পর্যায়ে মহাদেশীয় মঞ্চে দেশীয় কোনো দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার ইতিহাসটা এখন পর্যন্ত আবাহনী লিমিটেডের। ২০১৯ সালে এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে খেলেছিল দলটা। বসুন্ধরা মাঠে নামলেই আজ টপকে যাবে সে কীর্তিটা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চ মানে সর্বোপরি ম্যাচের মান আর তীব্রতাটাও বেড়ে যায় কয়েক ধাপ। এই মঞ্চটাই তো বাংলাদেশের যেকোনো ক্লাবের জন্য অচেনা। তপু বর্মণ যেমন এক আলাপচারিতায় বললেন, ‘অনেক বড় বড় খেলোয়াড় খেলে, অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে এখানে... ঘরোয়া ফুটবল বা এএফসি কাপে আমরা সুযোগ পাই, ভুল করলে তা পুষিয়ে দেওয়ার মতো সময় পাই, এটা এখানে পাওয়া সম্ভব না।’
কোচ অস্কার ব্রুজন সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা আঁচ করতে পারছেন দলের অ্যাপ্রোচে। ঘরোয়া ফুটবল হোক বা এএফসি কাপে, বসুন্ধরা এতদিন মাঠে নেমেছে শ্রেয়তর দল হিসেবে। সেখানে আজকের লড়াইটা রীতিমতো ডেভিড-গোলিয়াথের, যেখানে পুঁচকে ডেভিড হচ্ছে বসুন্ধরা। এখানে দলের করণীয় কী? জবাবে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বসুন্ধরা কোচ বললেন, ‘আমরা সবসময় মাঠের শ্রেয়তর দল হিসেবে খেলি, আধিপত্য বিস্তার করি, প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করি। কিন্তু শারজার ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, কারণ বিপিএল-এএফসি কাপের চেয়ে এবার আমাদের প্রতিপক্ষ অনেক বেশি আলাদা।’
প্রতিপক্ষ যখন শারজাহ, তখন তাদের দলে থাকা মিরালেম পিয়ানিচ, পাকো আলকাসের আর কস্তাস মানোলাসদের নিয়ে আলোচনা হবে না, তা কী করে হয়! ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ স্তরে খেলেছেন তারা, গড়েছেন অনেক ইতিহাসও। কোচ অস্কার জানালেন, তাদের রোখার পরিকল্পনা তো আছেই, সঙ্গে অনেক কিছু নিয়েই ভাবতে হচ্ছে তাকে। তার ভাষ্য, ‘তাদের সব বিভাগেই সেরা কিছু খেলোয়াড় আছে, স্কোয়াডের গভীরতাও অনেক ভালো। তাদের মূল খেলোয়াড়দের প্রতিরোধ তো আছেই, তাদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়ার জন্য, আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার জন্য আমাদের আরও অনেক বিষয় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।’
বড় মঞ্চে এসে খেলোয়াড়রাও মুখিয়ে আছেন দারুণ কিছুর জন্য। অস্কার জানালেন, ‘দারুণ কিছু করে দেখাতে খেলোয়াড়রা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সুযোগ বোঝা ও তা কাজে লাগানোটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে এই ম্যাচে।’ শেষ তিন সপ্তাহ ধরে এই দারুণ কিছুর পরিকল্পনাই তো করে আসছে বাংলাদেশি চ্যাম্পিয়নরা। এবার তবে তা মাঠে করে দেখানোর পালা।