প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৩ ১৪:৫৫ পিএম
দুয়ারে কড়া নাড়ছে আর্চারির বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, যা থেকে মিলতে পারে সরাসরি অলিম্পিকে খেলার টিকিট। জার্মানির বার্লিনে এই টুর্নামেন্ট শুরুর আর বাকি মোটে দুই দিন। তার ঠিক এক দিন আগে জার্মানিতে যাচ্ছেন আর্চাররা। আগামীকাল সকালে জার্মানির বিমান ধরবেন দিয়া সিদ্দিকিরা।
আরও পড়ুন : এবার আরও বড় কিছুতে নজর বাংলাদেশের
কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ নিজেও জার্মান। তার ওপর এবারের আসরটা হচ্ছে তার শহর বার্লিনেই। নিজ শহরে ফেরার সুখানুভূতি আছে বটে, কিন্তু কোচ জানালেন, দলকেও যেন নিজ ঘরে আসার অনুভূতি দিতে পারেন, থাকবে সে চেষ্টাটাই। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমার শহরে খেলতে যাবে আমার দল। আমি তাদেরকে সেখানকার আবহাওয়া, কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি, যেন সেখানে গিয়ে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটা সহজ হয় তাদের। আশা করছি বার্লিনে দলকে ভালো ফলাফল পাওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি নিতে এটা সহায়তা করবে।’
বাংলাদেশের মতো জার্মানিতেও সময়টা এখন বৃষ্টির। টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত। তার পুরোটা সময়ই থাকছে বজ্র্য-বৃষ্টির সম্ভাবনা। তবে এখানের সঙ্গে সেখানের বড় পার্থক্যটা হচ্ছে, সেখানকার তাপমাত্রা। বাংলাদেশের ৩৫-এর আশেপাশের তাপমাত্রা থেকে আর্চারদের যেতে হবে ২০-এর আশেপাশের তাপমাত্রায়। তাও আবার টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে।
আরেকটু আগে গেলে যে সুবিধাই হতো খেলোয়াড়দের, তা লুকোলেন না কোচ। তবে পরে বাস্তবতাটাও মেনে নিলেন। বললেন, ‘এটা কোনো গোপন কিছু নয়, কিছু দিন আগে গেলে পুরো দলের জন্যই ভালো হতো। সেখানের পরিবেশ, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, অনুশীলন করার সুযোগ পাওয়া যেত তাহলে। তবে সেটা হচ্ছে না, তাতে খুব সমস্যাও নেই। কারণ, আমরা সেখানে রবিবার দুপুরে গিয়ে পৌঁছাচ্ছি, সোমবার অনুশীলন শুরু করব। তো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা একটা অনুশীলন সেশন পাচ্ছি।’
রিকার্ভ আর কম্পাউন্ড মিলিয়ে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে নিয়ে যাচ্ছে ছয় আর্চারকে। রিকার্ভ বিভাগে নারী প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন দিয়া সিদ্দিকী, পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন সাগর ইসলাম, হাকিম আহমেদ রুবেল, রামকৃষ্ণ সাহারা। আর কম্পাউন্ড বিভাগে দুই প্রতিযোগী আশিকুজ্জামান ও বন্যা আক্তার। বিশ্ব আর্চারি এখনও রোমান সানার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি, যার ফলে এই সফরেও তাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ।
তাকে ছাড়া আর্চারিতে বাংলাদেশের আশাটাও যেন খানিকটা ফিকে। কোচের কথাতেই সেটা স্পষ্ট। তিনি জানালেন, এবারের যাত্রায় বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। কারণটা অবশ্য পরিষ্কার, দিনে দিনে প্রতিযোগী বাড়ছে, বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও। তার ওপর রোমানও যে নেই!
আর্চারদের অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে এবার। আগে নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতার শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারলেই মিলত অলিম্পিকের টিকিট। এখন সেটা পেতে নিদেনপক্ষে ব্রোঞ্জ জিততেই হবে। আপাতদৃষ্টিতে এ থেকে খানিকটা নিচেই লক্ষ্য বাংলাদেশের।
তবে এবার না হলেও শিগগিরই সম্ভাবনাটা বাড়বে দলের। কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ জানালেন, ‘বাস্তবতার বিচারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে পদক জেতাটা কঠিন, এশিয়ান গেমসেও তাই। তবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আর ফাইনাল কোয়ালিফিকেশন টুর্নামেন্টে সম্ভাবনা আছে। টুর্নামেন্ট থেকে টুর্নামেন্টে কাজটা সহজ হতে থাকবে। প্রত্যেক টুর্নামেন্টেই আমাদের বড় লক্ষ্য থাকবে, চেষ্টা থাকবে পদকের, অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার। তবে আমার মনে হয় শেষ দুটো টুর্নামেন্টে আমাদের সম্ভাবনাটা বাড়বে।’