প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৪:৩৭ পিএম
ইংলিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছিলেন, ব্যাটিং কিংবা বোলিং- ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই বিভাগেই ধুঁকছিল প্যাট কামিন্সের দল। ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছিল মূলত বৃষ্টিই।
আরও পড়ুন : ক্যানসার জয়ী লিন্ডার স্বপ্নের অভিষেক
চতুর্থ টেস্টের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের খেলা প্রায় পুরোটা ভেসে যাওয়ার সঙ্গে বেন স্টোকসদের সিরিজ জয়ের আশাও শেষ হয়ে যায়। এবার দ্য ওভালে জয়ে শেষ চায় স্বাগতিকরা, শেষটা জিতে সমতায় থাকতে চায় ইংলিশরা। সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার চাওয়া সেখানে সিরিজ জিতেই ‘ছাইদানি’ দখলে নেওয়ার।
আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় শুরু হওয়া লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের পাওয়ার এখনও অনেক কিছু আছে, হারানোরও আছে অনেক। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ম্যানচেস্টারে ফল তাদের পক্ষে না আসায় সিরিজ জয়ের আশা এবারের মতো শেষ। ওভাল টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন। সিরিজে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া শেষ ম্যাচে পাবে ফেরার সুযোগ। ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকা অজি অধিনায়ক তাই শেষটা নিজেদের পক্ষে নিয়ে সিরিজ জিতেই বাড়ি ফিরতে চান। অজি অধিনায়কের চোখ তাই স্রেফ জয়ে, ‘অনেক বড় ম্যাচ এটা। যদি আমরা জিততে পারি তাহলে পুরোনো স্মৃতি মনে করতে পারবেন। এটা সত্যিই দুর্দান্ত একটা সফর হবে- ইংল্যান্ডে পাঁচটি ম্যাচ খেলব, তিনটিতে জিতব আর একটিতে হারব। তবে আমরা জিতেই দেশে ফিরতে চাই। আগেও বলেছি, এখানে আসার একমাত্র লক্ষ্য ছিল অ্যাশেজ সিরিজ জেতা। আমাদের সামনে সেটির সূবর্ণ সুযোগ।’
ম্যানচেস্টার টেস্টের আগে বেন স্টোকস বলেছিলেন, ‘ড্রর চিন্তা মাথায়ও নেই।’ সেই কথার পাল্টা তীর অজি অধিনায়ক ছুড়েছিলেন, ‘ফল আর ঝুলিয়ে রাখতে চাই না। ম্যানচেস্টারে জিততে চাই।’ টেস্টটি মূলত জিতেছে বৃষ্টি। তবে সাদা চোখের বিচারে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে যোজন এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। মোদ্দাকথা সিরিজে ২-২ সমতাও আনার পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন স্টোকসরা। বৃষ্টি সেটি হতে দেয়নি। সেই আক্ষেপ থাকলেও অভিযোগ নেই ইংলিশ অধিনায়কের। ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেলা ড্র হওয়ায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে অ্যাশেজ তাই ধরে রাখছে অস্ট্রেলিয়া। ওভালে শেষ টেস্ট ইংল্যান্ড জিতলে সিরিজ শেষ হবে ২-২ সমতায়। তবে ২০২১-২২ মৌসুমে ঘরের মাঠে অজিরা ৪-০ ব্যবধানে জেতায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাছেই থাকবে ট্রফি। এহেন বাস্তবতায় চরম হতাশ স্টোকস, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন। তেতো বড়ি হজম করতে হচ্ছে। আমরা পুরোপুরিভাবে দাপটের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার করছিলাম।’ কিন্তু অজিদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে জয়ের বিকল্প দেখছেন না স্টোকস, ‘শেষ টেস্ট আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জিতে সিরিজ শেষ করতে চাই। তাই জেতার মানসিকতা নিয়েই নামব। আশা করি দর্শকদের সমান সমর্থন আমরা পাব।’
ইংলিশ অধিনায়ক তাই নতুন কাউকে বাজিয়ে দেখতে চান না। চতুর্থ টেস্টের একাদশ নিয়েই নামবেন এবারের অ্যাশেজের শেষ ম্যাচে। কিংবদন্তি না হওয়া গেলেও শেষটি জিতে ফল সমান রাখতে বদ্ধপরিকর স্টোকস। তবে কামিন্স সতর্ক আছেন ২০১৯ সালের সিরিজের কথা মাথায় রেখে। বোলিং-ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা অজিরা নতুন কাউকে বাজিয়ে দেখতে পারেন। বদল আসতে পারে ব্যাটিং অর্ডারেও। চার বছর আগে ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজেও এমনটি হয়েছিল। শেষ ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ড ড্র করেছিল সিরিজ। এবার অন্তত সেটি হতে দিতে চান না কামিন্স। জিততে চান এবং সিরিজও নিজেদের করতে চান। সেখানে হারতে নারাজ স্টোকসরাও।
ইংল্যান্ড একাদশ : বেন ডাকেট, জ্যাক ক্রলি, মঈন আলি, জো রুট, হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকস (অধিনায়ক), জনি বেয়ারস্টো, ক্রিস ওকস, মার্ক উড, স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসন।
অস্ট্রেলিয়া দল : প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), ক্যামেরন গ্রিন, মার্কাস হ্যারিস, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিশ, উসমান খাজা, মার্নাস লাবুশেন, টড মারফি, মাইকেল নেসার, ম্যাথিউ রেনশ, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক ও ডেভিড ওয়ার্নার।