প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৩ ১৪:১২ পিএম
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৩ ১৪:১৭ পিএম
ফরাসি ওপেনের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুজন। ফিলিপে শাতিয়েঁর কোর্টে জমাট লড়াই অবশ্য হয়নি, খেলার মাঝেই চোট পেয়ে যান কার্লোস আলকারাজ। বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকাকে সেই ম্যাচে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত গ্র্যান্ড স্ল্যামটাও জিতে নিয়েছিলেন নোভাক জোকোভিচ।
টেনিস কিংবদন্তি সবাইকে ছাপিয়ে গড়েছিলেন অন্যতম কীর্তি। এবার আবারও মুখোমুখি হতে চলেছেন দুজন। উইম্বলডনের ফাইনালে একজন অপেক্ষায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের, অন্যজন নিজেকে আরও ওপরে নেওয়ার।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুইয়ের শিরোপা ফয়সালার ম্যাচ আজ, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় কোর্টে নামবেন সময়ের অন্যতম সেরা দুই টেনিস তারকা। উইম্বলডন জিতে গ্র্যান্ড স্ল্যামে ২৪তম শিরোপা ঘরে তুললে সবকিছুই পাবেন জোকোভিচ। আর মাত্র এক পা দূরে সার্বিয়ান তারকা। রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, জোকোভিচ-পরবর্তী অধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ তারকা হিসেবে যাকে মনে করা হচ্ছে, সেই আলকারাজ অপেক্ষায় ফ্রেঞ্চ ওপেনের বদলা নেওয়ার; নিজের গ্র্যান্ড স্ল্যাম সংখ্যাটাও বাড়িতে নিতে বদ্ধপরিকর ২০ বর্ষী অনবদ্য তারকা।
জোকারের সামনে অনেক কিছু জেতার সুযোগ। রাফায়েল নাদালকে ছাড়িয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যামে সর্বোচ্চ ২৩টি শিরোপা জয়ের রেকর্ড এ বছরই জিতেছেন। উইম্বলডনে টানা পাঁচ শিরোপা জয়, সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অষ্টম শিরোপা জিতে ফেদেরারের রেকর্ড স্পর্শ- এসবের হাতছানি সার্বিয়ান তারকার সামনে।
তবে আরেকটি ফাইনালের আগে আশাবাদী আলকারাজ। জীবনের সেরা মুহূর্ত বলে জানালেন ২০ বছরের স্প্যানিশ টেনিস তারকা আলকারাজ। শুক্রবার আলকারাজ সেমিতে হারিয়ে দেন ২০২১ সালের ইউএস ওপেনজয়ী দানিল মেদভেদেভকে। স্ট্রেট সেটে জয় ছিনিয়ে নেন স্প্যানিয়ার্ড।
শিরোপার লড়াইয়ে নামার আগে আলকারাজ বলছেন, ‘সম্ভবত ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এটি। আমার জীবনের সবচেয়ে স্পেশাল মুহূর্ত। উইম্বলডনের ফাইনাল খেলতে চলেছি। ছোট থেকে এটাই স্বপ্ন দেখতাম যে, আমি উইম্বলডনের মঞ্চে খেলব। আর এবার ফাইনাল খেলতে চলেছি। মুহূর্তটা আরও স্পেশাল, কারণ নোভাক জোকোভিচের বিপক্ষে খেলতে নামছি।’ তবে স্বপ্নটাকে আরেকটু বাড়িয়ে নিতে চান স্প্যানিয়ার্ড, দুর্দান্ত ধারাবাহিক জোকারের বিপক্ষে ঘাসের কোর্টে নামবেন বলেও চাপ নিচ্ছেন না- ‘বেশি চাপ নিচ্ছি না। বেশি উত্তেজিতও হচ্ছি না। নিজের মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। নোভাকের কাছে এটা শুধু আরও একটা টুর্নামেন্ট, আরও একটা ফাইনাল, আরও একটা দিন। আমার কাছে জীবনের স্পেশাল মুহূর্ত।’
আলকারাজ ও জোকোভিচের বয়সের পার্থক্য অনেক। স্পেনের আলকারাজের বয়স মাত্র ২০। সার্বিয়ার জোকোভিচের বয়স ৩৬। ১৬ বছরের পার্থক্য টেনিসে অনেক বেশি। কিন্তু জোকোভিচকে দেখে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। নিজের থেকে ছোট প্রতিদ্বন্দ্বীদের হেলায় হারিয়েছেন। তবে বয়স বেশি হওয়ার সুবিধাও পাচ্ছেন জোকার- অভিজ্ঞতা। এত বছর ধরে এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন। তবুও রেকর্ড গড়ার আগে যেন নিজেকে এখনও তরুণ ভাবছেন জোকোভিচ, ‘৩৬ বছর বয়সকেও মনে হচ্ছে ২৬। নতুন করে অনুপ্রেরণা পাচ্ছি। এই খেলাটা আমাকে ও আমার পরিবারকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই যতদিন সম্ভব খেলে টেনিসকে যতটা সম্ভব ফিরিয়ে দিতে চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস এভার্টকে ছাড়িয়ে রেকর্ড ৩৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠেন জোকোভিচ। শুক্রবার হওয়া সেমিফাইনালে র্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে থাকা ইতালির ইয়ান্নিক সিনারকে প্রথম সেটে ৬-৩ গেমে হারান। দ্বিতীয় সেট ৬-৪ ব্যবধানে জেতেন সার্বিয়ান মহাতারকা। এরপর তৃতীয় সেটে টাইব্রেকারে ৭-৬ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে পা রাখেন রেকর্ড ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী। র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা আলকারাজ আরেক সেমিফাইনালে জিতে কেটেছেন ফাইনালের টিকিট। রাশিয়ার মেদভেদেভকে সরাসরি সেটে তিনি উড়িয়ে দেন। ২০ বর্ষী আলকারাজ তিন সেটই ৬-৩ ব্যবধানে জিতেছেন। তাতেই তৃতীয় স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে উইম্বলডনের পুরুষ সিঙ্গেলসের ফাইনালে ওঠেন আলকারাজ। টেনিসের ওপেন এরাতে চতুর্থ সবচেয়ে কম বয়সি খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছেন আলকারাজ।
ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে আলকারাজ লড়বেন বিগ নেম জোকোভিচের সঙ্গে। এখন পর্যন্ত কোর্টে দুইবার মুখোমুখি হয়েছেন জোকোভিচ ও আলকারাজ। ২০২২ সালে স্পেনে হওয়া এটিপি মাস্টার্সের সেমিতে আলকারাজ জয় তুলে নেন। চলতি বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের শেষ চারের লড়াইয়ে জয়ের হাসি হাসেন জোকোভিচ।
পরিসংখ্যানই বলছে এবারের প্রতিযোগিতায় কতটা দাপট রেখে খেলেছেন দুজনে। ফলে লড়াইটা হবে সমানে সমান। ফাইনাল শুধু শারীরিক লড়াই হবে না, হবে মানসিক প্রতিযোগিতাও। ঠান্ডা মাথায় নিজের খেলা যিনি খেলতে পারবেন, তিনিই ম্যাচ বের করে নেবেন। আলকারাজের ২ না জোকোভিচের ২৪- ফাইনালে কে হাসবেন শিরোপা জয়ের হাসি, অপেক্ষা কয়েক ঘণ্টার!