কলাম
নাজমুল আবেদীন ফাহিম
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম
আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে, ফিফটি ওভার ক্রিকেটে আমরা সবচেয়ে ভালো। কিন্তু টেস্টে আমরা দারুণ খেলেছি। আমরা ওদেরকে কত বড় ব্যবধানে হারিয়েছি, যেটা আমরা ভাবিওনি। সেটার ধারাবাহিকতা ও নিজস্ব শক্তির কারণে ভেবেছিলাম ওয়ানডেতে ৩-০ ব্যবধানে জিতে যাব। কিন্তু হয়নি। তাই আগে থেকে বলে দেওয়া কঠিন যে টি-টোয়েন্টি সিরিজে কী হবে!
আরও পড়ুন : দল ছাপিয়ে লড়াইটা দুই বিশ্বসেরারও
তবে যোগ-বিয়োগ তো আমরা নিশ্চয়ই করতে পারি। শক্তির দিক থেকে যদি বলি দুটো দল এখন সমানে সমান। সমান সমান এই কারণে যে, আমরা যেভাবে শেষ ম্যাচটি জিতেছি, তাতে হারানো কনফিডেন্ট ফিরে পেয়েছি। কিছুটা নয়, বেশ খানিকটা ফিরে পেয়েছি। আমাদের দলে শক্তি আছে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে শক্তি আছে, ব্যাটিংয়ে আগের তুলনায় গোছানো। টি-টোয়েন্টি খেলাটা এই দলের অনেকে বোঝে।
সেটা একটা শক্তির জায়গা। আমরা আগে যখন টি-টোয়েন্টি খেলতাম সেটা ওয়ানডের একটা ভিন্ন স্টাইল ছিল। গত বিপিএলের পর থেকে আমরা টি-টোয়েন্টি খেলাটা বুঝতে পারি। এই কারণে আমি আশাবাদী। আমার মনে হয় দলের মানসিক অবস্থাটাও এখন ভালো। সবকিছু বিবেচনা করে আফগানিস্তানকে খুব বেশি এগিয়ে রাখতে চাই না আমি।
রশিদ খান কিন্তু শেষ ম্যাচে খেলেনি, মুজিব উর রহমান খেলেছে। প্রথম দুই ম্যাচে রশিদ খান বোলিংয়ে এসেছে ২১-২২ ওভারের দিকে। কিন্তু এর আগেই কিন্তু ওই দুটি ম্যাচ আমদের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। তবে রশিদ খানের একটা প্রভাব তো থাকবেই। আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে সেটা মানিয়ে নিতে পারবে আমাদের দল। বাংলাদেশের দলে নতুন যারা ঢুকছে, ওয়ানডে দলে যারা ছিল না, তাদের কিন্তু খেলার ধরন টি-টোয়েন্টির মতোই। সেটা আমাদের শক্তি জোগাবে। ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুনরা ভালো করবে। আমার মনে হয় ভালো একটা খেলা হবে তা নিশ্চিত। আফগানিস্তানের কয়েকজন খেলোয়াড় আছে, যারা একাই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের ঠিক তেমন মানের খেলোায়াড় আছে বলে মনে হয় না। তবে দল হিসেবে ওদের চেয়ে আমরা অনেক বেটার। এককভাবে তাদের ভালো খেলোয়াড় থাকলেও আমাদের প্রেক্ষাপটে দল হিসেবে আমরা অনেক এগিয়ে থাকব। ওয়ানডে হারার পরও মনে হয় ওদের চেয়ে আমরা এখনও অনেক ভালো অবস্থানে আছি। টেস্টে বড় মার্জিনে জিতে যাওয়ার পর বোধহয় কিছুটা রিলাক্স ছিলাম, ওয়ানডেতে আমরা ভালো খেলি, ‘ওরা তো পারবে না’। মনে মনে এমন একটা ধারণা নিশ্চয় পোষণ করেছিলাম। আমরা কিন্তু ভেবেছিলাম ওয়ানডেতে আমরা জিতব। ৩-০ না হলে আমরা তো জিতব, নাহলে ২-১ ব্যবধানে তো ফল আমাদের পক্ষে আসবেই। এমন ধারণায় খেলোয়াড়রাও ছিল কি না আমি জানি না। এমন ভাবনা থেকে আমরা ব্যাকফুটে চলে যেতে পারি। কিন্তু তাদের চেয়ে আমরা ডেফিনেটলি ওয়ানডেতে বেটার।
সাকিবের ক্যাপ্টেন্সিতে আস্থা আছে। তার যে ক্লাস অ্যাটেনডেন্স, বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের বোঝা, নিজেদের বোঝা, চুপচাপ নিজের কাজটা করে ফেলা, কখন কী করতে হবে তা ভেবে নেওয়া। সব কিছু সাকিব করে ঠান্ডা মাথায়। এবং সে কিন্তু নিজেও ভালো খেলছে। নিজে ভালো খেললে আগ্রহের পর্যায়টা অন্য লেবেলে থাকে। শেষ ম্যাচেও দেখেছি। ওই একটা ফিল্ডিং তাকে অন্যভাবে উজ্জীবিত করে ফেলেছে। এমন একটা ঘটনা কিন্তু একজন খেলোয়াড়কে অন্য লেবেলে নিয়ে যায়। আমি নিশ্চিত সাকিব ভাবছে এই দুটো ম্যাচ কীভাবে আমরা জিততে পারি। কেননা, এটা কিন্তু আমাদের জন্য জরুরি। আফগানিস্তানের সঙ্গে যদি জিততে পারি সেটা কিন্তু বড় বার্তা দেয় দলের ভেতরে, বাইরেও। কারণ, আফগানিস্তান দল হিসেবে খারাপ না কিন্তু। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে ভালো দল। এটা আমাদের কনফিডেন্টের জন্য খুব ভালো হবে।
দল যখন ভালো খেলে তখন ড্রেসিংরুম এক ধরনের থাকে। যখন ভালো খেলে না তখন অন্যরকম থাকে। কিন্তু আমরা যেভাবে দেখি, আসলে তেমন না ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক মানুষ হিসেবে থাকতেই পারে, কিন্তু এসব দলের ওপর প্রভাব ফেলে বলে মনে হয় না। দলের জন্য যখন খেলে তখন ওরা নিজেরা কীভাবে দলকে সাহায্য করবে, নিজেরা কীভাবে ভালো করবে সেটাই ভাবে নিশ্চয়। এজ অ্য টিম হিসেবে খেলার চিন্তা বা চেষ্টা সবার মাঝে থাকে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংখ্যা দিয়ে যদি বিচার করি, তাহলে ম্যাচের পাওয়ার প্লেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই অনেক কিছু নির্ধারিত হয়ে যায়। যদি আমরা পাওয়ার প্লেতে ৩০ রানে ২/৩টি উইকেট নিয়ে নিতে পারি সেটা খুব ভালো হবে। ঠিক অন্যভাবে পাওয়ার প্লে’র সময় ব্যাটিংয়ে এক উইকেট হারিয়ে ৪০/৫০ রান করে ফেলি, সেটাও অবশ্যই ভালো কিছু হবে।
ফিফটি ওভারের ক্রিকেটেও ব্যাটিং তেজের ধার বদলে যাচ্ছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে হয়তো দেখব ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার বেশকিছু খেলোয়াড় টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট করবে। তো এমনসব পরিস্থিতির সঙ্গেও ম্যাচে চটজলদি মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার থাকবে। বদলে যাওয়া এমন পরিস্থিতি ও পরিকল্পনার সঙ্গে যে দল দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে, মাঠের ম্যাচে শাসন থাকবে তাদের হাতেই।