প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ০০:০০ এএম
হয়তোবা কোনো দিন সে সাহস ফিরে পাবো আগামীর কোন সংখ্যায়—এভাবেও ফিরে আসা যায়, চন্দ্রবিন্দুর গানের মতো সাহস ফিরে পেয়ে আবারও বাইশ গজে ফিরে এসেছেন তামিম ইকবাল। অভিমানে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর তাকে ফেরার সাহস জুগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আরও পড়ুন : সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মাস্টারক্লাস
তামিমের মতো এমন আরও অনেকে আছেন যারা ক্রিকেটকে গুডবাই বলে দিয়েছিলেন, কিন্তু বিশেষ কারণ কিংবা কারও অনুরোধে আবারও ফিরেছেন। ফেরাদের তালিকায় আছেন কিংবদন্তি পাকিস্তানি ব্যাটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, কেভিন পিটারসেন হয়ে শহিদ আফ্রিদির মতো নাম। যেখানে যুক্ত হয়েছেন টাইগারদের ড্যাশিং ওপেনার তামিম।
রবার্ট সিম্পসন : নিউ সাউথ ওয়েলসের মারিকভিলে জন্ম নেওয়া সিম্পসন ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছিলেন ১৯৬৮ সালে। ঠিক কী কারণে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন সেটি অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটার এখনও জানাননি। তেমনি ১৯৭৭ সালে যখন আবার জাতীয় দলে ফিরলেন তার কারণও খোলাসা করেননি। তবে কেরি পাকারস ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটকে সামনে রেখে আবারও ব্যাট-প্যাড পরে নামা সিম্পসন সফল ছিলেন। নিজের দ্বিতীয় ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অস্ট্রেলিয়াকে সেই সিরিজ জিতিয়েছিলেন। ৪২ বছর বয়সে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ভারতকে হারিয়েছেন ৩-২ ব্যবধানে। ওই সিরিজে বুড়োদের কাতারে নাম লেখানো সিম্পসন ব্যাট করেছিলেন ৫৩.৯০ গড়ে, করেছিলেন ৫৩৯ রান। এক যুগ পর ফেরাটা ফলপ্রসূ হয়েছিল বটে!
জাভেদ মিয়াঁদাদ : পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ হুট করেই অবসর নিয়ে নিয়েছিলেন। তবে অবসরের রেশ কাটতে না কাটতেই তাকে আবার ঘোষণা দিতে হয়েছিল, ‘আমি আবারও ক্রিকেট খেলছি।’ অবসর ভেঙে ফেরার ব্যাপারে মিয়াঁদাদের পাশে ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। তিনি মিয়াঁদাদকে খুব করে অনুরোধ করেন, যাতে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপটা অন্তত খেলেন। সেই অনুরোধে দশ দিন পর তিনি ফিরেছিলে এবং দলের হয়ে দারুণ সফল ছিলেন মিয়াঁদাদ।
ইমরান খান : পাকিস্তানের অনত্যম সেরা বোলার ও অধিনায়ক হিসেবে শুরুর দিকে থাকা ইমরান খানও অবসর নিয়েছিলেন। তার ফেরাটা হয়েছিল নায়কোচিত। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নেন ইমরান। কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি আবার ফেরেন ক্রিকেটে। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের অনুরোধে ক্রিকেটে ফেরেন এবং ১৯৯২ সালে অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ক্রিকেট ছাড়েন।
কার্ল হুপার : ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটার কার্ল হুপার তখনও ফর্মের তুঙ্গে। কিন্তু তিনি অদ্ভুত এক কাণ্ড করে বসলেনÑ ১৯৯৯ বিশ্বকাপের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে অবসরের ঘোষণা দিয়ে পুরো বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিলেন। তবে সবাইকে অবাক করে ২০০১ সালে ক্রিকেটে ফেরেনও এবং ২০০৩ বিশ্বকাপে উইন্ডিজকে নেতৃত্বও দেন। কিন্তু সব ফেরা সুখের হয় না। হুপারের ফেরাটাও খুব একটা ভালো হয়নি। ২০০৩ বিশ্বকাপে বাজে পারফর্মের কারণে নিজেই সরে দাঁড়ান, তখন তিনি বলেছিলেন ‘নতুনরা আসুক আমার জায়গায়’।
গ্রান্ট ফ্লাওয়ার : জিম্বাবুয়ে বোর্ড ২০০৪ সালে হিথ স্ট্রিককে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিলে দলটির বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার বেঁকে বসে। এক সময় অবসরের হুমকি দিয়েছিলেন তারা। তাদের হুমকিতেও স্ট্রিককে পুনর্বহাল করা না হলে গ্রান্ট ফ্লাওয়ারসহ জিম্বাবুয়ের ১৩ ক্রিকেটার অবসর নিয়ে নেন। যদিও ছয় বছর পর ২০১০ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আবার জাতীয় দলে ফিরেছিলেন গ্রান্ট ফ্লাওয়ার। তবে ফর্ম না থাকায় ওই বছরই আবার অবসরে চলে যান তিনি। তার ফেরাটাও ছিল ব্যর্থ।
কেভিন পিটারসেন : ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেন টেস্টে পুরো মনোযোগ দেওয়ার জন্য ২০১১ সালে অনেকটা আচমকাই সাদা বলের ক্রিকেট ছেড়ে দেন। কিন্তু তখনও তাকে ইংল্যান্ডের খুব প্রয়োজন ছিল। কয়েক মাস পরই তিনি আবার তিন ফরম্যাটেই ফেরেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যদিও তার ভালো সময় যাচ্ছিল না। আর সেই ঝামেলা গড়িয়ে এসেছে অনেকদূর। এখনও আনুষ্ঠানিক অবসর নেননি পিটারসেন।
শহিদ আফ্রিদি : পাকিস্তানের কিংবদন্তি শহিদ আফ্রিদির নামের পাশে কয়েকবার যুক্ত হয়েছিল ‘সাবেক’ শব্দটি, আবার কেটেও ফেলা হয়েছিল। বুমবুম খ্যাত পাকিস্তানের অলরাউন্ডার তার ক্যারিয়ারের শেষ ১১ বছরে পাঁচবার অবসর নিয়েছিলেন। প্রথম অবসর নেন তিনি টেস্ট থেকে ২০০৬ সালে। দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফিরে আসেন। ২০১০ সালে অধিনায়ক হিসেবে একটি টেস্ট খেলে এ ফরম্যাটকে বিদায় জানান তিনি। ২০১১ বিশ্বকাপের পর কোচ ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। পাঁচ মাস পর আবারও ফিরে আসেন। এরপর ২০১২ সালে ওয়ানডেকে বিদায় জানিয়ে আবার ফেরেন এবং ২০১৫ বিশ্বকাপের পর আবার ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। এরপর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাকাপাকিভাবে অবসর নেন আফ্রিদি।