প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৩ ১২:০৯ পিএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৩ পিএম
অ্যাশেজে ঘুরে দাঁড়াতে শেষ দিনে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে আরও ২৫৭ রান করতে হবে। অন্যদিকে সিরিজ জয়ের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে মাত্র ৬ উইকেট দূরে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। আপাত দৃষ্টিতে জয়ের পথেই আছে অস্ট্রেলিয়া। তবে স্টোকস বীরত্বের কথাও ভুলে যায়নি প্যাট কামিন্সের দল। চার বছর আগে হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার নাগের ডগা থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়ার কীর্তি এখনও পুড়ায় অস্ট্রেলিয়াকে। উইকেটে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ২৯ রানে অপরাজিত থাকায় সে ভয় তো থাকছেই।
শেষ দিনে লর্ডসে বেন স্টোকস বীরত্ব আরও একবার প্রত্যাশা করছে ইংল্যান্ডের সমর্থকরা। ২০১৯ সালে তৃতীয় অ্যাশেজ টেস্টে শেষ তিন উইকেটে ১৫৩ রান করেছিল ইংল্যান্ড। যার মধ্যে ১৩৫ রান একাই করে ছিলেন স্টোকস। যার ফলশ্রুতিতে ৩৫৯ রান তাড়া করে স্টোকস কীর্তিতে ১ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই স্মৃতিই লর্ডসে আরও একবার ফেরানোর স্বপ্ন বুনছে ইংল্যান্ডের সমর্থকরা।
স্টোকস অবশ্য নিজেই সমর্থকদের স্বপ্নবাজ করেছেন। ৩৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ রানে ৪ টপঅর্ডার ব্যাটারকে হারিয়ে যখন লজ্জার হার এড়ানোটাই লক্ষ্য। তখন উইকেটে এসে বেন ডাকেটকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন স্টোকস। এরপর আর আঘাত আসতে দেননি উইকেটে। স্কোরবোর্ডে ১১৪ রান জমা করে দিনের খেলা শেষ করেছেন ডাকেট-স্টোকস জুটি। ডাকেট অপরাজিত আছেন ৫০ রানে। ক্রিজের বাইরে অক্ষত আছেন জনি বেয়ারস্টো। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের স্বপ্নের দিশারি স্টোকস তো আছেনই। কাজেই স্বপ্ন দেখতে দুষ কোথায়।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিকও বলেছেন সে কথায়, ‘বেন যখন থাকে তখন সবসময়ই আশা থাকে। যদি আমরা একটি ভালো শুরু পায় এবং কেউ বড় স্কোর পেতে পারে, তাহলে আমরা অবশ্যই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাব। যদিও এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।’
অন্যদিকে লর্ডসে চতুর্থ দিনে চোট উপেক্ষা করে যেভাবে ব্যাট হাতে উইকেটে এসেছেন নাথান লিয়ন; তা আরও সাহসী করে তুলেছে দলটিকে। এখান থেকে আর পিছু হটতে চায় না দলটি। যে কোনো মূল্যে ম্যাচ নিজেদের করতে চায় অজিরা। এমন চোট নিয়েও ব্যাটিং করতে উইকেটে আসাই জানান দেয় অ্যাশেজ নিজেদের করতে কতটা মরিয়া অস্ট্রেলিয়া। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন লিয়নও। তার মতে, ‘আমি ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। এটা আমার সিদ্ধান্ত ছিল। আমি জানতাম ঝুঁকি আছে কিন্তু এই দলের জন্য আমি কিছু করতে চাই। আর অ্যাশেজ সিরিজে ১৫ রানের জুটি কত বড় হতে পারে সেটা কেউ জানে না। এটি করতে পেরে আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত মনে করছি। যদি এটি আগামীকালও হত তবে আমি এটি আবার করতাম। আমি বারবার এমনটি করতে চাই।’
চোট নিয়ে উইকেটে নামার পর ইংল্যান্ডের বোলার জেমস অ্যান্ডারসনের সাথে কথা হওয়া নিয়ে লিয়ন বলেন, ‘তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন আমি কি বোকা, উত্তরে আমি হ্যাঁ বলেছিলাম।’ এসব থেকেও বুঝা যায় অ্যাশেজ নিয়ে কতোটা সিরিয়াস অস্ট্রেলিয়া। তবে নিশ্চয় ঘরের মাটিতে অ্যাশেজ হারতে চাইবে না ইংল্যান্ড। এসব ছাপিয়ে শেষ দিনে দারুণ এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটে প্রেমীরা।