প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৩ ১২:০৪ পিএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩ ১৬:৩৯ পিএম
মাঠেও উড়তে জানেন সিকান্দার রাজা। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাইলট হয়ে শত্রুকে ধসিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন বোনা রাজা স্বপ্ন দেখাচ্ছেন জিম্বাবুয়েকে। বিমানের স্টিয়ারিং ধরে শত্রুকে গুঁড়িয়ে দিতে না পারলেও, ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের করছেন তুলাধুনা, বল হাতে দিচ্ছেন ধসিয়ে। বাইশগজে রাজার মতো বিচরণ করছেন রাজা। পুরো মাঠটাই যেন তার রাজত্ব। ৩৭ বর্ষী রাজার শাসন যে শুধু বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তাই নয়, দেড়-দুই বছর ধরে ধারাবাহিক পারফর্ম করছেন এই অলরাউন্ডার। শনিবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিয়ে রাজা তাই হুংকার ছুড়েছিলেন, ‘কী করতে পারি তা দেখিয়ে দিয়েছি। বিশ্বের সেরা দল থেকে আমরা পিছিয়ে নেই।’
দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ক্যারিবিয়ানদের ৩৫ রানে হারিয়ে জিম্বাবুয়ে নিশ্চিত করেছে সুপার সিক্স। পরের ধাপে তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে পূর্ণ ৮ পয়েন্ট। ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার সিক্স পর্বে পা রাখা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেদারল্যান্ডসকেও হারিয়েছেন রাজা-আরভিনরা। সবশেষ ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকাকে তুলাধুনা করে জয় পাওয়ার দিনেও রাজা ছিলেন উজ্জ্বল। ভারতের বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কাটতে প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নামা লাগেনি রাজার। বল হাতেও সেদিন ছিলেন খরুচে, ৬ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে পাননি কোনো উইকেট। তবে রাজাকে সমীহ করতে হয়েছে পরের তিন ম্যাচে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— সব বিভাগেই রাজার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। রাজার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উড়ছে জিম্বাবুয়ে। বিশ্বসেরা দল হতে জিম্বাবুয়ের বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করা রাজাও উড়ছেন, জিতেছেন টানা দুই ম্যাচের সেরার পুরস্কার।
‘কী করতে পারি, তা দেখিয়ে দিয়েছি। বিশ্বের সেরা দল থেকে আমরা পিছিয়ে নেই। আমাদের অসীম সাহস রয়েছে। এ কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পেরেছি। এ ছাড়া আমাদের জয়ের পেছনে সমর্থকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের নায়ক ছিলেন রাজা। নেপালের বিপক্ষে ক্রেইগ আরভিন ও শন উইলিয়ামসের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটের জয়ে রাজাকে ব্যাটিংয়ে প্রয়োজন হয়নি। পরের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫৪ বলে খেলেন ম্যাচ জেতানো ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস। বল হাতে উইকেট নেন গুনে গুনে ৪টি। তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষেও নায়ক রাজা। ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে ৬৮ রানের পর বল হাতে শিকার করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শেই হোপ ও কিমো পলের উইকেট। আছে ২টি অসাধারণ ক্যাচও। বাছাই পর্বের প্রথম ধাপের শেষ ম্যাচে আমেরিকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২৭ বলে খেলেন ৪৮ রানের ক্যামিও। এরপর প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিতে দলের হয়ে অবদান রাখেন ২ উইকেট নিয়ে। নামের মতো কী দুর্দান্তই না ছিলেন সিকান্দার রাজা!
সুপার সিক্সে ওঠার লড়াইয়ে রাজা ডাচদের বিপক্ষে খেলেছেন স্বভাবজাত ব্যাটিং। তার আগে বোলিংয়েও ছিলেন ক্ষুরধার। মূলত ডাচদের ৩১৬ রানের লক্ষ্য পেরোতে রাজারা সেদিন খেলেছিলেন দলগতভাবে। কিন্তু ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে শুরুটা ভালো ছিল না জিম্বাবুয়ের। ইনিংসের শুরুর ২৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে দল তুলতে পেরেছিল ১১২ রান। পঞ্চম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন রাজা ও রায়ান বার্ল। ফিফটি করে বার্ল ফিরলেও রাজা দলকে টানেন আরেকটু। শেষ পর্যন্ত হারারেতে ২৬৮ রানে আটকে যায় জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংসহায়ক পিচে সেই পুঁজি নিয়েও বুক চিতিয়ে লড়ে জিম্বাবুয়ে, আনে সাফল্য।
রাজার মতে এটা নিজেদের প্রতি বিশ্বাস আর দুরন্ত সাহসের ফল, ‘কী করতে পারি, তা দেখিয়ে দিয়েছি। বিশ্বের সেরা দল থেকে আমরা পিছিয়ে নেই। আমাদের অসীম সাহস রয়েছে। এ কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পেরেছি। এ ছাড়া আমাদের জয়ের পেছনে সমর্থকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।’
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার মতো দলকেও টেক্কা দেওয়ার কথাই কৌশলে জানিয়েছেন রাজা। প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও তাদের অঙ্ক কষে নামতে হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, রাজার বিপক্ষে। রাজা তাই অকপটে বলছেন, বাধাবিপত্তি যা আসুক সব সামলে আরও এগিয়ে যেতে চাই। জিম্বাবুয়েতে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নসহ আরও যারা তারকা আছেন তাদের সবাইকে ছাপিয়ে আপাতত ব্যাট-বলে সিকান্দারই ‘রাজা’!