প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৩ ১১:১৫ এএম
‘প্রথম ইনিংসে যখন আমরা ওদের ১৪৬ রানে অল আউট করে বড় লিড পেলাম, তখনই পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে আমরা এ পথেই এগোচ্ছিলাম’- কথাগুলো অধিনায়ক লিটন দাসের। দলও জানত, বিশাল জয় অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু এভাবে রেকর্ড গড়া জয়? সে ভাবনা হয়তো মগজেও খেলেনি কারও।
তবে বিষয়টা অবশ্য অবধারিতই ছিল। অন্তত তৃতীয় দিনের পরপরই। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের জয়টা ২২৬ রানের। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আর কিছু হোক না হোক, অন্তত সেটা ভাঙছে, আঁচ করা যাচ্ছিল বেশ করেই।
কারণ হলো আফগানদের অনভিজ্ঞতা। প্রথম ইনিংসে তিন অঙ্কের বল খেলে বিশাল সময় ধরে ব্যাট করতেই পারেননি কেউ। ২৭ মাসের বিরতির পর দলটা নেমেছে বলে ফ্লুক বলেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না যা। সেই আফগান দল চতুর্থ ইনিংসে এসে ৪৩৫ রান তুলে ফেলবে, সেটার সম্ভাবনাকে নেইয়ের কোঠায়ই মনে হচ্ছিল। তবে এভাবে বিশ্বরেকর্ডই বাংলাদেশ গড়ে ফেলবে, তা কে ভেবেছিল?
তৃতীয় দিন শেষে আফগানদের প্রয়োজন ছিল ৬১৭ রান, বাংলাদেশের ৭ উইকেট। সে উইকেটগুলো নিতে বাংলাদেশ সময় নিল মোটে এক সেশন। সাত উইকেটের সবকটিই নিতে পারল না অবশ্য, জহির খান শেষে বিদায় নিলেন আহত অবসর হয়ে। তবে তাতে জয়টা আটকে থাকল না দলের। শেষ ব্যাটার হিসেবে জহির যখন ফিরছেন প্যাভিলিয়নে, তখন রেকর্ডটাও হয়ে গেল বাংলাদেশের।
৫৪৬ রানের এই জয়ে বাংলাদেশ নিজেদের সেরা জয়ের কীর্তিটা পেছনে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। গড়ে ফেলেছে বিশ্বরেকর্ডও। চলতি শতাব্দীতে এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত রানের বিচারে সবচেয়ে বড় জয় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১৮ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৯২ রানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। সে রেকর্ডটাকে দুইয়ে ঠেলে দিয়েছে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয়।
বাংলাদেশের এই ৫৪৬ রানের জয়ের চেয়ে বড় জয় ক্রিকেট ইতিহাসেই আছে আর মাত্র দুটো। সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়টা ইংল্যান্ডের। ১৯২৮ সালে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। এরপর অস্ট্রেলিয়াও শোধ তুলেছিল ৬ বছর পর, সেটাও আবার ইংলিশদের ডেরায়। দ্য ওভালে ১৯৩৪ সালে অস্ট্রেলিয়া ইংলিশদের হারায় ৫৬২ রানে। এরপরই বাংলাদেশের এই জয়ের অবস্থান। তবে বাংলাদেশের আফগান বধকে চাইলে আলাদাও করে ফেলা যায় ও দুটো ম্যাচ থেকে। পাঁচ দিনের টেস্ট শুরুর পর যে বাংলাদেশের এই জয়ই সবচেয়ে বড়!
এমন জয় অধিনায়ক লিটন দাসকেও দিচ্ছে বাড়তি তৃপ্তি। তিনি বললেন, ‘চাইলেই পেয়ে গেলেন, এটা এমন ব্যবধান নয়। এর জন্য কৃতিত্ব ব্যাটারদের, কারণ উইকেটটা এত সহজ ছিল না। সত্য কথা, আমাদের বোলাররাও খুবই ভালো বল করেছে। লাইন-লেন্থ মেনে বল করেছে। এটা টেস্ট ক্রিকেট, কাজেই এটা অনেক বড় অর্জন। এ রকম জিততে পারলে এর থেকে বড় কিছু চাওয়ার থাকতে পারে না। অধিনায়ক হিসেবে এর থেকে বড় ব্যবধানে চাইতে পারেন না কখনও।’