প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৩ ১১:৪৫ এএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩ ১১:৪৮ এএম
হ্যাটট্রিকই করে বসলেন জনাথন ট্রট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটটা সবশেষ খেলেছেন সেই ২০১৮ সালে; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা তারও আগে, ২০১৫ সালে। সেই ট্রট আবার কোন হ্যাটট্রিক করলেন, ভেবে বসতে পারেন আপনি। না, আফগানিস্তান কোচ ট্রট মাঠে নেমে পড়েননি। তার এই ‘হ্যাটট্রিক’ মাঠের বাইরের।
আরও পড়ুন : রেকর্ডে মোড়ানো একদিন
তাহলে কোথায়, কীভাবে? উত্তর- সংবাদ সম্মেলনে। এ নিয়ে ঢাকায় একমাত্র টেস্টের তিন দিনের সবকটিতেই যে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আগমন ঘটল তার। যদি টেস্টের আগের দিনও ধরা হয় সঙ্গে, তাহলে হ্যাটট্রিক নয়, রীতিমতো ‘পোকার’ই মেরে দিয়েছেন আফগান কোচ।
কিন্তু কেন? অন্যদের কী হলো? ট্রটের উত্তর, ‘আমি তো তাদের উৎসাহই দেই! কিন্তু ওরা খুব লাজুক, জানেন! আর ভাষাগত বাধাটা তো আছেই, আপনারা যেমন চতুর প্রশ্ন করে বসেন!’
এরপরই জানালেন, আর সবকিছুর মতো সংবাদ সম্মেলন সামলানোটাও অভিজ্ঞতার বিষয়, সে অভিজ্ঞতাটা তার এ দলে কোথায়? আফগান টেস্ট দলে চোটের কারণে নেই রশিদ খান; মোহাম্মদ নবী আর মুজিব উর রহমানরাও নেই এই সফরে। তাদেরই তো সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞতা গণমাধ্যম সামলানোর। সে বিষয়টা লুকোননি ট্রট- ‘রশিদ, নবী, মুজিবরা সব সময় সংবাদ সম্মেলন সামলায়। এ সফরে তো ওরা নেই। তবে এখানে আসতে আমার কোনো সমস্যা নেই, এটা তো আমার কাজের অংশই।’
রশিদদের না থাকার সময়ে আফগানরা মাঠে ধুঁকছে রীতিমতো। তবে কোচ ট্রট জানালেন, শেখার বিষয় আছে এখানে। আগের দুই দিনের মতো, তবে একটু ভিন্ন সুরে তিনি বললেন- ‘আমার মনে হয়, আমাদের শিক্ষা হচ্ছে অনেক। টেস্ট ক্রিকেট কতটা কঠিন, এখানে খেলায় পেছনে পড়ে গেলে কী করতে হয়, কীভাবে ম্যাচে ফেরার পথ করে নিতে হয়। এখানে প্রতিপক্ষ কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, এমন সব কিছু জানতে পারছে খেলোয়াড়রা।’
তবে এমন কঠিন এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে, তা অজানা ছিল না ট্রটের। বললেন, ‘এখানে কঠিন একটা সফর হবে, জানতাম। যদিও অন্য ফরম্যাটে, কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা কতটা ভালো খেলেছে, তা তো দেখেছিই। এখানে শুধু আফগানিস্তান নয়, যেকোনো দল এলেই কঠিন সময় কাটাবে। তার ওপর আমরা টেস্ট খেলছি ২৭ মাস পর, কঠিন তো হবেই।’
রশিদ খানের উপস্থিতি স্কোয়াডে থাকলে হয়তো সে কঠিন বাস্তবতাটা কম বুঝত আফগানরা। তিনি নেই, তাই মাঠে হোক, কিংবা মাঠের বাইরে, শূন্যতাটা টের পেয়েই যাচ্ছেন ট্রটরা।