প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৩ ২৩:০৬ পিএম
আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট হার! বাংলাদেশের ওই অপ্রত্যাশিত হারের মূল নায়ক ছিলেন রশিদ খান। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়ে হন ম্যাচসেরা। আগের জয়ের ওই নায়ককে এবার পাচ্ছে না আফগানিস্তান। তাকে ছাড়াই বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলবে।
আরও পড়ুন : লিড বাড়িয়ে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
টেস্টে তাকে ‘বিশ্রামে’ রেখেছে আফগানরা। তার না থাকাটা বাংলাদেশের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণা। কারণ, আফগানদের লেগস্পিন সব সময়ই বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে ‘জুজু’। রশিদ না থাকলেও অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা লেগস্পিনার ইজহারুল হক নাভিদকে আনছে।
রশিদের না থাকাটা বাংলাদেশ শিবিরকে একটু হলেও স্বস্তি দেবে। তার পরিবর্তে দলে থাকা অন্য স্পিনাররা ভালো করতে বেশ সময় নেবে বলেও মনে করেন কোচ সারওয়ার ইমরান। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান দলে রশিদ খানের না থাকাটা আমাদের ব্যাটারদের জন্য স্বস্তির। অন্য যারা আছে, ওরা ভালো করতে সময় নেবে। তবে কী করতে পারবে সেটা এখনই বলা যাবে না।’
রশিদের না থাকাটা কতটা স্বস্তির সেটার ব্যাখ্যায় সারওয়ার ইমরান বলেন, ‘রশিদ খান রশিদ খানই। ও বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার। তার না থাকা বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই অনেক বেশি স্বস্তির।’ আগেরবার বাংলাদেশকে একাই ধসিয়ে দেওয়া রশিদের দায়িত্ব অন্য কেউ নিতে পারবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার বলেন, ‘অন্যরা কী করতে পারবে সেটা এখনই বলা মুশকিল। ওদের (আফগানিস্তান) স্পিনাররা দারুণ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করা কোচ সোহেল ইসলাম অবশ্য একটু ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার মতে, ক্রিকেটের ছোট সংস্করণে যতটা বেশি কার্যকর, টেস্টে ঠিক ততটুকু কার্যকরী হতে পারেন না রশিদ খান। তার না থাকা নিয়ে দল কোনো চিন্তা করছে না বলেও ধারণা সোহেলের।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের ছোট ছোট সংস্করণগুলো রশিদ অনেক বেশি কার্যকর। টেস্টে এত বেশি কার্যকর নয়। তার না থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই। তার বদলি যারা আছে, তারা যথেষ্ট ভালো করার সামর্থ্য রাখে।’
রশিদের না থাকা স্বস্তিদায়ক এমনটা দলের কেউ ভাবছে না বলে বিশ্বাস সোহেল ইসলামের। বলেন, ‘আমার মনে হয় না দলের কেউ ভাবছে না যে রশিদ আসবে না। এ জন্য বেঁচে গেলাম। আমার মনে হয় রশিদের জায়গায় যারা খেলবে তারাও আমাদের পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে। দল সব কিছু বিবেচনা করে অনুশীলন করছে বলে বিশ্বাস আমার।’
বাংলাদেশের লাল বলে খেলা একমাত্র ম্যাচে বাংলাদেশকে কীভাবে ভুগিয়েছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ম্যাচে নেন ১১ উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামলেই রশিদের পারফরম্যান্স গ্রাফ সব সময়ই হয়ে ওঠে ঊর্ধ্বমুখী।
যার প্রমাণ বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ১৮ ম্যাচে রশিদের শিকার ৪৩ উইকেট। টেস্টে চার ফাইফারের দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টেস্টে ১০ উইকেট শিকারের স্বাদটাও বাংলাদেশের বিপক্ষে পেয়েছেন এই লেগস্পিনার।
রশিদ খানের পাশাপাশি বাংলাদেশে টেস্ট খেলবেন না মুজিব উর রহমান ও নূর আহমেদ। আলোচনা তৈরি করা তিন স্পিনারের বদলি হিসেবে আসছেন জহির খান, আমির হামজা ও ইজহারুল হক নাভিদ। জহির খান বাংলাদেশ বধের ওই টেস্টে ছিলেন। রশিদের ছায়ায় পড়া জহির ওই ম্যাচে শিকার করেছিলেন ৩ উইকেট। অন্য দুই স্পিনারের মধ্যে আমির হামজার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
আমির হামজা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন তিন টি-টোয়েন্টি ও এক ওয়ানডে। চার ম্যাচে বাংলাদেশের ৪ উইকেট নেন। এক রকম ‘অনভিজ্ঞ’ বোলিং আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে। বাংলাদেশের জন্য আপাতদৃষ্টিতে হয়তো ‘স্বস্তির’। ম্যাচে স্বস্তিটা ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।