বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৩ ০৮:২৫ এএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩ ০৮:৩৩ এএম
ঢাকায় নেমে প্রচণ্ড গরমের দিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষেই একটা দিন প্রায় কেটে গেল তার। এ ছাড়া উপায়ও ছিল না শতদ্রু দত্তর। কলকাতার এই স্পোর্টস প্রমোটর কী কারণে ঢাকায়, সেটা আর্জেন্টাইন ফুটবলভক্তরা কিছুটা জেনে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠান শতদ্রু দত্ত অ্যাসোসিয়েটসের হাত ধরেই আগামী জুলাইয়ে ঢাকায় আসছেন বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে এমন এক মহাতারকাকে নিয়ে আসার কাজটা তো আর সহজ নয়, আবেগের সঙ্গে বিষয়টার বাণিজ্যিক একটা ব্যাপারও জড়িত। সেই কাজটা করতেই এখন শতদ্রু ঢাকায়। গতকাল দিনভরই স্পন্সরদের সঙ্গে মিটিং নিয়ে ছিলেন ব্যস্ত!
আরও পড়ুন : আশায় আছেন আশরাফুল
সেই ঠাসবুনট দিনের শেষবেলায় এসে সুখবরই শোনালেন এই স্পোর্টস প্রমোটর। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি জানালেন, সব ঠিকঠাক মতোই এগোচ্ছে। তবে লিওনেল মেসির সতীর্থের ঢাকা সফরটা স্রেফ বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ থাকছে না। সবকিছু ঠিক থাকলে গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হয়ে রাজধানীতে পা রাখবেন গত বছর কাতার বিশ্বকাপে গোলপোস্টের নিচে জাদু দেখানো এই আর্জেন্টাইন তারকা।
আগামী ৩ জুলাই সকালে বাংলাদেশে পা রাখবেন মার্টিনেজ। পরিকল্পনা আগের মতোই। তবে দিনের সূচিতে কিছু কাটছাঁট হতেও পারে। তার আগে শতদ্রুর কথায় যেন স্বস্তির পরশ, ‘স্পন্সরদের সঙ্গে আজ (গতকাল) দিনভরই ট্যুর নিয়ে কথাবার্তা হলো। আমি নিজেও পুরোটা মার্টিনেজকে জানালাম। ওকে গুডউইল ট্যুর হিসেবে সফরটা বিবেচনা করতে বললাম। আর সেটা হলে ওর পেমেন্টও অনেক কমে যাচ্ছে। টোকেন মানি নিয়ে যদি এটা করা যায় তবে ওর সফরের খরচটাও কমবে। কিছু খরচ আছে যেটা এয়ার ফেয়ার- এসব কাভার করে যদি ট্যুরটা করানো যায় কিনা সেটাই দেখছি। স্থানীয়ভাবে খরচ হলে তো আর এনবিআরের (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ) অনুমতি লাগবে না!’
এটা হলে বাংলাদেশে মার্টিনেজের অবস্থানের সময়টাও কমে আসতে পারে। আগে কথা ছিল পুরো ২৪ ঘণ্টা তিনি ঢাকায় থাকবেন। এবার শতদ্রু বলছিলেন, ‘মার্টিনেজ ওর সম্মানীটা কম নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য এখানে এলো, এটাই চেষ্টা করছি। দুই-তিন ঘণ্টা থেকে চলে গেল- এমনটাই পরিকল্পনা করছি।’ এমন পরিকল্পনায় বেশ ইতিবাচকই আছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর মার্টিনেজ। কলকাতায় ডিয়েগো ম্যারাডোনা-পেলে-কাফুর মতো কিংবদন্তিকে নিয়ে আসা শতদ্রু বলছিলেন, ‘ওর কাছ থেকে পজিটিভ বার্তাই পেয়েছি। ও বলল- কথা চালিয়ে যাও, দেখা যাক কী হয়!’
বাংলাদেশে এসে বেশ কিছু স্পন্সরের সঙ্গে কথা বলেছেন শতদ্রু। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এই ভারতীয় স্পোর্টস প্রমোটর আরও বলছিলেন, ‘আবুল খায়ের গ্রুপ, বিকাশ ছাড়াও কয়েকটি প্রমিনেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি কাল-পরশু অবধি ঢাকায় আছি। কথা শেষ হয়নি। এ নিয়ে ওদের সঙ্গে আরও আলাপ বাকি। আমি আশাবাদী। কারণ গুডউইল ট্যুর হয়ে যদি টাকাটা কমে যায় তবে সব কিছুই সহজ হয়ে যাবে। সম্মানীর অঙ্ক কমলে এমন একটা ট্যুর অনায়াসেই অনুমতি পেয়ে যায়।’
ঢাকায় প্রথম দিন নেমে স্পন্সরদের সঙ্গেই কথা বলতে ব্যস্ত ছিলেন শতদ্রু। এখনও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কিংবা কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে তার কথা হয়নি। এমিলিয়ানো মার্টিনেজের এই ঢাকা সফরের ব্যাপারে অবশ্য ফেডারেশন অন্ধকারেই আছে। কাজ কিছুটা এগোলো শতদ্রু নিজেই লোকাল পার্টনারদের নিয়ে সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলবেন। সবার আগে কন্ট্রাক্ট সাইন করতে চান তিনি, ‘আমি বাংলাদেশের ফুটবলভক্তদের বলতে চাই- মার্টিনেজকে নিয়ে আসার ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। সব পজিটিভ রয়েছে। মার্টিনেজ নিজেও আজ (গতকাল) আমাকে ঢাকায় আসা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। এমনকি গুডউইল ট্যুরের ব্যাপারে বলার পরও।
এখনও সবকিছু চূড়ান্ত না হওয়ায় মার্টিনেজের ঢাকায় অবস্থানকালের সূচিও ঠিক হয়নি। তবে কোনো একটা ইনডোর স্টেডিয়ামে ফ্যানদের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি থাকতে পারে। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা আর ডলারের সংকটের কথা ভেবেই সফরটাতে খরচ কমাতে চাইছেন শতদ্রু।
গুঞ্জন ছিল ৩০ বছর বয়সি বিশ্বকাপজয়ী এই গোলকিপারের স্ত্রী আমান্দা মার্টিনেজও ঢাকা ও কলকাতা সফরে আসতে পারেন। কিন্তু শতদ্রু সেই গুঞ্জনের ইতি টানলেন, ‘বুঝতে পারছি- আমার ফেসবুক পেজে দিবুর সঙ্গে ওর স্ত্রীর ছবি দেখে এই প্রশ্নটা এসেছে। আসলে ওর স্ত্রী আসছে না। সত্যি বলতে কী, মার্টিনেজকে ম্যানেজ করতে গিয়েই পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি। সবকিছুই এখন ডলারে দিতে হয়। আর ডলারের সংকটটাও তীব্র। তার মধ্যে মার্টিনেজকে শুভেচ্ছাদূত করে খরচ কমিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারাটাই এখন আমার চ্যালেঞ্জ!’
সেই চ্যালেঞ্জে শতদ্রু দত্ত সফল হন, এমনটাই বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা। মার্টিনেজের পরই যে বিশ্বজয়ী লিওনেল মেসিকেও তিনি নিয়ে আসতে চান ঢাকায়। একটা স্বপ্ন পূরণ হলেই তো আরেকটা দেখা যায়!