প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৩ ০১:২০ এএম
নারীদের শ্রীলঙ্কা সফরে ম্যানেজারের পদে ছিলেন না মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু। বদলি হিসেবে এসএম গোলাম ফাইয়াজকে দেওয়া হয় দায়িত্ব। নির্বাচকের পাশাপাশি দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব ছিল মঞ্জুর কাঁধে।
আরও পড়ুন : জ্যোতিদের বোলিং কোচ দিনুকা হেতিয়ারাচ্চি
একই সঙ্গে দুই দায়িত্ব সামলানো মঞ্জুর বিপক্ষে ছিল স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ। এর বাইরেও তার বিপক্ষে ছিল অভিযোগের পাহাড়।
শেষমেশ তাকে আর নারী উইংয়ের দায়িত্বে রাখা হচ্ছে না। নতুন নির্বাচক প্যানেল তৈরি করেছে বিসিবি। সাজ্জাদ আহমেদ শিপন ও সজল আহমেদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঞ্জুকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাড়ছে নারী নির্বাচকের সংখ্যা। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা সাজ্জাদ আহমেদ শিপনকে আনা হয়েছে। তার সঙ্গী হয়েছেন সজল আহমেদ চৌধুরী। তাদেরকে নিয়োগের বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরী নাদেল।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচক হিসেবে মঞ্জুরুল থাকছে না। আমরা সাজ্জাদ আহমেদ শিপন এবং সজল আহমেদ চৌধুরীকে নিয়োগ দিয়েছি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়গুলো বিসিবি থেকে জানানো হবে।’
শ্রীলঙ্কা সফরে অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার সালমা খাতুন ও রুমানা ইসলামকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই শুরু সমালোচনার। তাদেরকে দলে না রাখার কারণ হিসেবে মঞ্জু জানান, ‘বিশ্রাম’ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে রুমানার দাবি ছিল, বিশ্রামের আড়ালে তাকে বাদ দিয়েছেন। এরপর থেকেই শোরগোল তৈরি হয় মঞ্জুকে নিয়ে।
তার বিরুদ্ধে আসে অনেক অভিযোগ। শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যেই তাই মঞ্জুকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। নারী উইং থেকে সরে গেলেও এখনই বিসিবি ছাড়া হচ্ছেন না। গুঞ্জন আছে, পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য তৈরি করা বাংলা টাইগার্সে দায়িত্ব পেতে পারেন।
সেখানে ঠিক কী পদে দায়িত্ব পালন করবেন মঞ্জু? সেই প্রশ্নের উত্তরে নাদেল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাংলা টাইগার্সে যাচ্ছে সেটা নিশ্চিত, ওখানে কোচ নাকি নির্বাচক সেটা বাংলা টাইগার্স ঠিক করবে।’
শুধু নির্বাচক প্যানেলের পরিবর্তন নয়। নারী উইংয়ে আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা আছে বিসিবি। সে কারণে দেশের স্বনামধন্য অভিজ্ঞ কোচদের নারী ক্রিকেটে সম্পৃক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে।
দুই অভিজ্ঞ কোচ ওয়াহিদুল গনি ও দিপু রায় চৌধুরীকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। আগে থেকেই অবশ্য নারী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন দিপু রায় চৌধুরী। নারী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তার অধীনেই সেরা ছন্দ দেখায় বাংলাদেশের তরুণীরা। এরই সুবাদে তাকে নারী ক্রিকেটে আরও বেশি সম্পৃক্ত করছে বিসিবি। ওয়াহিদুল গণি ও দিপু রায় চৌধুরীর পাশাপাশি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে আরও চারজন কোচ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে নারী উইংয়ের।
এই নিয়ে নাদেল বলেন, ‘আমরা গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে চারজন কোচ নেব। তারা মেয়েদের সঙ্গে কাজ করবেন। এর আগেই ওয়াহিদুল গণি ও দীপু রায় চৌধুরী কাজ শুরু করে দেবেন। পুরো নারী বিভাগটাই আমরা নতুন করে সাজাতে চাচ্ছি। যেন লম্বা সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজ করা যায়। তাই নিজেদের বিভাগটাকে আরও বড় করছি।’
মঞ্জুকে সরিয়ে দেওয়া নতুন নির্বাচকরা কবে থেকে কাজ শুরু করবেন, সেটা এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে নাদেল নিশ্চিত করেছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবেন তারা। নারী ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য লম্বা সময়ের জন্য পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
চলমান আইসিসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ ও আগামী বছর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাফল্য পেতে মরিয়া বিসিবি। সবকিছু মিলিয়ে এলো বড় পরিবর্তন।