প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৩ ২৩:২৬ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৩ ২৩:৩৮ পিএম
শিরোপার মঞ্চে ম্যানুয়েল নয়্যারের হাত থেকে বেশ কয়েকবার ট্রফি ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন টমাস মুলার। নিবিষ্ট মনে শিরোপা উঁচিয়ে তোলার অপেক্ষায় থাকা জার্মান তারকা নয়্যার যেন প্রতিবার আরও শক্ত করে আঁকড়ে রাখছিলেন বুন্দেসলিগা ট্রফি। অপেক্ষার পালা ফুরাল, বাজল শেষ বাঁশি, নয়্যার উঁচিয়ে ধরলেন জার্মানির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
আরও পড়ুন : বিয়ের পিঁড়িতে গায়কোয়াড়, বদলি জয়সওয়াল
বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে হাত-পা ছুড়তে লাগলেন মুলার। ডায়াসে মুলার-নয়্যারের এই কাণ্ড যেন বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের প্রতীক। শিরোপা উদযাপনের সবকিছু করে রেখেছিল ইয়েলোওয়ালারা, কিন্তু ট্রফি এলো কি না বাভারিয়ানদের ঘরে। কাকতাল না হলেও অবিশ্বাস্য তো বটে!

বুন্দেসলিগায় লিগ রাউন্ডের শেষ ম্যাচটিতে লড়তে নামার আগে টমাস টুখেল বলেছিলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা যায় সর্বোচ্চটাই করব। কোচের কথায় অবশ্য উজ্জীবিত হওয়ার কিছু ছিল কি না তা নিয়ে কথা না-ই উঠুক, তবে ছিল শঙ্কা এবং মনের কোণে কিছুটা আশা- ‘যদি বরুশিয়া ডর্টমুন্ড হেরে যেত।’ হিসাব সহজ ছিল ডর্টমুন্ডের জন্য, মেইঞ্জকে হারাতে পারলেই ঘুচে যাবে শিরোপাখরা। বায়ার্ন হারলে জিতে যাবে ডর্টমুন্ড। বাভারিয়ানরা ড্র করলে তাদেরও শুধু ড্র করলেই চলত। শেষ পর্যন্ত হিসাব অবশ্য মেলাতে পারেননি এডিন টেরজিকের শিষ্যরা। মেইঞ্জের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। অন্যদিকে কোলনের মাঠে ২-১ জিতে টানা ১১ মৌসুমের জন্য লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছে বায়ার্ন। সব মিলিয়ে এটি তাদের ৩২তম লিগ ট্রফি।
৩৪ ম্যাচে ৭১ পয়েন্টের পুঁজি নিয়ে গোল ব্যবধানে শিরোপা ধরে রেখেছে বায়ার্ন। সমান ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে রানারআপ তকমায় সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে ডর্টমুন্ডকে। অবশ্য সন্তুষ্ট নয়, বরং এখন থেকেই আগামী মৌসুমের জন্য ভাবনা শুরু করে দিয়েছে ডর্টমুন্ড। প্রত্যয়ী কোচ টেরজিক বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। সবকিছু শূন্য মনে হচ্ছে। মেইঞ্জের বিপক্ষে খেলার আগে শিরোপা থেকে ৯০ মিনিট দূরে ছিলাম। এখন আবার সেই চেষ্টা করার জন্য ৩৪ ম্যাচ দূরে আছি। সেই লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে আবার চেষ্টা শুরু করব।’
অবিশ্বাস্য ট্রফি অর্জনের পর উচ্ছ্বসিত বায়ার্ন কোচ টমাস টুখেল। জার্মান জায়ান্টদের কোচ মনে করছেন এটি তার ক্যারিয়ারকে একধাপ এগিয়ে দিল, ‘কোলনের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাকে এখানে আরেক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। কিছু পেতে মুখিয়ে ছিলাম। আমরা ম্যাচে এগিয়েও গিয়েছিলাম কিন্তু কিছু গোলের সুযোগও অবশ্য হারিয়েছি। যখন হ্যান্ডবল হল এবং তারা পেনাল্টি থেকে গোল পেল, তখন আবারও সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে জামাল আমাদের বাঁচিয়েছে।’
জামাল মুসিয়ালা গোল করে বাঁচিয়েছেনই বলা চলে। কোলনের মাঠে যখন মুসিয়ালা-মুলাররা শিরোপা উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন, তখন সিগন্যাল ইদুনা পার্কে নেমে এসেছিল সুনসান নিরবতা। কত আয়োজন সব যেন জলে গেল। মাথা মুড়েও যেন কান্না করার সুযোগ পেলেন না মার্কো রেউস, জুড বেলিংহামরা। অন্যদিকে জার্মানির শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় নিয়ে আরেকটি চেনা উদযাপনে মাতোয়ারা হলেন টুখেলের শিষ্যরা।