প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৩ ১২:০৪ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৩ ১২:০৭ পিএম
শেষ দশ দ্বৈরথের দিকে তাকান। আবাহনীর ছয় জয়ের বিপরীতে মোহামেডানের জয় মোটে একটা। তাও সেই ২০১৯ সালে। এরপর থেকেই আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ মানে যেন আবাহনীর জয়, না হয় ড্র। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝটা উবে গেছে সেই কবে, মোহামেডান শেষ কয়েক বছরে আবাহনীর বিপক্ষে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাটাও গড়তে পারেনি।
আরও পড়ুন : নারী ফুটবলে কোনো সমস্যা নেই-দাবি সালাউদ্দিনের
শেষ কয়েক বছর বললে ভুল হবে অবশ্য। সবশেষ ম্যাচটা বাদ দিতে হবে হিসাবটা থেকে। এই গেল শুক্রবারের লিগ ম্যাচে মোহামেডান যে জয় থেকে ছিল মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে! অন্তিম সময়ে দানিয়েল কলিন্দ্রেসকে ফাউলটা করেই ভজঘট পাকাল সাদা-কালো রক্ষণ। পেনাল্টি থেকে গোলে জয়টা হাতছাড়া হয় কোচ আলফাজ আহমেদের দলের।
সবশেষ পাঁচ মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের সর্বোচ্চ ফলাফল ছিল পঞ্চম স্থান। প্রিমিয়ার লিগ যুগে শিরোপা নেই তাদের। শেষ কবে মোহামেডান শীর্ষ তিনে থেকে লিগ শেষ করেছিল, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে আট বছর আগে, ২০১৫ সালে প্রিমিয়ার লিগটা তিনে থেকে শেষ করে মোহামেডান।
এবারও পাকেচক্রে শেষ সাত বছরের পুরানো নিয়তিই চোখরাঙানি দিচ্ছিল তাদের। লিগের প্রথম পর্ব শেষে সাদা-কালোরা ছিল পয়েন্ট তালিকার ছয়ে। ১০ ম্যাচ শেষে তিনটি করে জয় আর ড্র ছিল তাদের, হেরেছিল চারটি ম্যাচে।
মাঝ মৌসুমে দলের কোচ হয়ে আসেন দলটিরই সাবেক খেলোয়াড় আলফাজ আহমেদ। তার ছোঁয়াতেই যেন মোহামেডান বদলে গেল! না, প্রিমিয়ার লিগটা জিতেই বসেনি। কিন্তু মাঝ মৌসুমের বিরতি থেকে ফিরে পরের আট ম্যাচের জিতেছে ছয়টিতেই। প্রিমিয়ার লিগে চার জয় আর এক ড্র তাদের নিয়ে এসেছে তালিকার চারে, ৮ বছর পর তাদের সামনে এখন শীর্ষ তিনের হাতছানি।
তবে মোহামেডান বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে ফেডারেশন কাপে। শেষ আটে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়টা অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে সেমিফাইনালে বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল তাদের লিটমাস টেস্ট। সে পরীক্ষাতেও কোচ আলফাজের শিষ্যরা উতরে গেছেন দারুণভাবে। ২-১ গোলের দারুণ জয়ে বসুন্ধরার ট্রেবল যাত্রা রুখে দিয়ে চলে এসেছে ফাইনালে৷
ফেডারেশন কাপের শিরোপাটা আবাহনীর ট্রফি কেসেই আছে সবচেয়ে বেশি। ১৯৮০ সালের পর থেকে আবাহনী ১২ বার জিতেছে এই শিরোপা। দ্বিতীয় সেরা কে? মোহামেডানই! ১০ বার জিতেছে এই শিরোপা।
তবে মোহামেডানের সবচেয়ে ‘নতুন’ ফেডারেশন কাপের শিরোপাটাও জেতা হয়েছে সেই ১৪ বছর আগে। সেটা আবার দলটির যেকোনো প্রতিযোগিতায় শেষ ফাইনাল, আবার শেষ শিরোপাও। এরপর বুড়িগঙ্গায় অনেক জলই গড়িয়েছে, মোহামেডানের ট্রফি কেসে আর শিরোপা ওঠেনি একটাও।
সে শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ অবশেষে এসেছে মোহামেডানের সামনে। কাজটা যে কঠিন, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ নেই। আবাহনীও যে ছেড়ে কথা বলবে না! চলতি মৌসুমে লিগের আশা শেষ সেই কবে, স্বাধীনতা কাপও জিততে পারেনি। গেল মৌসুমের দুই শিরোপার পর চলতি মৌসুমে তাদের সামনে শিরোপাখরার শঙ্কা এখন। তবে ফাইনালে মোহামেডানকে হারাতে পারলেই ল্যাটা চুকে যায়, অন্তত একটা শিরোপা নিয়ে মৌসুমটা শেষ করা যায়। সে অনুপ্রেরণা থেকেই তো আবাহনী চাইবে মরণ কামড়টা বসাতে।
দলীয় শক্তি-সামর্থ্যের দিক থেকে আবাহনী এগিয়ে। দানিয়েল কলিন্দ্রেসের মতো বিশ্বকাপে খেলা খেলোয়াড় যেমন আছেন তাদের দলে, আছেন এলিটা কিংসলে, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমদের মতো দেশীয়রাও। চলতি মৌসুমে আরেক অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন সুযোগ পাননি তেমন, কিন্তু যখনই নেমেছেন মাঠে, ফেলে গেছেন ইতিবাচক ছাপ।
তবে এই আবাহনীর বিপক্ষেও সবশেষ ম্যাচে মোহামেডান লড়েছে সমানে সমানে। তাই ফেড কাপের ফাইনালেও আভাস মিলছে জমজমাট লড়াইয়েরই।
শেষ ১০ দ্বৈরথ
মোহামেডান ১-১ আবাহনী
মোহামেডান ০-২ আবাহনী
মোহামেডান ২-৪ আবাহনী
মোহামেডান ০-১ আবাহনী
মোহামেডান ১-১ আবাহনী
মোহামেডান ২-২ আবাহনী
মোহামেডান ০-৩ আবাহনী
মোহামেডান ০-৪ আবাহনী
মোহামেডান ৪-০ আবাহনী
মোহামেডান ০-৩ আবাহনী