প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ১৩:৫৫ পিএম
টানা চার লিগ শিরোপা জিতে অনন্য এক উচ্চতায়ই উঠে গেছে বসুন্ধরা কিংস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ তো বটেই, স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলেই যে টানা চার লিগ শিরোপা জেতার কীর্তি নেই আর কারও। বসুন্ধরার এই টানা সাফল্যের পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে দলটির খেলোয়াড়দের মধ্যকার রসায়ন, দলীয় বন্ধন। এমনটাই অভিমত দলটির সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সির।
বসুন্ধরা যে চারটি লিগ জিতেছে, তার সবকটিতেই তিনি ছিলেন অন্যতম নেপথ্য কারিগর। তাই দলটাকে তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকেই। তিনিই জানালেন দলের সাফল্যের রহস্য। তার কথা, ‘কাজটা সহজ ছিল না। তবে সে কাজটা সহজ হয়েছে দলীয় বন্ধনের কারণে। আমাদের দলে রসায়নটা বেশ ভালো। খেলোয়াড়, কোচ থেকে শুরু করে অফিসিয়ালরা এখানে এক ছাতার নিচে একটা পরিবারের মতো থাকেন। আমাদের বোঝাপড়াটা তাই বেশ ভালো। দলের রসায়নটা ভালো হলে সাফল্য পাওয়াটা সহজ হয়ে যায়।’
বাংলাদেশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে এসে প্রথম বছরেই ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলা দানিয়েল কলিন্দ্রেসকে দলে ভিড়িয়ে রীতিমতো বড় এক চমকই দিয়েছিল বসুন্ধরা। এরপর ক্লাবটিতে খেলে গেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড এরনান বার্কোসরাও। তবে এত কিছুর পরও দলের মূল খেলোয়াড়ের পুলটা কখনও বদলায়নি আমূলে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার সুফলটাও পাচ্ছে বসুন্ধরা।
রক্সি বলেন, ‘শেষ চার বছর ধরে আমাদের দলটা কিন্তু খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি। বেশিরভাগ জায়গাতে আমাদের মূল খেলোয়াড় বদলায়নি। প্রতি মৌসুমে আমাদের ঘাটতির জায়গাগুলো দেখে তাতে আমরা নতুন খেলোয়াড় যোগ করি। তবে আমাদের দলের কোরটা কিন্তু একই আছে। যার ফলে খেলোয়াড়দের বোঝাপড়াটা বেশ ভালো।’
যাত্রার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বসুন্ধরা লিগ হারায়নি। দীর্ঘ সাফল্যের পর খেলোয়াড়দের জয়ক্ষুধা কমে যাওয়াটাও পথ আগলে দাঁড়াতে পারেনি বসুন্ধরার। ক্লাবের সহকারী এই কোচ জানালেন, সেক্ষেত্রে দায়িত্বটা বেড়ে যায় তাদের। তার কথা, ‘দীর্ঘদিন খেলার ফলে টানা সাফল্য পাওয়ার পরে একসময় অবসাদ চলে আসতে পারে, খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মতুষ্টিটা পেয়ে বসতে পারে। তখন আমাদের দায়িত্বটা বেড়ে যায়। খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাতে হয় তখন আমাদের, তাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে হয়, তাদের ভেতরে জয়ক্ষুধাটা আবার ফিরিয়ে আনতে হয়। এই সব বৈশিষ্ট্যই আর সবার চেয়ে আলাদা করে দেয় আমাদের। চার মৌসুমে চারটা লিগ জেতাটা তারই ফল।’
তবে এত কিছুর পরও আক্ষেপ আছে তার। ঘরোয়া ট্রেবলটা জেতা যে খুব সম্ভব ছিল এবার! সেটা হয়নি বসুন্ধরা কিংস ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে মোহামেডানের কাছে হেরে বসায়। সে আক্ষেপ পরের মৌসুমেই ঘুচিয়ে দিতে চায় বসুন্ধরা।
রক্সি জানালেন, ‘ট্রেবল জেতার লক্ষ্য ছিল আমাদের। সেটা হলো না এবার। ওই সময়টায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমাদের তিনটা ম্যাচ ছিল, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ, এরপর ময়মনসিংহে যেতে হয়েছে, সঙ্গে ছিল ম্যাচের চাপ। সব মিলিয়ে অবসাদ ছিল খানিকটা। ফলে এবার ট্রেবল হলো না। তবে আগামী বছর যেন এমনটা না হয়, কোনো শিরোপা যেন হাত ফসকে না যায়, সে চেষ্টাটা থাকবে; আমরা চেষ্টা করব যেন নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ট্রেবলটা জিততে পারি।’