প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ১২:৫২ পিএম
আপডেট : ২৮ মে ২০২৩ ১২:৫৭ পিএম
বসুন্ধরা কিংস যাত্রা শুরুর পর থেকেই রীতিমতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ‘রাজা’। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাটা জেতা রীতিমতো নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ই বানিয়ে ফেলেছে কোচ অস্কার ব্রুজনের দল। সবশেষ শিরোপায় গড়া হয়ে গেছে ইতিহাস।
আরও পড়ুন : গিলকে দ্রুত ফেরাতে চেন্নাইয়ের সেরা অস্ত্র কে
তবে এত পাওয়ার ভিড়েও দলে না পাওয়ার আক্ষেপ আছে খানিকটা, এই মৌসুমেও যে তিনটি ঘরোয়া শিরোপার সবকটি জেতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি! তবে কোচ অস্কার ব্রুজন সেসব ভুলে তাকাচ্ছেন সামনের দিকে। এবার যে লড়াইটা হবে চ্যাম্পিয়নস লিগে!
এবারের মৌসুমটা আর সব মৌসুমের চেয়ে ভিন্ন ছিল বাংলাদেশের ফুটবলে। এবারই যে প্রথম ফেডারেশন কাপের ম্যাচ চলেছে মৌসুমের ফাঁকে ফাঁকে, তাতে সব প্রতিযোগিতায় মনোযোগটা সমানভাবে ধরে রাখার চ্যালেঞ্জটাও ছিল। বসুন্ধরা সে চ্যালেঞ্জ সামলেই জিতেছে লিগের শিরোপা।
পুরো মৌসুম নিয়ে কোচ অস্কার ব্রুজনের মূল্যায়ন, ‘কঠিন একটা মৌসুম ছিল। অনেক ম্যাচ, অনেক প্রতিযোগিতা ছিল, দলে চোট ছিল, মাঝে জাতীয় দলের খেলাও ছিল, অবসাদও পেয়ে বসেছিল মাঝে; তো অনেক কিছু সামলাতে হয়েছে মাঠে। মৌসুমের পুরোটা জুড়েই আমার মনে হয় আমরা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তবে মৌসুমের বড় সময় জুড়ে আমরা ভালো খেলেছি; এটা সত্য যে, তিন-চার সপ্তাহ আগে একটা বাজে সপ্তাহে আমরা ট্রেবল জেতার সুযোগ খুইয়ে বসেছি, তবে সেটা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখলাম। তবে একটা লিগ আর একটা স্বাধীনতা কাপ জিতেছি আমরা, একটা মৌসুম থেকে যা পেয়েছি তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’
এই শিরোপার ফলে টানা চার মৌসুমে চারটি শিরোপা ঘরে তুলল বসুন্ধরা। এই অর্জনের পেছনে কাজ করেছে বেশ কিছু নিয়ামক। অস্কার জানালেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম একেবারে শুরু থেকেই। প্রথম দিন থেকেই আমরা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছি, যা আমাদের হাতে ছিল, তার। আমাদের দলের পরিবেশটাও অসাধারণ, সবার মাঝে দলীয় রসায়নটা দারুণ। ক্লাবের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা পূরণে আমরা সব সময় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সে অনুপাতে চেষ্টা করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে দলে। সেটাই আর সবার সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছে।’
দলের এমন সাফল্যের নিয়ামক অস্কার নিজেও কম কোথায়? তিনি নিজে স্পোর্টিং ক্লাব গোয়া, নিউ রেডিয়েন্টের হয়ে জিতেছেন লিগ, এবার বসুন্ধরাকে জেতালেন টানা চার শিরোপা। লিগ ফরম্যাটে নিজের সাফল্য নিয়ে অস্কারের মূল্যায়ন, ‘আমি আমার কাজটাকে ভালোবাসি, ফুটবলটাকে ভালোবাসি। আমি প্রতিযোগিতার ঘ্রাণ পছন্দ করি। নিজেদের ক্লাবে খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন করিয়ে আরও ভালো হতে সাহায্য করা, তাদের ম্যাচের ধারণাটা, স্টাইলটা বোঝানো আমাদের ম্যাচ অনুশীলনের একটা বড় অংশ। প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বৈরথটাও আমি বেশ উপভোগ করি। তাদের নিয়ে পড়াশোনা করা, এমন জায়গা খুঁজে বের করা; যেখানে তাদের আমরা আঘাত করতে পারি, ম্যাচ পরিস্থিতিতে তাদের উত্তেজিত করতে পারি যা আমাদের সুবিধা দেবে, এসব খুঁজে বের করাটা বেশ আনন্দ নিয়েই করি।’
ঘরোয়া সাফল্যটা নিয়মিত আসছে বলে এই অর্জনকে খাটো করে দেখছেন না অস্কার। তার কথা, ‘ঘরোয়া সাফল্যটা নিয়মিত আসছে বলে এমন নয় যে এটা জেতা খুব সহজ। আমরা এটা খুব সহজ বানিয়ে নিয়েছি বলে এমন মনে হচ্ছে। নেপথ্যে অনেক কাজ করতে হয়েছে আমাদের। এই মৌসুমে দেখুন, আমাদের বিপিএল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। আমরা তলানিতে থাকা দলের সঙ্গে হেরেছি। আবাহনী তলানিতে থাকা দ্বিতীয় দলের কাছে হেরেছে। এর দ্বারাই বোঝা যায় প্রতি ম্যাচে দূরত্বটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলতে যাবেন, আপনার সেরাটাই ঢেলে দিতে হবে। শিরোপা জেতাটাটা সাধারণ কিছু মনে হচ্ছে, কিন্তু আসলে বিষয়টা এমন নয়, বিষয়টা পুরো উল্টো, কঠিন।’
কোচ অস্কার বড় করে জানালেন সভাপতি ইমরুল হাসানের কথাও। তার ভাষ্য, ‘বসুন্ধরায় করপোরেট হাউস হিসেবে একটা বিজয়ী মানসিকতা আছে। বিশেষ করে সভাপতি ইমরুল হাসান আমাদের অভিভাবক, দলের সাফল্যেরও তিনিই স্থপতি। তিনি সমর্থন দিয়ে, অনুপ্রেরণা দিয়ে, লড়াইয়ে সহযোগিতা করেই আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটা গড়ে দিয়েছেন।’
তবে এবার বসুন্ধরাকে ভাবতে হবে সামনের প্রতিযোগিতার কথা। আসছে আগস্টে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে যাচ্ছে বসুন্ধরা। খেলবে প্রতিযোগিতার প্লেঅফে। কোচ অস্কারের কথা, এখন সে ভাবনা ভাবতে হবে দলকে। তিনি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য অনেক কাজ করতে হবে আমাদের। বাংলাদেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের জন্য আমরাই সেরা, কিন্তু এখানে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হয়ে উঠতে হলে অনেক কাজ আছে যা আমাদের করতে হবে। এখন আমাদের ক্লাবের সঙ্গে কথা বলতে হবে, চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে ভাবতে হবে। আমার মনে হয় বর্তমান যে দল আছে, তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে উঠতে হলে বেশ কিছু অ্যাডজাস্টমেন্টের প্রয়োজন আছে আমাদের।’