× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘এ’ দল ফেল কেন

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ১২:০৭ পিএম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৩ ১২:১০ পিএম

‘এ’ দল ফেল কেন

বৃষ্টির কল্যাণে প্রথম ম্যাচ বাঁচায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দ্বিতীয় ম্যাচেও বৃষ্টির বাধা ছিল। শেষমেশ ম্যাচের ফল পক্ষে আসেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে ৩ উইকেটে। ড্র থেকে হার। ম্যাচের ফল বদলালেও বদল ঘটেনি বাংলাদেশি ব্যাটারদের ভাগ্যে। দুই ম্যাচেই ব্যাটাররা ছিলেন নিজেদের ছায়া।

আরও পড়ুন : জোকোভিচের ইতিহাস গড়ার মিশন

অথচ ডিপিএলে ভালো ছন্দে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়েই গড়া হয়েছিল ‘এ’ দল। দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে মিরপুরে গণমাধ্যমের সামনে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন হাবিবুল বাশার সুমন। সেখানে তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে চার দিনের ম্যাচে ব্যাটিং প্রত্যাশা একটু বেশি ছিল।’ 

প্রত্যাশাটা বেশি থাকবে- এটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ, ডিপিএলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টুর্নামেন্ট শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে নেমেছিল ক্রিকেটাররা। যদিও ওয়ানডে ফরম্যাটে হয়েছিল ডিপিএল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নেমেছিল লাল বলে। ফরম্যাট বদলালেও ব্যাটারদের ব্যাটে ধারাবাহিকতা থাকার সুযোগ ছিল। তার বিন্দুমাত্র দেখা যায়নি সিলেটের প্রথম দুই টেস্টে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তো ব্যাটিংয়ে ছিল সফরকারীদের দাপট। ৪২৭ রানের রান-পাহাড় গড়ে বাংলাদেশকে ফেলে দিয়েছিল ফলোঅনে। সফরকারীদের বড় সংগ্রহের জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল আগ্রাসী। ‘বাজবল’ ধাঁচের ওই ব্যাটিংয়ে অল্পতেই আটকে যায়। তাতে ফলোঅনে পড়ে নামতে হয় দ্বিতীয় দফার ব্যাটিংয়ে। ফলোঅনে পড়েও ব্যাট হাতে খুব একটা সফল ছিল না বাংলাদেশ। উল্টো বৃষ্টির কবলে পড়ে ম্যাচ ড্র হওয়ায় স্বস্তি আসে বাংলাদেশ শিবিরে।

প্রথম টেস্টের পর কোচ জেমি সিডন্স স্পষ্ট বলেছিলেন, ব্যাটারদের কাছে আগ্রাসী ব্যাটিং চান না। টেস্টের ধীরস্থির ব্যাটিং প্রত্যাশা তার। দ্বিতীয় টেস্টে সিডন্সের ওই প্রত্যাশা কিছুটা পূরণ হয়েছে। তবে ম্যাচে জয় আসেনি। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সিডন্স আরও জানান, সাদা বল থেকে লাল বলে হুট করে পরিবর্তনে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে পুরোপুরি মানিয়ে নেবে দল। মানিয়ে নিলেও জয়টা হাতছাড়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পারলেও সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। কোনো ইনিংসেই নিজেদের রান ৩০০ পার করতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে শাদাহাত হোসেন দিপুর কল্যাণে দুইশ রানের কোটা পার করে। দ্বিতীয় ইনিংসে সাদমান ইসলাম, শাহাদাত হোসেন দিপু ও ইরফান শুক্কুরের হাফসেঞ্চুরির পরও রান তিনশ পার হয়নি। ফল- ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

সিলেটে ব্যাটারদের জন্য দেওয়া হয়েছিল চ্যালেঞ্জ। উইকেট কিছুটা পেসবান্ধব হওয়ায় রাখা হয়েছিল ৬ মিলিমিটার ঘাস। পেসবান্ধব এই উইকেটে ব্যাটাররা কেমন করে সেটাও দেখার ছিল নির্বাচকদের জন্য। এই নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘সিলেটে দুই ম্যাচেই ৬ মিলিমিটার ঘাস রাখা হয়েছিল। পেসবান্ধব উইকেট। এই কন্ডিশনে কে কেমন ব্যাটিং করে দেখার বিষয় ছিল। এখানে ভালো করতে পারলে ভবিষ্যতে ভালো ক্রিকেটার হতে পারবে।’

দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রিকেটারদের বাজে ছন্দের পর দলে পরিবর্তন এসেছে। সফরকারীদের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে জাতীয় দলের পাঁচ ক্রিকেটারকে ‘এ’ দলে এনেছেন নির্বাচকরা। নুরুল হাসান সোহান, মুমিনুল হক, শরিফুল ইসলাম, ইয়াসির আলী রাব্বি ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীরা খেলবেন শেষ টেস্টে। তাদেরকে জায়গা করে দিতে বাদ পড়েছেন আফিফ হোসেন, নাঈম শেখ, সাদমান ইসলাম, তানভীর ইসলাম, রিপন মণ্ডল, রিশাদ হোসেন ও খালেদ আহমেদ।

যদিও গুঞ্জন আছে টানা খেলা থাকায় আপাতত ‘বিশ্রামের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আফিফ। নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই অবশ্য বিশ্রামের কথা বলেছে। আমরা ‘এ’ দলে সবাইকে অদল-বদল করে খেলাচ্ছি, এটাও তাকে বাদ দেওয়ার কারণ। এটাকে আসলে বাদ বলা যাবে না। আমাদের পরিকল্পনার অংশ।’

‘এ’ দলে প্রতি ম্যাচেই কেন এত বেশি পরিবর্তন হচ্ছে, সেটাও পরিষ্কার করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্বাচকদের। এজন্য অবশ্য ফলের দিকে খুব বেশি তাকাচ্ছেন না, ‘আমরা চাচ্ছি যত বেশি ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়া যায়। সামনে আমাদের আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট আছে। এজন্যই মূলত এভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা ফলের দিকে ওইভাবে তাকাচ্ছি না। এটা অবশ্য বলা যাবে না, আমরা ফল নিয়ে কোনো ধরনের চিন্তা করছি না।’

সিলেটে বাংলাদেশ ‘এ’ দল নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ব্যাটারদের রান না পাওয়ায়। নির্বাচক রাজ্জাক অবশ্য ব্যাটারদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। উইকেটে রাখা ঘাসের কারণে ব্যাটারদের রান করতে অসুবিধা হচ্ছিল বলে মনে করেন। ‘উইকেটে ঘাস রাখা হয়েছে। সে জন্য বোধহয় ব্যাটাররা রান পেতে একটু সমস্যায় পড়ছেন। এটাই আসলে আমাদের পরিকল্পনা ছিল।’ যোগ করে রাজ্জাক। 

উইকেটে থাকা ঘাসের কারণে পেসারদের বড় সুযোগ ছিল নিজেদের প্রমাণের। বোলাররা নিজেদের পুরোপুরি প্রমাণ করতে করতে পারেননি। এই নিয়ে অবশ্য অভিযোগ নেই নির্বাচকদের। বরং, কিছুটা খুশি তাদেরকে নিয়ে। এই বিষয়ে রাজ্জাকের ভাষ্য, ‘আমার মনে হয়, বোলাররা ভালো করেছে।’

আফগানিস্তান সিরিজের উইকেটে থাকতে পারে পেসারদের জন্য সহায়তা। ক্রিকেটারদের গ্রানাইট স্লাব ব্যবহার করে অনুশীলন ও সিলেটের উইকেট দিচ্ছে ওই ধরনের আভাস। সিলেটে পেসবান্ধব উইকেটে খেলার অভ্যাস আফগানদের বিপক্ষে কাজে লাগাতে পারে কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা