প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৩ ১৪:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম
দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো প্রতিযোগিতার ফাইনালে মুখোমুখি মোহামেডান ও আবাহনী। সে ম্যাচের আগে অবশ্য আরও পাঁচ দিনের মতো সময় বাকি। তবে তার আগে দুই দলই মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের লড়াইয়ে, ভেন্যুটাও একই, কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে।
প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর অবস্থান দুইয়ে। শিরোপা জেতার সম্ভাবনা কাগজে কলমে আছে, তবে বাস্তবতা বলছে তা হওয়ার সম্ভাবনা ঢাকায় আজ তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনার মতোই ‘প্রবল’। পয়েন্ট টেবিলের দুই থেকে তিনে নেমে যাওয়ার শঙ্কাও তেমন নেই।
লিগে মোহামেডানের পরিস্থিতি অবশ্য আবাহনীর মতো নয়। বর্তমানে আছে তালিকার চারে। তিনে উঠে আসার লড়াইয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছে পুলিশ, শেখ রাসেল ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব; একটা পয়েন্ট আর গোল ব্যবধান যাদের আলাদা করে রেখেছে এখন।
দুই দলের পরিস্থিতিটা এক রকম নয়। তবে দুই দলকে এনে একবিন্দুতে মিলিয়েছে শুক্রবারের এই মহারণ। ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’- দুই দলের মনোভাবই এমন। মহারণে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় কোনো পক্ষ।
আবাহনী কোচ মারিও লেমোস বলেই বসলেন, এটা ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল। তার কথা, ‘কঠিন একটা ম্যাচ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। আমরা খুব ভালো একটা দলের বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যারা লিগের দ্বিতীয় ভাগে এসে দারুণ উন্নতি করেছে। এটা ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল। আমরা জিততে চাই, সেটা হলে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণাটা আরও ভালোভাবে পাওয়া যাবে।’
লিগে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণে আবাহনীর সামনে সুযোগ ছিল বেঞ্চের শক্তিও খানিকটা বাজিয়ে দেখার। তবে লেমোস আগেভাগেই জানিয়ে রাখলেন, সে সবের ধার ধারছেন না তিনি। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘সেরা দলটাই শুক্রবার খেলতে চলেছে। আমরা ম্যাচটা নিয়ে বেশ সিরিয়াস। ম্যাচটার জন্য সম্ভাব্য সেরা উপায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদও কথা বললেন লেমোসেরই সুরে। জানালেন, মঙ্গলবারের ফেড কাপের ফাইনালটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ লিগের ম্যাচটাও। তার কথা, ‘দুটো ম্যাচ সামনে আমাদের, দুই ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব।’
আবাহনী কোচ মারিও লেমোসের সঙ্গে আলফাজ আহমেদের পার্থক্য আছে অনেক। তবে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটা হচ্ছে, আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের ঝাঁজটা খেলোয়াড় হিসেবেও চেখে দেখার অভিজ্ঞতা আছে তার।
সেই অতীতের সঙ্গে এই বর্তমানের অবশ্য মিল নেই তেমন। তবে সেটুকু বাদ দিলে ডার্বির ঝাঁজটা দলে আছে বেশ, জানালেন আলফাজ। মোহামেডান কোচ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পার্থক্য তো একটু থাকেই। ঢাকার বাইরে ম্যাচ, দর্শকদের উপস্থিতিরও একটা ব্যাপার থাকে। তবে দল পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা পেশাদার দল, মাঠে নামব ম্যাচটা জেতার জন্যই।’
মোহামেডান কোচের চোখ আড়চোখে আছে পরের সপ্তাহের সেই ফাইনালেও। জানালেন, সেই ফাইনালের আগে বিশ্রামটা কম হয়ে যাচ্ছে খানিকটা। তার কথা, ‘ফাইনালের ঠিক আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বিশ্রামে খানিকটা প্রভাব ফেলবে অবশ্যই। তবে পেশাদার ফুটবলে এমনটা মেনে নিয়েই এগোতে হবে।’