পার্থ রায়
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১২:৫০ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৩ ২১:১৭ পিএম
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ পারভেজ রসুল। ভারতীয় এই অলরাউন্ডার নিজ দেশে সুযোগ না পেলেও বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে নিয়মিতই প্রমাণ করছেন। গত আসরে শেখ জামালকে প্রথমবারের মতো ডিপিএল চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা ছিল তার। এবারও দলটির বোলিং আক্রমণের নেতা তিনি।
আরও পড়ুন - সালাউদ্দিন-মুর্শেদী-সোহাগের দুর্নীতি অনুসন্ধানে হাইকোর্টের নির্দেশ
এবার তার দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব দ্বিতীয় সেরা হয়েছে।এই আসর শেষে ১৬ ম্যাচে তার শিকার ৩৩ উইকেট। দারুণ ছন্দে থাকা এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ও নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন - পার্থ রায়
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : টানা দুই আসরে ডিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি আপনি। দারুণ ছন্দে থাকার পর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনে হয়?
পারভেজ রসুল : এর জন্য (সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি) আল্লাহর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি পাঁচ মৌসুম ধরে ডিপিএল খেলছি। আমি অন্য কোথাও খেলি না। অনেক ক্রিকেটার ইংল্যান্ডে মাইনর কাউন্টি খেলতে যায়। কিন্তু আমি যাই না, কারণ ডিপিএল মাইনর কাউন্টির চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এখানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার খেলে। এখানে নিজের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমি অন্য ক্রিকেটারদেরও বলি, এখানে খেল। এখানে খেললে উন্নতি করতে পারবা। কারণ এখানে প্রথমে মাত্র এক-দুই ম্যাচের চুক্তি পাওয়া যায়। ভালো খেললে মেয়াদ বাড়ে। না হলে ফিরে যেতে হয়।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : দলের একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে খেলার সুযোগ পান। সেটাকে বাড়তি চাপ মনে হয়?
পারভেজ রসুল : না। এখানে দল থেকে অনেক সুযোগ পাওয়া যায়। আমি এখানে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে অধিনায়কের সঙ্গে প্রচুর কথা বলার সুযোগ হয়। সেটাও আমাদের উন্নতিতে কাজ করে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের কাছ থেকে সমর্থন কী রকম থাকে?
পারভেজ রসুল : সে দারুণ ক্রিকেটার। গত মৌসুম থেকে তার সঙ্গে খেলাটা দারুণ উপভোগ করছি। মাঠে খুবই শান্ত থাকে। খেলাটা ভালো বোঝে। গত বছর সুপার লিগে দারুণ খেলেছিল। এবারও খেলছে। সুপার লিগ এলেই সে ফর্ম ফিরে পায়। সে আসলে সুপার লিগের খেলোয়াড়। যেভাবে দলকে নেতৃত্ব দেয় সেটা অসাধারণ। তার চেয়ে বড় কথা, সবাইকে অনেক সম্মান করে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : শেখ জামালে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী-তাওহিদ হৃদয়দের সঙ্গে খেলেছেন। তাদের কেমন মনে হলো?
পারভেজ রসুল : তারা দারুণ ক্রিকেটার। তাওহিদের সঙ্গে এবার প্রথম খেললাম। মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে গতবার খেলেছি। তাকে ভালো লাগে। তাওহিদ হৃদয় অসাধারণ। প্রথমে নেটে দেখেছিলাম। অনেক বাজে শট করছিল। কিন্তু মাঠে দারুণ ক্রিকেটার। মাঝের ওভারের সে আদর্শ ক্রিকেটার। ফাঁকা জায়গায় ভালো শট করতে পারে। সময়মতো বাউন্ডারিও হাঁকাতে পারে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্পদ হতে যাচ্ছে সে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : বাংলাদেশের বড় তারকাদের বিপক্ষে খেলেছেন। তাদের বিপক্ষে খেলা কেমন ছিল?
পারভেজ রসুল : মোহামেডানের বিপক্ষে সাকিবকে পেয়েছিলাম। গত বছর তামিমের বিপক্ষে খেলেছিলাম। মুশফিককে এবারও আমি আউট করেছি। সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের কিংবদন্তি। সবার মধ্যে সাকিব আল হাসান অন্য পর্যায়ের ক্রিকেটার। সে যেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলে, সেটা অসাধারণ। তার সঙ্গে খেলার খুব বেশি সুযোগ হয়নি। প্রতিবারই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছি। কথা বলার খুব একটা সুযোগ হয়নি। আমার মনে হয়, সে মানুষ হিসেবেও দারুণ।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : এবার আপনার জাতীয় দলের বিষয়ে একটু ফেরা যাক। জাতীয় দলে আপনি সুযোগ কম পেয়েছেন বলে মনে হয় কী?
পারভেজ রসুল : অবশ্যই। আমার মনে হয় যেভাবে আমি পারফর্ম করেছি, অন্যদের মতো আমি সুযোগ পাইনি। অন্যরাও আমার মতো পারফর্ম করে বেশি সুযোগ পেয়েছে। আমি মাত্র এক ম্যাচ খেলেছি। আমি ঘরোয়া ক্রিকেটের একজন টপ অলরাউন্ডার। যখন সুযোগ পেয়েছি, তখন এক ম্যাচ খেলেই বাদ পড়েছি। আবার আমি পারফর্ম করে সুযোগ পেয়েছি। আবার এক ম্যাচে সুযোগ পেয়েছি।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : সুযোগ কম পেয়েছেন জম্মু-কাশ্মিরের ক্রিকেটার বলে?
পারভেজ রসুল : আমি জানি না। সেটা নির্বাচকরা ভালো জানে। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যেখানে খেলার সুযোগ পেয়েছি। পারফর্ম করেছি। বিশ্বের যে প্রান্তে খেলেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটাই আমার হাতে ছিল। নির্বাচনের বিষয়টা নির্বাচকদের হাতে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : ভারতে সুযোগ না পাওয়ায় অন্য দেশের হয়ে খেলার চেষ্টা করেছিলেন?
পারভেজ রসুল : আমি কখনই চেষ্টা করিনি। আমি সবসময় নিজেকে দেশের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত রেখেছিলাম। রঞ্জি, বিজয় হাজারে, সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি কখনই যথেষ্ট সুযোগ পাইনি। এটাই হয়তো আমার ভাগ্য। অনেক খেলোয়াড় দেশের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বাইরে খেলছে। এটা তাদের ব্যাপার।