প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১০:৩৪ এএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৩ ১০:৩৯ এএম
ডিপিএলের শিরোপা ঘরে ফিরিয়েছে আবাহনী। দলটির শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দলটির দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও এনামুল হক বিজয়ের ব্যাট। ডিপিএলের এবারের আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তারা দুজনই। তাদের মতো নজর কেড়েছেন ভারতের চিরাগ জানি ও পারভেজ রসুল। চিরাগ ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড ছন্দে নিজেকে চিনিয়েছেন।
আরও পড়ুন : ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে প্রতারণার শিকার আশরাফুল
অন্যদিকে পারভেজ রসুল আবারও প্রমাণ করেছেন ফুরিয়ে যাননি। ডিপিএলের এবারের আসরের ব্যাটে-বলে সেরা ছন্দে থাকা ক্রিকেটাররা কেমন করেছেন সেটাই তুলে ধরা হয়েছে প্রতিদিনের বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য।
সেরা পাঁচ ব্যাটার…
ডিপিএলের সেরা ব্যাটার ছিলেন নাঈম শেখ। তার ৯০০-এর বেশি রানে আবাহনীর জন্য শিরোপা জয় হয়ে ওঠে সহজ। এ ছাড়াও এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটে ছিল ৮০০-এর বেশি রান। তারা দুজনই এবারের আসরের সেরা রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপরে আছেন। এ ছাড়াও সেরা পাঁচে আছেন ইরফান শুক্কুর, ফজলে মাহমুদ ও চিরাগ জানি।
৯৩২ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপর আছেন নাঈম শেখ। এবারের আসরে ৭১.৬৯ গড়ে ব্যাটিং করা নাঈমের ব্যাটে ১০ হাফ সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে এক সেঞ্চুরি। ৯১.৬৪ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ব্যাটিং। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনামুল হক বিজয় করেছেন ৮৩৪ রান। পুরো আসরে তিনটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে নজরকাড়া বিজয় এবারও হয়তো হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন- এমনটাই ধারণা ছিল। শেষ পর্যন্ত খেই হারিয়ে হাজার রানের মাইলফলক আর স্পর্শ করা হয়নি তাদের।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ইরফান শুক্কুর আছেন তিন নম্বরে। ১৫ ইনিংসে ৬৩.৯১ গড়ে করেছেন ৭০৩ রান। ৭ সেঞ্চুরির পর এক হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবারের আসরেই লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান এই ব্যাটার। চারে শেখ জামালের ফজলে মাহমুদ রাব্বি। শেখ জামালকে শিরোপার দৌড়ে রাখতে ব্যাট হাতে বড় ভূমিকা ছিল তার। ১৬ ইনিংসে ৫৫.৯২ গড়ে করেন ৬৭১ রান। এক সেঞ্চুরি এসেছিল ফজলে রাব্বির ব্যাটে। পাঁচে আছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ভারতীয় ক্রিকেটার চিরাগ জানি। ব্যাটে-বলে দারুণ ছন্দে থাকা চিরাগের ব্যাটে আসে ৬৬৯ রান। ৬০.৮২ গড়ের সঙ্গে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০.৩০। সেরা পাঁচে থাকলেও কোনো সেঞ্চুরির দেখা পাননি চিরাগ। সেরা পাঁচে থাকা ব্যাটারদের মধ্যে শুধু চিরাগই ছিলেন সেঞ্চুরিহীন। সেঞ্চুরির আক্ষেপ থাকলেও ব্যাটে-বলে আলো ছড়িয়ে টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের তকমা নিয়ে ঘরে ফিরেছেন এই অলরাউন্ডার।
সেরা পাঁচ বোলার…
সুপার লিগের শেষ ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে দুই উইকেট নিলেও দলকে জেতাতে পারেননি পারভেজ রসুল। শিরোপা জেতাতে না পারলেও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। পারভেজ ছাড়াও সেরা পাঁচ বোলারের তালিকায় আছেন হাসান মুরাদ, তানভীর ইসলাম ও টিপু সুলতানদের মতো তরুণ বোলাররা। সেরা পাঁচ ব্যাটারের মতো বোলিংয়ের সেরা পাঁচের একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার চিরাগ জানি।
শেখ জামালের বোলিং আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন পারভেজ রসুল। ১৬ ম্যাচে ৩৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। ডিপিএলে কোনো ইনিংসেই ফাইফারের দেখা না পেলেও নিয়মিত উইকেট শিকার করেছেন। তার বোলিং গড় ছিল ১৭.৯৪ ও ইকোনমি ছিল ৪.০৮। পরের অবস্থানে আছেন হাসান মুরাদ। শাইনপুকুরের হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলা মুরাদ দলকে রেলিগেশন থেকে বাঁচাতেও বড় ভূমিকা রাখেন। ডিপিএলের এবারের আসরে তিনি নেন ২৫ উইকেট।
আবাহনীকে শিরোপা জেতাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ভূমিকা রেখেছিল বোলিং ইউনিট। সাইফউদ্দিন টুর্নামেন্টের শুরুতে আবাহনীর বোলিংয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। সুপার লিগে আলো ছড়িয়ে ১৫ ম্যাচে নেন ২৪ উইকেট। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা চিরাগ জানি সেরা পাঁচের একমাত্র বিদেশি। ১৫ ম্যাচে আবাহনীর চিরাগের সমান ২৪ উইকেট নেন তিনি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি তার ওপরে থাকা তানভীরের সমান গড় ও ইকোনমিতে ডিপিএলে বোলিং করেছিলেন। দুজনেরই বোলিং গড় ২৪.৮৩ ও ইকোনমি রেট ৪.৬৬।
পাঁচ নম্বরে আছেন গাজী গ্রুপের ‘অখ্যাত’ টিপু সুলতান। বাঁহাতি এই স্পিনার গাজী গ্রুপের হয়ে বোলিং করেছেন মাত্র ৯ ইনিংসে। তাতেই নিজের পকেটে ভরেছেন ২৩ উইকেট। টুর্নামেন্টের গাজীর জার্সিতে সব ম্যাচ খেলতে পারলে হয়তো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হতেন এই বাঁহাতি। পাঁচ উইকেট নিতে না পারলেও প্রতিম্যাচেই একের অধিক উইকেট নিয়েছেন।