প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৩ ১৫:০০ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৩ ১৫:০০ পিএম
শেষবার কলকাতা নাইট রাইডার্স শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল ২০১৪ সালে। এরপর ২০২১ সালে ফাইনাল খেললেও শিরোপার স্বাদ পায়নি দলটি। চলতি আইপিএলেও ধুঁকছে কলকতা। প্লে অফ খেলার রেস থেকে এক রকম ছিটকেই গেছে বলা যায়। দশ দলের আইপিএলে ১২ ম্যাচ শেষে দলটির অবস্থান তালিকার ৮ নম্বরে। আর এই পুরো সময়টাতেই নিয়মিত খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ দুই তারকা অলরাউন্ডার সুনীল নারিন ও আন্দ্রে রাসেল। দলের জয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি কেউই। তাদের নিয়েই যত সমালোচনা। তাই এই দুই তারকাকে নিয়ে কলকাতার ম্যানেজমেন্টকে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন দলটির সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান।
নারিন ও রাসেলকে নিয়ে ইএসপিএনক্রিকইনফো-এর অনুষ্ঠান টি-টোয়েন্টি টাইমে ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের দেখা উচিত গত তিন বছরে নারিন এবং রাসেল কেমন পারফরম্যান্স করেছে। ব্যাট বা বল হাতে তাদের কতগুলো ম্যাচ জয়ী পারফরম্যান্স ছিল। দল হিসাবে, আপনি যদি ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চান এবং পরবর্তী স্তরে যেতে চান, তাহলে অবশ্যই তাদের নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে, কারণ আপনি যদি গত কয়েক মৌসুমের দিকে তাকান তবে দেখবেন, তাদের পারফরম্যান্স তেমন ভালো ছিল না। যতটা ভালো আশা করা হয় তাদের থেকে। একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে আপনার কাছ থেকে আশা করা হয় আপনি উইকেট বা রান পাবেন। আপনি যদি তা করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই হবে।’
চলতি আইপিএলে এখন পর্যন্ত ১২টি ম্যাচে ৭টি উইকেট শিকার করেছে নারিন। যেখানে তার গড় ৮.৫। ব্যাট হাতেও একই অবস্থা। এক সময়ের আক্রমণাত্মক ওপেনার জায়গা হারিয়েছেন ওপেনিংয়ে। টেলেন্ডার হিসেবে খেলে গত তিন মৌসুমে মাত্র ৬.৯৫ গড়ে ১৫৩ রান করেছেন তিনি। আর চলতি মৌসুমে ৯ ইনিংস ব্যাট করে তার মোট রান ২০।
রাসেলের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়, গত তিন মৌসুমেই তার স্ট্রাইকরেট ১৫০ এর উপর থাকলেও কখনো কখনো প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। দলের জয়ে রাখতে পারেননি ভূমিকা। ২০২১ আসরে ৯ ইনিংসে ১৮৩ রান করেন। ২০২২ আইপিএলে ১২ ইনিংসে তার রান ৩৩৫। আর এবার এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচ খেলে তার রান ২১৮। সেই সঙ্গে চলতি আইপিএলে বল হাতে তার গড় ১১.২৯। যা তার আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ। এর জন্য অনেকে রাসেল ও নারিনের বয়সকে (৩৫ বছর) দায়ী করলেও ইউসুফ সেটি মানতে নারাজ।
তার মতে, ‘আমার মনে হয় না বয়স কোনো ফ্যাক্টর হওয়া উচিত, কারণ একই বয়সের অন্যরাও আছেন যারা এখনও খেলছেন, এবং ভালো পারফর্মও করছেন। তাছাড়া, তারা দুজনেই সারা বছর খেলে। আর এর মানে হল আপনার শরীর ভালো আছে। তবে আমি বুঝতে পারছি না তাদের কী সমস্যা হচ্ছে। এই দুজনই কলকাতার ম্যাচ উইনার। আর যখন ম্যাচ উইনাররা পারফর্ম করে না, তখন আপনার দল লড়াই করবেই। সারা বছর খেলার কারণে হয়তো ক্লান্তি একটি কারণ হতে পারে। তবে সবাই চায় এবং আশা করে তারা ভালো খেলবে।’