প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৩ ০৯:৩০ এএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৩ ০৯:৩৪ এএম
অবশেষে নাজমুল হোসেন শান্তর পেছনে করা লগ্নিগুলো কাজে দিতে শুরু করেছে। শান্তর ব্যাট হাসছে নিয়মিতই। সবশেষ ওয়ানডেতেও করলেন সেঞ্চুরি, তাতে ভর করে বাংলাদেশ জিতল ৩২০ রান তাড়া করে।
আরও পড়ুন : এমন জয় দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করবে
ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির পর শান্ত ধন্যবাদ দিলেন সবাইকে, যারা দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, সমর্থন দিয়ে গেছেন শুরু থেকে। তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদটা তাদের প্রাপ্য। নির্বাচকরা, সাবেক কোচ রাসেল ডমিঙ্গো থেকে শুরু করে বর্তমান সব কোচিং স্টাফ, তারা আমাকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়েছেন। এটাই আমাকে সাহায্য করেছে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, তারা আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। তবে আমার আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, কারণ আমার মনে হচ্ছে দুটো ইনিংসেই কেবল ভালো খেলতে পেরেছি। যদি আমি এমনটা ধরে রাখতে পারি, সেটা দল তো বটেই, আমাকেও সাহায্য করবে।’
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবারের ম্যাচে শুরু থেকেই শান্ত ছিলেন সাবলীল। তবে সেঞ্চুরির কথা ভাবনাতেও ছিল না তার, জানান তিনি। তার কথা, ‘আমি সেঞ্চুরির কথা মোটেও ভাবছিলাম না। আমি স্রেফ বল দেখেছি, আর খেলেছি। আমি জানতাম, ঠিকভাবে খেলতে পারলে সেঞ্চুরিটা পাব।’
তবে ম্যাচ শেষে একটু আক্ষেপও ভর করেছে তার মনে, খেলাটা যে শেষ করে আসতে পারেননি! তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি, কারণ এটা আমার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, আর যেভাবে খেলতে চেয়েছি, সেভাবেই পেরেছি। তবে এখন মনে হচ্ছে, ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারলে আরও ভালো লাগত, আরও আনন্দ পেতাম।’
তবে এমন ব্যাটিংয়ের পেছনে শান্ত বাহবা দিলেন সঙ্গী তাওহিদ হৃদয়কেও। তার সাবলীল ব্যাটিংই যে চাপহীনভাবে ব্যাট চালানোর সুযোগ করে দিয়েছিল শান্তকে! তিনি বলেন, ‘যেভাবে হৃদয় ব্যাট করেছে উইকেটে এসেই, যে ইন্টেন্টটা সে দেখিয়েছে, সেটা আমার ব্যাটিংয়ে সাহায্য করেছে, সে কখনও নার্ভাস ছিল না। যে জুটিটা আমরা গড়েছি, তাতে আমরা পরিস্থিতির দাবি মেনে খেলতে চাইছিলাম, ফলের কথা চিন্তা না করে খেলতে চাইছিলাম, বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চেয়েছি।’
হৃদয়ের সঙ্গে ব্যাটিংটা উপভোগ করেন। এবার সিলেট স্ট্রাইকার্সে খেলেছেন একসঙ্গে। বিপিএল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিলেট খেলেছে ফাইনালে, তার পেছনে অবদান আছে এই দুজনেরও। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে ব্যাটিংটা আমি উপভোগ করি, আমরা বিপিএলে বেশ কিছু বড় জুটি গড়েছি, দুজনেই আমরা বুঝেছি যে কীভাবে আমরা ব্যাট করতে চাই, কীভাবে ইনিংস গড়তে চাই। যে ব্যাট হাতে যে ইন্টেন্টটা দেখায়, সেটা দলের জন্য ভালো। কারণ তা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয়। যে তার প্রক্রিয়ার বাইরে যায় না। তার এভাবেই খেলা উচিত। আমাদের দলের পরিকল্পনাটাও এমনই, আমরা আমাদের স্বাভাবিক ব্যাটিংটাই করব, তিন না চার উইকেট গেছে, সেটা ভাবনাতেও আনব না।’