ডিপিএল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৩ ০৮:৩৮ এএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৩ ০৮:৪৪ এএম
ডিপিএলে শিরোপার লড়াই মানেই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যার প্রমাণ শেষ রাউন্ডে নির্ধারিত হবে চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ঘরে তোলার দৌড়ে আছে ধানমন্ডিপাড়ার দুই দল আবাহনী ও শেখ জামাল। গত মৌসুমের পর এবারও শিরোপার লড়াইয়ে আধিপত্য তাদেরই। এবারের ডিপিএলের রবিন রাউন্ড পর্বে দুই দল জানান দিয়েছিল শিরোপার লড়াই হবে জমজমাট।
আরও পড়ুন : শান্তর সেঞ্চুরিতে ক্রিকেট থ্রিলার জিতল বাংলাদেশ
সুপার লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরে পেছনে পড়েছিল শেখ জামাল। অগ্রগামিতা ধরে রাখা আবাহনী চতুর্থ রাউন্ডে ম্যাচ হেরে বসে। তাতেই শিরোপার লড়াই আবারও হয়ে ওঠে জমজমাট। লড়াই জমে ওঠায় শিরোপা কার হাতে উঠবে তা জানতে অপেক্ষা শেষ রাউন্ডের। মিরপুরে আজকের আবাহনী- শেখ জামাল হাইভোল্টেজ ম্যাচ পরিণত হয়েছে ‘অলিখিত’ ফাইনালে। ম্যাচে যারা জিতবে তাদের হাতে উঠবে এবারের ডিপিএল শিরোপা।
মৌসুমের শুরু থেকেই টানা জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী। টানা ৮ জয়ের পর আকাশি-নীল শিবির পায় হারের তিক্ত স্বাদ। সেটাও শিরোপা লড়াইয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ জামালের কাছে। ওই হারে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে নামে আবাহনী। সুপার লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে আবাহনীকে শীর্ষস্থান ফিরিয়ে দেয় শেখ জামাল। ওই গাজী গ্রুপের কাছেই হেরেছিল দলটি। শেষ রাউন্ডের আগে শেখ জামালের শীর্ষে ওঠার পেছনের নায়ক ওই গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সই। সুপার লিগের চতুর্থ রাউন্ডে গাজী গ্রুপের কাছে আবাহনীর পা হড়কিয়েছে।
শেষ রাউন্ডে মাঠে নামার আগে আবাহনী ও শেখ জামালের পয়েন্ট সমান ১৫ ম্যাচে ২৬। ডিপিএলে সমান পয়েন্ট হলে প্রথমে বিবেচনায় আসে মুখোমুখি দেখায় কে এগিয়ে। সেখানেই পেছনে পড়েছে আবাহনী। শেখ জামালের কাছে মুখোমুখি লড়াইয়ে হেরেছিল দলটি। মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট সমান হলেও আবাহনীর ওপরে শেখ জামালের অবস্থান। রানরেট বিবেচনায় এগিয়ে আবাহনী। আকাশি-নীলদের ১.২৬১ রানরেটের বিপরীতে শেখ জামালের রানরেট ০.৮০৭।
রানরেট প্রমাণ করছে ব্যাট হাতে পুরো টুর্নামেন্টে কতটা দাপুটে ছিল আবাহনী। বিশেষ করে দলের দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও এনামুল হক বিজয়। তাদের কারণে আবাহনীর মিডল অর্ডারকে বড় কোনো পরীক্ষার মধ্যে পড়তে হয়নি। তবুও নিজেদের প্রস্তুত রেখেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মাহমুদুল হাসান জয়রা। যখনই সুযোগ পেয়েছেন ব্যাট হাতে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। ব্যাটিংয়ে উজ্জ্বলতার পুরোটুকু দেখা যায়নি আবাহনীর বোলিংয়ে। দলটির হয়ে বোলিংয়ে দায়িত্ব ছিল তানভীর ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিবদের মতো তরুণদের কাঁধে। বড় বাধার সামনে না পড়ায় নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতে পারেনি আবাহনীর বোলিং ইউনিট। সেই অনভিজ্ঞতা নিয়ে ‘অলিখিত’ ফাইনালে শেখ জামালের বিপক্ষে মাঠে নামবেন তানভীর-সাকিবরা।
দুই ওপেনারের কল্যাণে আবাহনীর বাকি ক্রিকেটারদের পাড়ি দিতে হয়নি এভারেস্টসম উচ্চতার কোনো বাধা। পুরো মৌসুমে একরকম ‘রিল্যাক্সে’ কাটিয়ে দেওয়া আবাহনীর কঠিন পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত শেখ জামাল। রবিন লিগ রাউন্ডে শেখ জামালের কাছে হারের পর নিশ্চয় বাড়তি সতর্ক আবাহনী।
আবাহনীর মতো শেখ জামাল একক নৈপুণ্যে শিরোপার দৌড়ে নেই। তাদের সাফল্যের মূল উপকরণ দলীয় সামঞ্জস্যতা। ব্যাট হাতে ফজলে মাহমুদ রাব্বি, সাইফ হাসান, সৈকত আলী ও নুরুল হাসান সোহানরা নিয়মিত রান করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে নিয়মিত রানের দেখা পাওয়া ব্যাটারদের কল্যাণে আধিপত্য ধরে রেখেছে শেখ জামাল। পুরো মৌসুম না খেললেও যখনই সুযোগ পেয়েছেন শেখ জামালের জার্সি গায়ে জড়ান তাওহিদ হৃদয়। তিনিও ব্যাট হাতে করেছেন তিনশর বেশি রান। ব্যাটিং লাইনআপের শেষদিকে থাকা পারভেজ রসুল, তাইবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমানরাও দেখিয়েছেন কীভাবে ব্যাট করতে হয়। নিয়মিত ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়ায় আবাহনীর মতো অনভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামবে না শেখ জামালের ব্যাটিং লাইনআপ।
বোলিংয়েও শেখ জামালের দাপট অব্যাহত। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পারভেজ রসুল ইতোমধ্যেই পকেটে ভরেছেন ৩১ উইকেট। ‘অখ্যাত’ আরিফ আহমেদের শিকার ২০ উইকেট। আর শফিকুল ইসলাম এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ১৬ উইকেট। বোলিং লাইনআপে শেখ জামালের বড় ভরসা ভারতীয় অলরাউন্ডার পারভেজ রসুল। তাকে ছাড়া জামালের বোলিং লাইনআপে নেই বড় কোনো রান। তবুও বোলিংয়ে নিয়মিতই ভালো করছে দলটি। লিগ রাউন্ডে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীকে পেলেও সুপার লিগে তিনি নেই। জাতীয় দলের সঙ্গে উড়াল দিয়েছেন ইংল্যান্ডে।
আবাহনী দুই ওপেনারে ভর করে এসেছে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে। শেখ জামালের জন্য অনুপ্রেরণা দলীয় ছন্দ। একজনের ব্যর্থতায় অন্যজনের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন শেখ জামালের ক্রিকেটাররা। দলীয় ওই ছন্দে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলার সুযোগ শেখ জামালের সামনে। অন্যদিকে দুই ওপেনারের ছন্দে এগিয়ে থাকা আবাহনীর সামনে অপেক্ষা এক মৌসুম পর শিরোপা ফেরত পাওয়ার। উদ্দেশ্য দুই দলের দুই রকম হলেও শিরোপাটা দুই দলেরই চাওয়া। শেষ পর্যন্ত কে হাসবে জয়ের হাসি, সেই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় দেশের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা।
ডিপিএলের সেরা ৬ দল
দল ম্যাচ জয় পরাজয় পয়েন্ট
শেখ জামাল ১৫ ১৩ ২ ২৬
আবাহনী ১৫ ১৩ ২ ২৬
লিজেন্ডস রূপগঞ্জ ১৫ ৯ ৬ ১৮
প্রাইম ব্যাংক ১৫ ৯ ৬ ১৮
মোহামেডান ১৫ ৭ ৭ ১৫
গাজী গ্রুপ ১৫ ৭ ৭ ১৫