প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৩ ২০:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৩ ২০:৪০ পিএম
পুরুষ দলে সাফল্য নেই। নেতিবাচক কারণে আলোচনা-সমালোচনার মুখে কর্তারাও। শেষ কয়েক দিন তো বটেই, শেষ কয়েক বছরেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে ইতিবাচক যা কিছু হয়েছে- সেটা নারী ফুটবল দলের হাত ধরেই। গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই কোচ শেলাস হাইন্ডম্যান, ভ্লাস্তিমির দাভিদোভিচরা এলেন অ্যাম্বাসাডর্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে, তাদের সঙ্গেও দেখা করিয়ে দেওয়া হলো সেই নারী ফুটবলারদেরই। সাবিনা খাতুনরা শুধু সাক্ষাৎই করলেন না, দুই কোচকে মুগ্ধও করলেন নিজেদের ফুটবল দিয়ে।
আরও পড়ুন - পুরুষ দলকেও এশিয়াডে পাঠানোর চেষ্টা বাফুফের
গতকাল সকালে বাফুফে আর্টিফিসিয়াল টার্ফে ছোট এক অনুশীলন সেশন নিয়েছেন শেলাস আর ভ্লাস্তিমির। এক ঘণ্টার কাছাকাছি চলল সেশন, এই এক সেশনে আর কীইবা শেখানো যায়? গেলও না। সেশন শেষে ফুটবলার মাতসুশিমা সুমাইয়া জানালেন, অনেক ড্রিলই ছিল প্রায় একই রকম। অনুশীলনও ছিল তুলনামূলক সহজই।
তবে অনুশীলনের বড় লক্ষ্যটা ছিল ফুটবলারদের নিয়ে ধারণা নেওয়া। নাতিদীর্ঘ অনুশীলন সেশনে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে অতিথি কোচদের সে ধারণাটা বেশ ভালো দিয়েছেন নারী ফুটবলাররা। শেলাস আর ভ্লাস্তিমির দুজনই অকুণ্ঠ প্রশংসা করলেন নারীদের।
ফুটবল মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানটা এখনও অতটা ভালো নয়। নারী ফুটবলেও তা-ই, শেষ কয়েক বছরে টানা সাফল্য এনে দেওয়ার পরও। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র নারী ফুটবল ইতিহাসেরই সবচেয়ে সফল দল। বাংলাদেশ সম্পর্কে অতিথি কোচদের ধারণা না থাকাটাই বেশি স্বাভাবিক। ঢাকায় যখন পা রাখছেন, নারী ফুটবল দল নিয়েও ধারণাটা খুব বেশি ভালো ছিল না তাদের।
তবে এক অনুশীলন সেশন শেষে সে ধারণাটা আমূল বদলে গেছে দুই কোচের। শেলাস হাইন্ডম্যান আর তার সহকারী ভ্লাস্তিমির দেভিদোভিচ দুজনের কণ্ঠেই ঝরে পড়ল একই সুর। শেলাস বললেন, ‘এখানকার ফুটবলাররা এত ভালো মানের হবে, এটা আমি ভাবিনি। মেয়েদের অ্যাটিটিউড, টেকনিক্যাল সক্ষমতা, ফোর ভি ফোর সেশনে আমি দেখেছি তাদের ট্যাকটিকাল জ্ঞানটাও ভালো। এই কোচের (গোলাম রাব্বানী ছোটন) অধীনে তারা খেলেছে, তারা উন্নতি করতে থাকবে আশা করি, গর্বের সঙ্গে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশা করি আমি।’
ভ্লাস্তিমিরও জানালেন, নারীরা এমন খেলবেন কল্পনাও করেননি তিনি। বললেন, ‘তারা যেভাবে বল পাস দিয়েছে আশপাশে, তাতেই তাদের ভাবনাটা বুঝতে পারা গেছে। তারা পাস নেওয়ার আগে ধারণাটা নিজেদের মনে গেঁথে নেয়। বিষয়টা বেশ ভালো; আমি নিজে এমন পরিবেশে ১৫ বছর বয়সি নারী খেলোয়াড়দের এমন পারফরম্যান্স দেখার কল্পনাও করিনি।’
এখানকার মেয়েদের সক্ষমতা আছে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলারও। তবে সেক্ষেত্রে পেরোতে হবে একটা বাধা। ভাষাগত বাধা। শেলাসের কথা, ‘এই মেয়েদের নিজেদের ফুটবল সক্ষমতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ ভালো। তবে সেজন্য তাদের ইংরেজি ভাষার বোঝাপড়াটা বাড়াতে হবে। কারণ তাদের শেখানো হবে ইংরেজি ভাষায়। আমার মনে হয়, এদের মধ্যে কিছু খেলোয়াড় এখানে ক্যারিয়ার গড়ে পরে যেতে পারে।’