× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যাটিং পজিশন বদলে রানে আফিফ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৩ ১৩:৫৬ পিএম

আপডেট : ০৬ মে ২০২৩ ১৪:০৩ পিএম

ব্যাটিং পজিশন বদলে রানে আফিফ

জাতীয় দলের জার্সিতে আফিফ হোসেনের ব্যাটে ছিল না রান। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আফিফকে বাদ দিতে তাই একটুও সময়ক্ষেপণ করেননি। অথচ বিপিএলে নিয়মিত রান করেছিলেন। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ডিপিএলে ফিরেও রানের দেখা পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন : ‘মেসিকে শাস্তি দিয়ে ঠিক করেছে পিএসজি’

ডিপিএলে ৫৫.৭৫ গড়ে রান করা আফিফ হোসেনকে নিয়ে কোচ হাথুরুসিংহে সাফ জানান, বিশ্বকাপের ভাবনায় আছেন। জাতীয় দলে ডিপিএলের ওই রানের ধারা ধরে রাখতে পারবেন কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ, আফিফ যে নিজের পছন্দমতো পজিশনে ব্যাটিংয়ের সুযোগই পান না। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত চার নম্বরে ব্যাটিং করলেও জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কোনো পজিশনে ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয় না। বেশিরভাগ সময়ই নামেন ছয় কিংবা সাত নম্বরে।

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনীর জার্সিতে নিয়মিত চার নম্বরে ব্যাটিং করেছেন আফিফ। ডিপিএলের ১০ ইনিংসে তার ব্যাটে এসেছে ৫৫.৭৫ গড়ে ৪৪৬ রান। তিন হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে আছে একটি সেঞ্চুরিও। ডিপিএল তো বটেই, নিজের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির ছিল এটি। সেটাও এসেছে চার নম্বরে ব্যাটিং করে।

ডিপিএলের আগে সর্বশেষ বিপিএলেও আফিফ ছন্দময় ব্যাটিংয়ে নজর কাড়েন। ছিলেন নিজ দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সেরা পারফর্মার। বেশিরভাগ ইনিংসেই তিন ও চারে ব্যাটিং করেন। ১১ ইনিংসে ৩৮.২২ গড়ে বিপিএলে তার সংগ্রহ ছিল ৩৪৪ রান। স্ট্রাইক রেট টি-টোয়েন্টি সুলভ ১২৮.৩৫। বিপিএলের ওই ছন্দের পর টি-টোয়েন্টি একাদশে নিজেকে স্থায়ী হতে পারতেন। কিন্তু রান করতে না পারার ব্যর্থতায় দল থেকে বাদ পড়েন। ঠিক কী কারণে আফিফ জাতীয় দলে নিয়মিত রান করতে পারছেন না? সেই উত্তরে হয়তো ব্যাটিং পজিশনের বিষয়টি আসতে পারে। তবে সেটা যে পুরোপুরি ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলছে তা হয়তো নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে পরিসংখ্যান তার ব্যাটিং পজিশন নড়বড়ে হওয়ায় রান করতে না পারার পক্ষেই কথা বলে।

জাতীয় দলে চার নম্বর পজিশনে বেশিরভাগ সময়ই ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানরা। তাদের জায়গা করে দিতে বারবারই ব্যাটিং অর্ডারে আফিফকে নিচে নামতে হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ই ব্যাটিং করেছেন ছয় কিংবা সাত নম্বরে। 

বাংলাদেশের জার্সিতে ২৫ ওয়ানডে খেলা আফিফ সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাটিং করেছেন সাত নম্বরে। এই পজিশনে ৩৫ গড়ে তার রান ৩৭২। ওয়ানডের ক্যারিয়ার-সেরা ৯৩ রানের ইনিংসও এসেছে এই পজিশনে নেমে। ছয় নম্বরে তার রান ১৩৯ গড়ে ১৩৯ রান। এই পজিশনে তিনবার ব্যাটিং করে কোনোবারই আউট হননি এই ব্যাটার। ছয় ও সাতে বেশি সময় ব্যাটিং করা আফিফ চারে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একবার। ওই ইনিংসে মাত্র ৭ রান আসে তার ব্যাটে।

টি-টোয়েন্টিতেও একই অবস্থা আফিফের। নিজের প্রিয় চার নম্বর পজিশনে ১১ ম্যাচে ৩৩.৬৬ গড়ে তার রান ৩০৩। টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ার-সেরা ৭৭ রান করেছেন চারে নেমেই। জাতীয় দলে নিয়মিত পজিশন পাঁচ ও ছয়ে আফিফ রান করেছেন যথাক্রমে ২০.৬৮ গড়ে ৩৩১ ও ১৯.৬৬ গড়ে ২৯৫ রান। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামলে আফিফ হয়ে ওঠেন নিজের ছায়া। তার প্রমাণ অবশ্য পরিসংখ্যান। সাত নম্বরে ৮ ইনিংসে ৫.৫৭ গড়ে তার রান মাত্র ৩৯। আফিফের ব্যাটিং অর্ডার যত পিছিয়েছে রানের মতো স্ট্রাইকরেটও খারাপ হয়েছে। 

আফিফের ব্যাটিং অর্ডারের হেরফের হওয়ার বিষয়টি খুব একটা সুনজরে দেখেন না সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম। তার মতে, আফিফের মতো ব্যাটারকে সর্বোচ্চ ছয় নম্বরে খেলানো যায়। এর চেয়ে বেশি পেছনে খেলাতে চান না। এতে ক্রিকেটারদের ব্যাটিং নষ্ট হয়ে যায় বলেও মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, হয়তো যারা ব্যাটার একাদশে তাদের জায়গা হয় না। কোচ বা অধিনায়কের উচিত বিবেচনায় রাখা কোন ব্যাটার কোন পজিশনে ভালো খেলে ও কোথায় ব্যাটিং করছে। যেহেতু আফিফ ব্যাটার তাকে সর্বোচ্চ নম্বর পজিশনে খেলানো উচিত।’

আফিফকে ওপরে জায়গা করে দিতে হলে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নেমে যেতে হবে সাকিব আল হাসান কিংবা মুশফিকুর রহিমের মতো ব্যাটারদের। তারা ব্যাটিং অর্ডারে নিচে ব্যাটিং করার সামর্থ্য রাখেন বলেও মনে করেন জাভেদ ওমর। ব্যাটিং অর্ডারে সাকিবকে নিচে নামানো সম্ভব জানিয়ে বলেন, ‘সাকিব অলরাউন্ডার। সে ৬-৭ নম্বরে ব্যাটিং করতে পারে। সেখানেও সে ভালো করতে পারবে। মুশফিকের ক্ষেত্রেও একই। সে উইকেটরক্ষক, ছয়-সাতে ব্যাটিং করতে পারে।’

আফিফকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে রাখতে না পারলে দলে রাখার প্রয়োজনীয়তাও দেখেন না জাভেদ ওমর। তাকে একাদশে খেলানোর জন্য নিচের দিকে ব্যাটিং না করানোর পরামর্শ তার। একাদশের সঠিক জায়গায় খেলাতে না পারলে দলে নেওয়ার কোনো কারণও দেখেন না। এই নিয়ে জাভেদ ওমর বেলিমের পরামর্শ, ‘পারফর্ম করার পরও দলে কেউ না-ও আসতে পারে। নির্বাচকরা কাকে নেবে সেটা তাদের ব্যাপার। তবে নিচের দিকে খেলানোর জন্য একাদশে রাখার কোনো মানে নেই।’ শুধু আফিফ নয়, অন্য ক্রিকেটারদের জন্যও একই ধারণা পোষণ করেন জাভেদ।

আফিফকে ব্যাটিং অর্ডারে নিচের দিকে নামিয়ে ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব দেওয়াটাও পছন্দ নয় জাভেদ ওমর বেলিমের। তার মতে, আফিফের মতো ব্যাটাররা কখনোই ফিনিশিং করার জন্য নয়। বরং টপ ও মিডল অর্ডারকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখে। জাভেদ ওমর বেলিম বলেন, ‘সৌম্যর মতো ব্যাটারকেও এই রকমভাবে ফিনিশিংয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটা কার্যকর হয়নি। ও তো আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটার। ওপরের দিকে খেলা ব্যাটার। এখানে আমাদের দরকার ১৪০-৫০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটার। ওদের মতো কাউকে এখানে খেলানো উচিত নয়।’

বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, আফিফ ছয় কিংবা সাতেও খেলতে পারে। একটি ইংরেজি দৈনিককে সুমন বলেন, ‘এটা ভুল ধারণা, আফিফ ছয়-সাতে ব্যাটিং করতে পারে না। এটা ঠিক, আফিফের মতো ব্যাটারদের জন্য এই পজিশন নয়। এটা অলরাউন্ডারদের জন্য। কিন্তু তার মধ্যে পাওয়ার হিটার হওয়ার সামর্থ্য আছে।’ আফিফ ওপরের দিকে ব্যাটিং করতে চান, সেটা স্বীকার করে সুমন বলেন, ‘ব্যাটাররা সব সময় ওপরে ব্যাট করতে চায়। এর মানে এই নয় যে সে ছয়-সাতে ব্যাটিং করতে চায় না।’

ডিপিএলের দারুণ ছন্দে আফিফ আবার জাতীয় দলে ডাক পান কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। ডাক পেলেও নিজের প্রিয় পজিশনে ব্যাট করতে পারবেন কি না সেটার জন্যও অপেক্ষায় থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত কী আছে আফিফের কপালে, তার জন্য অপেক্ষা জাতীয় দলে ডাক পাওয়া পর্যন্ত।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা